২৬ বছর
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
See more >>-
অনাথ হল তিন ভাই, নেই বাপ, নেই মা। চাল-চুলোও নেই। গাঁয়ে গঞ্জে ঘোরে, খোঁজে কেউ মুনিষ খাটতে নেবে কিনা। যেতে যেতে ভাবে, ‘আহ্, মায়াদয়া আছে এমন কোনো মনিব যদি মুনিষ নেয়, বেশ হয়।’ দেখে, যাচ্ছে এক বুড়ো, একেবারে থুত্থুড়ে, কোমর পর্যন্ত শাদা দাড়ি।
ভাইদের সঙ্গ ধরে বুড়ো শুধোয়: ‘কোথায় চলেছ বাছারা?’
ওরা বলে: ‘কোথাও মুনিষ খাটতে।’
‘তোমাদের নিজেদের কি জোতজমি নেই?’
বলে, ‘নেই। দরদি কোনো মনিব পেলে ধম্মমতে তার জন্যে খাটতাম, কথা শুনতাম, আপন বাপের মতো মান্যি করতাম তাকে।’
ভেবেচিন্তে বুড়ো তখন বললে: ‘তা বেশ, তোমরা হবে আমার ছেলে, আমি হব তোমাদের বাপের মতো। তোমাদের মানুষ করে তুলব, ধৰ্ম্মমতে, বিবেক
-
একবার বুখারার চোর ধরতে গিয়ে ধরা হল একজন নিরপরাধী লোককে।
‘ফাঁসি দাও এই চোরটাকে।’ বলল বাদশাহ।
‘হায়! এখন আর কেউ সে কাজ করতে পারবে না, যা আমি পারি!’ বলে উঠল লোকটা।
‘কিসের কথা বলছিস তুই। কি করতে পারিস তুই?’ জিজ্ঞাসা করা হল তাকে।
‘আমি সোনার চাষ করতে পারি।’ বলল লোকটা।
ফাঁসি স্থগিত রেখে ছুটল সবাই বাদশাহর কাছে।
‘হুজুর, যে লোকটাকে ফাঁসি দেওয়ার আদেশ হয়েছে, সে সোনার চাষ করতে জানে।’ বাদশাহ লোকটাকে নিয়ে আসতে আদেশ দিল।
‘যদি তুই সোনার চাষ করতে জানিস তো সোনাচাষ কর আমার জন্য, তার বদলে তোর জীবন ফিরিয়ে দেব আমি।’ বলল বাদশাহ।
রাজি হল লোকটি। জমিতে লাঙল
-
লেখক: এস এম আজিজুল হক শাজাহান
২৪ পরগণা জেলার আড়বেলিয়া গ্রামের বসন্তকুমারী দেবী ও দীনবন্ধু ভট্টাচার্যের দ্বিতীয় সন্তান নরেন ভট্টাচার্য, পরবর্তীকালে যিনি মানবেন্দ্রনাথ রায় নামে পরিচিত, তাঁর সমস্ত জীবনটাই ছিল একটি ঘূর্ণিঝড়। ঝড়ের পাখী (আলব্যাট্রস্য)’র মতই ছিল তাঁর জীবনকাল। মানব মুক্তির জন্য প্রায় গোটা পৃথিবী মন্থন করে পৃথিবীর জ্ঞান ভান্ডারকে অজস্র মনিমুক্তায় সমৃদ্ধ করে পরিশেষে অকস্মাৎ দেরাদুনের ছোট্ট একটি নীড়ে সেই পাখীর পাখার ঝাপটা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, শুদ্ধ হয়ে যায় তাঁর প্রাণ প্রদীপ। সে আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর পূর্বের কথা—১৯৫৫ সালের ২৫শে জানুয়ারী। তিনি যখন মারা যান তখন তিনি ভারতের রাজনীতিতে ছিলেন প্রায় সম্পূর্ণ পরিত্যাক্ত—স্তব্ধ বিসুভিয়াসের মত। আজ
-
লেখক: মেসবাহ কামাল ও ঈশানী চক্রবর্তী
জনগণের আন্দোলন যেমনভাবে তার নেতৃত্বকে তৈরি করে, তেমনিভাবে নেতৃত্বের ভূমিকা নির্ধারণ করে আন্দোলনের সাফল্য বা ব্যর্থতার সোপান। আবার অন্যদিকে সমসাময়িক ইতিহাসের কাঠামো যেমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ব্যক্তির ভূমিকাকে, তেমনিভাবে ব্যক্তিবিশেষের ভূমিকাও বিকশিত করতে পারে জনগণের আন্দোলনকে, দ্রুততর করতে পারে পরিবর্তনের গতিবেগ। নাচোলের সাঁওতাল ও বাঙালি কৃষকদের মিলিত সংগ্রাম তৈরি করেছে তার নেতৃত্বকে যার পুরোভাগে ছিলেন রমেন্দ্রনাথ মিত্র, ইলা মিত্র, মাতলা মাঝি, শেখ আজাহার হোসেন, অনিমেষ লাহিড়ী, বৃন্দাবন সাহা প্রমুখ। তেমনি এই নেতৃত্বের এবং তাদের ঊর্ধ্বতন পার্টি নেতৃত্বের ভূমিকা নির্ধারণ করেছে এই বিদ্রোহের ফলাফল। এদের মধ্যে অনেকানেক কারণ মিলিয়ে বিশেষত ইলা মিত্রের ভূমিকা হয়ে উঠেছিল অনেকটা
-
লেখক: হেনা দাস
গত শতকের ত্রিশের দশকে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে তীব্রতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কমিউনিস্ট আন্দোলনের বিকাশের ধারায় গোটা উপমহাদেশে বিশেষভাবে অবিভক্ত বাংলায় শ্রমিক কৃষক ও অন্যান্য মেহনতি শ্রেণীর সংগঠিত আন্দোলন গড়ে উঠতে থাকে। এ সময় কমিউনিস্টদের উদ্যোগেই সারা বাংলার জেলায় জেলায় প্রতিষ্ঠিত হয় কৃষকদের নিজস্ব গণসংগঠন। যদিও বহু আগে থেকেই জমিদারদের মাত্রাহীন জুলুম, অত্যাচার ও সঠিকভাবে সামন্ততান্ত্রিক নিষ্ঠুর নিপীড়ন ও শোষণের বিরুদ্ধে কৃষকদের স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহ ও লড়াই সংগ্রামের অনেক ঘটনা ঘটে এসেছে, তবুও ত্রিশের দশকের শেষভাগেই কৃষক সমিতির নেতৃত্বে জমিদারিপ্রথাসহ সকল সামন্ততান্ত্রিক শৃঙ্খলের বিরুদ্ধে কৃষকদের ব্যাপক সংগঠিত আন্দোলন শুরু হয়।
চল্লিশের দশকে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের তাণ্ডব, বাংলার ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, ইংরেজ শাসনের
-
লেখক: তাপসী বন্দ্যোপাধ্যায়
যাগটা উদারিকরণের। নিবাস এক অগাধ ভুবনগ্রামে। ভাবনার ডানা যত্রতত্র বিহারী। স্থানিক-দূরত্বকে বেঁধে ফেলি হাতের মুঠোয়, আবার সময় পলায়নপর সেই বন্ধনী খুলে। জীবনের এই আকাশপাতাল অমিল অথবা মিল্লিশ্ নিয়ত ধরা দিচ্ছে সৃষ্টির বিচিত্র পথে। আর সাহিত্যের ক্ষেত্রটি এপথে সর্বাধিক প্রশস্ত ও ফলস্ত। এই উত্তর-আধুনিক কালে সাহিত্যের মূল্যায়নে নানা 'বাঁধি বোল' আর 'বাঁধা ওজন'-এর বাড়-বাড়ন্ত। ঔপনিবেশিক্ষতার বাঁধনমুক্ত এইসব সাহিত্যের মূল্যায়নকর্তারা আসলে নানা তত্ত্বকথার আধারে প্রত্যাশা করেছেন অবাধ স্বাধীনতা। নির্মাণ থেকে বিনির্মাণ কিংবা পুনর্নির্মাণ এসবই এখন সাহিত্যের উপভোক্তার কুক্ষিগত। এমনকি সাহিত্যের আস্বাদনে স্রষ্টার ওপর নির্ভরতারও দায়মুক্ত আজ পাঠক। একালের পাঠক প্রবল দাপটে সৃষ্টিকর্তার অধিকারকে অস্বীকার করে পুনঃপাঠ প্রক্রিয়ায় নিমগ্ন হয়।
-
যাত্রা সম্ভবতঃ অনেক আগেই শুরু হয়েছিল, যদিও তার সঠিক কোন দিনপঞ্জী নেই। উনিশশো সাইত্রিশ সালে ঢাকার বৃষ্টিস্নাত এক নিদাঘ অপরাহ্নে বিশ্বখ্যাত আইলিংটন কোরিম্বিয়ানস ফুটবল দলকে হারিয়ে এ দেশের খেলাধুলার প্রথম স্বীকৃতি ঘটে। তখন বৃটিশ আমল। সারা দেশে জেলা ক্রীড়া সংস্থা আর সংস্থার মাঠ সবে গড়ে উঠতে শুরু করেছে। বৃটিশ জাতের যত দোষই থাকুক না কেন তাদের একটা গুণ অনেক দোষকে ঢেকে দেবে সন্দেহ নেই। এ গুণটা হচ্ছে খেলাধুলার প্রতি তাদের ভালবাসার, আকর্ষণ ও ঐকান্তিকতা। তারা জাতীয় জীবনে রাষ্ট্রীয় জীবনে মানবিক জীবনে এই খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্বের কথা বুঝেছিল। যার জন্য আমাদের নিজেদের প্রচেষ্টার চেয়ে তাদের খেলাধুলার প্রতি এই দৃষ্টিভঙ্গি ক্রীড়া
-
গল্পকার: ফজলুল হক
হঠাৎ একটা গুলির শব্দ শুনলাম—আর সঙ্গে সঙ্গেই একটা আর্ত চীৎকারের শব্দ কানে এল। চোখে দেখলাম এক ঝলক রক্ত—যা আমার জানালার পর্দাকে রঙিন করে তুলল! চোখ মুদে বুঝলাম, জানালার কাছে দাঁড়ানো রাস্তার পাগলটাকে ওরা গুলি করেছে। এখন বুঝি পাগল মারা শুরু হ’ল!
মনে হ’ল জেগে জেগেই স্বপ্ন দেখছি। এই বীভৎস স্বপ্ন থেকে মুক্তি পাবার জন্য ঘুমোবার চেষ্টা করলাম, কিন্তু ঘুম আসে কই? পাড়ার কোণের বাড়ি থেকে ওরা সন্ধ্যা রাতে দু’টি মেয়েকে জোর করে ধরে নিয়ে গেছে। একটু আগে শুনেছি। ভেবেছি ওদের হত্যা করল না কেন? হত্যা করলে তো ওদের পরিবারে আর এই অশান্তির ঘূর্ণিঝড় বইত না। কারণ পরশু
-
লেখক: রিয়ার-অ্যাডমিরাল সের্গিয়েই পাভিচ্ জুয়েল্কো
কবিতায় আসে বাংলাদেশের গান
রংয়ের বাহার শিশিরের কণা যত
ভাবি না কখনো জাগিবে কবিতাখান
যেন বন্দর খোলে নাবিকের কথামতো।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার দিনটিতে, ২৬শে মার্চ ১৯৭১, এই দেশের সঙ্গে আমার ভবিষ্যৎ যোগাযোগের ভাবনা না ভেবেই দীর্ঘ পথযাত্রার প্রস্তুতি আমি নিচ্ছিলাম। ঝড়ে ডুবে যাওয়া জাহাজ উদ্ধারের দায়িত্বে নিয়োজিত উত্তরাঞ্চলীয় নৌবহরে ২৭শে মার্চ সকালে আমার যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যাত্রাপথেও এবং শ্বেত সাগরে কঠিন দায়িত্ব পালনের সময়েও আরো অনেক সোভিয়েত মানুষের মতোই আমি চিন্তাক্লিষ্ট মনযোগ নিয়ে সুদূর দক্ষিণপূর্ব ভারতীয় উপমহাদেশের ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করছিলাম। সংবাদপত্রে সেখানকার হৃদয়বিদারক কাহিনী আমরা তখন যথেষ্ট সহানুভূতির সঙ্গে অনুসরণ করেছি। দিনা নদীর
-
লেখক: রিয়ার-অ্যাডমিরাল সের্গিয়েই পাভিচ্ জুয়েল্কো
জাহাজ উত্তোলনের জন্য বরাদ্দ ছ'টি বিশেষ স্থানে পরিকল্পনা মাফিক সব কাজ এগিয়ে যাচ্ছিল এবং সেগুলো সময়মতো সম্পন্ন করার আত্মবিশ্বাসও আমাদের ছিল। ডুবুরীরা স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে এবং দিনে যতটা সময় কাজ করা সম্ভব তার পুরোটাই সদ্ব্যবহার করেছে। দিন-রাত একের পর এক ডুবুরী পানিতে সমানে ওঠা-নামা করেছে। এখানে আবারো বলতে হয়, ছোট-বড়ো কোনো কাজেই বন্দরের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায় নি যদিও তাতে আমাদের কাজের গতি ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছিল। তবে আমরাও বন্দর সচল রাখার ব্যাপারে সতর্ক ছিলাম, যে-কারণে বন্দরে জাহাজ আসা-যাওয়ার সময়সূচি পরীক্ষা করে যে সময়ে সবচেয়ে কমসংখ্যক জাহাজ আসে সে সময়টুকুতেই কাজ করতাম।
মে মাসের
-
Author: Susan Brownmiller
Indira Gandhi's Indian Army had successfully routed the West Pakistanis and had abruptly concluded the war in Bangladesh when small stories hinting at the mass rape of Bengali women began to appear in American newspapers. The first account I read, from the Los Angeles Times syndicated service, appeared in the New York Post a few days before Christmas, 1971. It reported that the Bangladesh government of Sheik Mujibur Rahman, in recognition of the particular suffering of Bengali women at the hands of Pakistani soldiers, had proclaimed all raped women "heroines" of the war for independence. Farther on
-
Author: Anwar Ouassini and Nabil Ouassini
Introduction
On 26 March 1971, the independence of Bangladesh was declared by Shiekh Mujib Rahman (1920–1975), the eventual first president of the new nation state after he had called for campaigns of civil disobedience and armed resistance against President Yahya Khan’s junta in West Pakistan. For the next six months, the Bangladeshi War of Liberation was fought between the Pakistani military junta (West Pakistan) that was unwavering in its possession of “East Pakistan” and Bengali nationalists determined to gain independence in the face of political, economic, cultural, and linguistic suppression. The protracted conflict resulted
-
লেখক: মোহাম্মদ সেলিম: অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
ভারত
আঞ্চলিক পরিপ্রেক্ষিতের দিকে তাকালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ভূমিকাকে সহযোগিতামূলক বলার উপায় নেই। বার্মা ও শ্রলঙ্কা ছিল পাকিস্তানের মিত্র। নেপালের প্রতিক্রিয়াও ইতিবাচক ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিম-উত্তর পূর্ব দিকে সীমান্তসংলঘ্ন ভারতের পক্ষে কোনো প্রকার ধোয়াটে অবস্থান নেওয়া সম্ভব ছিল না। বলা যায় ভূ-রাজনৈতিক এবং ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষ ও সুনির্দিষ্ট।
প্রবাসী সরকার গঠনে সহায়তা
৩ এপ্রিল ১৯৭১ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাজউদ্দীনের আলোচনার আগেই ইন্দিরা গান্ধী লোকসভায় বক্তৃতায় বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামকে সমর্থন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে ভারত সরকারের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের
-
লেখক: মুহম্মদ সবুর
টমাস জন বাটা জানতেন যুদ্ধংদেহী পাকিস্তানি বাহিনীর দখলে থাকা পূর্ব পাকিস্তানে তাদের প্রতিষ্ঠানটি জড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে। পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর পক্ষে কঠিন অবস্থান নিয়েছে ঢাকায় প্রতিষ্ঠানটি এবং এর প্রধান কর্মকর্তা। সে এক বিশাল ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান। পাকিস্তান সরকার বা সেনাবাহিনী ঘুণাক্ষরে টের পেলে অবস্থা হবে ভয়াবহ। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবন রক্ষাই হয়ে পড়বে কঠিন, প্রতিষ্ঠানও হবে বেহাত। কিন্তু পিছু হটে যাওয়ার কোনো জো নেই। নীতিগত কারণে এই অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসা সম্ভবও ছিল না আর। বিজয় অর্জন পর্যন্ত অত্যন্ত গোপনে কাজ চালাতে হয়েছে। তবে সদাসতর্ক থাকার জন্য ঢাকা অফিসকে নির্দেশ দিয়েছিলেন সেই '৭১ সালে। বিশ্ব মানচিত্রের
-
লেখক: ড. আশফাক হোসেন, অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মুক্তিযুদ্ধকালে স্নায়ুযুদ্ধে বিশ্ব ছিল বিভাজিত। এই বিভাজনের দুই পাশে পুঁজিবাদী যুক্তরাষ্ট্র ও সমাজতন্ত্রী সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল দুই বিপরীত আকাঙ্ক্ষাও শক্তির প্রতিভূ। আর স্বতন্ত্র অভিলাষ নিয়ে কিছুটা পাশে ছিল চীন। মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এই তিন যুযুধান শক্তির টানাপোড়েনে ১৯৭১ সালে জাতিসংঘ উত্তাল হয়ে পড়ে। তৎকালীন বিশ্বপটে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলির ওপর তার প্রভাব ছিল অত্যন্ত তীব্র।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাঙালিদের একটি জনযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার জন্য এক পরিপূর্ণ সংগ্রাম। দ্রুতগতিতে বিষয়টি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সংকট থেকে আন্তর্জাতিক ইস্যুতে রূপান্তরিত হয়। বস্তুত, ১৯৭১ সালে জাতিসংঘের বিভিন্ন বিশেষায়িত সংস্থার কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রেও ছিল বাংলাদেশ এবং ডিসেম্বরে নিরাপত্তা
-
রিপোর্টার: সাইমন ড্রিং
[ওয়াশিংটন পোস্ট-এ প্রকাশিত লন্ডনের দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর সাংবাদিক সাইমন ড্রিংয়ের এই লেখাটি ছিল একাত্তরের গণহত্যা সম্পর্কে বহির্বিশ্বে প্রচারিত প্রথম কোনো প্রতিবেদন]
পূর্ব পাকিস্তনের জনপ্রিয় নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সব বড় নেতাকেই গারদে ঢোকানো হয়েছে।
প্রথম সারির রাজনৈতিক কর্মীদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর শেখ মুজিবের আন্দোলনের সমর্থক দুটো পত্রিকার কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার রাস্তার যে ট্যাংক নেমে আসে, সেগুলোর প্রধান লক্ষ্য ছিল ছাত্ররা। অবস্থাদৃষ্টে তা-ই মনে হচ্ছে।
তিন ব্যাটালিয়ন সেনা ঢাকা আক্রমণে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে একটি ছিল আর্মড, একটি আর্টিলারি ও আরেকটি পদাতিক। তারা রাত ১০টার পরপরই গ্যারিসন
-
লেখক: শহিদুল ইসলামএক. অবরুদ্ধ বাংলাদেশের প্রথম সূর্য ওঠার খরবটা পাই দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে। এমনকি ২৫ মার্চ ১৯৭১, মধ্যরাতে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী সে বাংলাদেশকে দখল করার জন্য শানিত আক্রমণ চালিয়ে প্রথম রাতেই হাজার হাজার মানুষকে লাশে পরিণত করেছে, সে খবরও আমি পাই দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে। প্রকৃতির অবধারিত নিয়মানুসারে সেই কণ্ঠটি চিরকালের জন্য নীরব হয়ে গেলো। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বসে আমার ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ সূর্য ওঠার আগের ঘটনাটি সেলুলয়েডে বন্দী ছবির মতো আমার চোখে ভেসে উঠলো। সেদিনের ইতিহাস নিয়ে আমি অনেক লিখেছি। সেখানে দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ আছে। কিন্তু তার বেশি না। তাই দেবদুলালহীন পৃথিবীতে আজ তাঁর কথা আরো
-
লেখক: মার্ক টালি
বাংলাদেশের জন্মের সঙ্গে আমি যেমন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ছিলাম, তেমনি এ দেশের সঙ্গে আমার একটা আত্মার সম্পর্কও রয়েছে। আমার মা এই দেশে জন্মেছিল। তাঁর জন্মস্থান আখাউড়া। আমার নানা ব্যবসায়িক কারণে আখাউড়াতে ছিলেন। আমার জন্ম কলকাতায়। ১০ বছর পর্যন্ত ভারতে ছিলাম। আবার ৩০ বছর বয়সে চাকরি নিয়ে এসেছি। জীবনের অনেকটা সময় এ অঞ্চলেই কেটেছে। বলা চলে, এ অঞ্চলটি আমার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় নিরস্ত্র ঘুমন্ত মানুষের ওপর পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর হামলার পর আমি এখানে আসার অনুমতি পাই। সে সময় আমার সঙ্গে ঢাকায় আসেন আরও কয়েকজন বিদেশি সাংবাদিক। এই দলটিই প্রথম ঢাকায় আসে। অবশ্য পাকিস্তানি
-
বক্তা: এডওয়ার্ড কেনেডি
[মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি (২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩২-২৫ আগস্ট ২০০৯) বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভমিকা রাখেন। সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তিনি এ বক্তৃতা দেন।]
আমি বাংলাদেশে এসেছি আপনাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের লাখো মানুষের শুভকামনা পৌছে দিতে। বাঙালির সংগ্রামী চেতনার প্রতীক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দাঁড়িয়ে আমি গর্বিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস বলে, আমরা সব সময় স্বাধীনতার পক্ষে। যারা স্বাধীনতা, মানুষের মর্যাদার ও অন্যান্য মানবিক মূল্যবোধ অটুট রাখতে কাজ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ তাঁদের সঙ্গে আছে। কোনো কোনো সরকার আপনাদের এখনো স্বীকৃতি না দিলেও পৃথিবীর মানুষ শোষণ আর নিপীড়ন থেকে আপনাদের মুক্তি অর্জনকে স্বীকৃতি
-
লেখক: ফাদার রিগন
'১৯৭১-এর ১ মার্চ আমি ছিলাম ঢাকায়। ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করলেন। পূর্ব বাংলায় সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ঘৃণা আর প্রতিবাদের উত্তাল তরঙ্গ। এই তরঙ্গের আছাড়েই আমি আমার কর্মক্ষেত্র বানিয়ারচরে ফিরে এলাম। এরপর আরও অস্থিরতা! অপেক্ষা একটি স্বাধীনতা যুদ্ধ!'
এভাবে ধীরে ধীরে ব্যাপক পরিসরে ফাদার মারিনো রিগনের ডায়েরিতে উঠে এসেছে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম থেকে শুরু করে স্বাধীনতা যুদ্ধের চিত্র। তাঁর দিনলিপির পাতায় পাতায় ১৯৭১ সালে তিনি ইতালীয় ভাষায় লিখে রাখেন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালির ওপর পাকসেনাদের আর তাদের এই দেশীয় দোসর রাজাকারদের অত্যাচারের কথা।
ক্যাথলিক এই ধর্মযাজকের বয়স হয়েছে ৮২ বছর। জীবনের বড় অংশটি তিনি কাটিয়েছেন বাংলাদেশের বুকে।
-
লেখক: এনামুল হক
একটা সময় ছিল যখন কিংবদন্তির ব্যান্ড দল বিটলস-এর জনপ্রিয়তা পশ্চিমা দুনিয়ায় আকাশকে স্পর্শ করেছিল। সেটা ছিল ষাটের দশক। হিপ্পি আন্দোলনের জোয়ার বইছিল পশ্চিমে। সেই জোয়ারে মিশে গিয়ে তরুণ সমাজের এক বিরাট অংশ সমাজের প্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধ, রাজনীতি, আদর্শ, দর্শন সবকিছুকেই অস্বীকার করে বসে। তারা তাদের পোশাকআশাক, চালচলন, জীবনযাপনের দ্বারা সমাজের প্রতি বিজাতীয় ঘৃণার প্রকাশ ঘটায়। তারা লম্বা চুল রাখতে থাকে, উদ্ভট ধরনের পোশাক পরে, মারিজুয়ানা, কোকেন প্রভৃতি ড্রাগে আসক্ত হয় এবং সেই সঙ্গে লিপ্ত হয় অবাধ যৌনাচারে। ব্যান্ড দল বিটলস যেন এদের দর্শনকে তুলে ধরার জন্য জন্ম নিয়েছিল। এই ব্যান্ড দল প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে ষাটের দশকের
-
লেখক: অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন
কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানেই এক অপার বিস্ময়, বহুমুখী প্রতিভার সমন্বয়। শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি শাখায়ই তাঁর ছিল দাপুটে বিচরণ। দর্শন, অর্থনীতি, কৃষি, সমাজ, পল্লীজীবন ইত্যাদি নিয়ে তাঁর ছিল মৌলিক ভাবনা। পরিবেশ সচেতনতা তথা পরিবেশ-ভাবনা সাম্প্রতিক কালের বিষয় বলে বিবেচিত হলেও, অনেক আগেই রবীন্দ্রনাথ পরিবেশ নিয়ে ভেবেছেন। পরিবেশকেন্দ্রিক নানা উদ্যোগের সঙ্গে তিনি নিজেকে যুক্ত করেছিলেন। পরিবেশ-ভাবনা ছিল তাঁর স্বদেশ ভাবনার বড় অংশ জুড়ে। পরিবেশ-ভাবনায় তিনি ছিলেন তাঁর যুগের চেয়ে বিস্ময়করভাবে অনেক অগ্রসর।
রবীন্দ্রনাথের পরিবেশ-ভাবনা নগরকে কেন্দ্র করে অগ্রসর হয়নি, অগ্রসর হয়েছে গ্রামবাংলাকে কেন্দ্র করে। ‘বধূ’ কবিতায় তিনি নগরকে তুলে ধরেছেন এভাবে—“ইটের পরে ইট, মাঝে মানুষ কীট,/ নাইকো ভালবাসা, নাইকো
-
লেখক: ডা. মো. তোফায়েল হোসেনআয়রন ঘাটতি জনিত রক্তাল্পতা এ সমস্যার প্রতিপাদ্যে দেখা যাচ্ছে দেহে আয়রনের ঘাটতি আছে এবং এ কারণে রক্তাল্পতা ধরা পড়েছে। চায়ে চিনি কম পড়লে আমরা চিনি দেই, তরকারীতে নুন কম পড়লে আমরা লবণ দেই, মোটর সাইকেল বা গাড়িতে পেট্রোল-অকটেনের অভাব পড়লে আমরা পেট্রোল-অকটেন ভরাই, মবিলের দরকার হলে মবিল দেই, ফুটা দিয়ে তেল পড়লে আমরা ফুটা ঠিক করাই, গাড়ির চাকার হাওয়া লিক করলে ছিদ্র সনাক্ত করে ঠিক করাই।আয়রন কোথায় থাকে? আয়রন হিমোগ্লোবিনের হিম অণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে। এ ছাড়া আয়রন মায়োগ্লোবিনের অংশ। বিভিন্ন কোষকলায় এনজাইম হিসাবে কাজ করে। জমা থাকে ফেরিটিন ও হিমোসাইডেরিন আকারে অস্থিমজ্জায়, লিভার
ক্যাটাগরি
ট্যাগ
- জীবনী
- লেখক
- সোভিয়েত ইউনিয়ন
- অপরাধ
- গোয়েন্দা
- চীন
- জাতীয়তাবাদ
- শিল্পকলা
- বাংলা
- অনুবাদ
- ছোটগল্প
- বিজ্ঞান
- বিজ্ঞানী
- কিশোর
- লোককাহানি
- মুক্তিযুদ্ধ
- মার্কসবাদ
- লোককাহিনী
- স্মৃতিকথা
- রূপকথা
- গদ্য
- বই
- আন্দোলন
- ঢাকা
- বিশ্ববিদ্যালয়
- কলকাতা
- ভারত
- পুঁজিবাদ
- সমাজতন্ত্র
- সাম্যবাদ
- যুক্তরাষ্ট্র
- নারী
- ইউরোপ
- ফ্যাসিবাদ
- যুদ্ধ
- পাকিস্তান
- জ্যোতির্বিদ্যা
- মহাকাশ
- আলোচনা
- গবেষণা
- আইন
- সংবিধান
- লালন
- পশ্চিমবঙ্গ
- সরকার
- গণহত্যা
- চিঠি
- ইসলাম
- নৃত্য
- উদ্ভাবন
- ওষুধ
- সমাজ
- ভাষা
- পাখি
- প্রাণিবিদ্যা
- কবিতা
- ভাষণ
- রবীন্দ্রনাথ
- দাঙ্গা
- ভৌতিক
- মনোবিজ্ঞান
- মানসিক স্বাস্থ্য
- গণতন্ত্র
- সংঘর্ষ
- শিশুতোষ
- ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন
- সমালোচনা
- ক্রিকেট
- ফুটবল
- ইংরেজি
- যুক্তরাজ্য
- সংবাদ
- কৃষি
- খাদ্য
- বিপ্লব
- খুলনা
- নির্বাচন
- রোজনামচা
- চলচ্চিত্র
- গণিতশাস্ত্র
- পৌরাণিক
- সাংবাদিকতা
- সঙ্গীত
- হিন্দু
- উদ্ভিদ
- দর্শন
- ঘুমপাড়ানি গল্প
- বইমেলা
উৎস
- পরিচয়
- শান্তি স্বাধীনতা সমাজতন্ত্র
- জানলা : তৃতীয় বিশ্বের সাহিত্য
- বিজ্ঞানচেতনা
- তাজিক লোককাহিনী
- ইউক্রেনের লোককথা
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র, পঞ্চদশ খণ্ড
- মূল্যায়ন
- প্রক্রিয়াধীন
- মনে রেখো আমাদের, হে বাংলাদেশ
- কাজাখ লোককাহিনী
- ইসলামের ঐতিহাসিক অবদান
- প্রবাসী
- বিজ্ঞান পাঠ
- সমকালীন
- গল্পগুচ্ছ
- ঢাকা প্রকাশ
- সাহিত্যচিন্তা
- উক্রাইনীয় উপকথা
- আজেরবাইজানের গল্প-সংগ্রহ
- বাংলাদেশ ’৭৩
- বাংলাদেশ কথা কয়
- আশ্বাস
আর্কাইভ
- ২০২৬ (১২)
- ২০২৫ (১২)
- ২০২৪ (৩১)
- ২০২২ (১)
- ২০১৯ (৪)
- ২০১৬ (১)
- ২০১৫ (১৪)
- ২০১১ (১)
- ২০০৮ (১)
- ২০০৫ (১)
- ২০০৩ (২)
- ২০০০ (১)
- ১৯৯৯ (৩)
- ১৯৯৮ (৫)
- ১৯৯৭ (১)
- ১৯৯৫ (১১)
- ১৯৯২ (১)
- ১৯৯০ (১৮)
- ১৯৮৯ (১০)
- ১৯৮৮ (২৯)
- ১৯৮৭ (১)
- ১৯৮৫ (৩)
- ১৯৮৪ (৪)
- ১৯৮০ (১)
- ১৯৭৮ (৪)
- ১৯৭৫ (৩)
- ১৯৭৩ (১)
- ১৯৭২ (৩)
- ১৯৭১ (১৯)
- ১৯৬৯ (১)
- ১৯৬৮ (২)
- ১৯৬৫ (২)
- ১৯৬২ (১)
- ১৯৬০ (৬)
- ১৯৫৭ (৪)
- ১৯৪৬ (১)
- ১৯০৪ (১)
- ১৯০৩ (১)
- ১৯০১ (১)
- ১৮৯২ (১)
- ১৮৯১ (১)
- ১৮৯০ (১)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.






