- প্রক্রিয়াধীন
- ১৯৯০
- ১৯৭
সোনার চাষ
একবার বুখারার চোর ধরতে গিয়ে ধরা হল একজন নিরপরাধী লোককে।
‘ফাঁসি দাও এই চোরটাকে।’ বলল বাদশাহ।
‘হায়! এখন আর কেউ সে কাজ করতে পারবে না, যা আমি পারি!’ বলে উঠল লোকটা।
‘কিসের কথা বলছিস তুই। কি করতে পারিস তুই?’ জিজ্ঞাসা করা হল তাকে।
‘আমি সোনার চাষ করতে পারি।’ বলল লোকটা।
ফাঁসি স্থগিত রেখে ছুটল সবাই বাদশাহর কাছে।
‘হুজুর, যে লোকটাকে ফাঁসি দেওয়ার আদেশ হয়েছে, সে সোনার চাষ করতে জানে।’ বাদশাহ লোকটাকে নিয়ে আসতে আদেশ দিল।
‘যদি তুই সোনার চাষ করতে জানিস তো সোনাচাষ কর আমার জন্য, তার বদলে তোর জীবন ফিরিয়ে দেব আমি।’ বলল বাদশাহ।
রাজি হল লোকটি। জমিতে লাঙল দিয়ে তৈরী করে সোনা চাইল সে জমিতে পোঁতার জন্য।
বাদশাহর ভাণ্ডার থেকে পাঁচমণ সোনা আনা হল পোঁতার জন্য। বাদশাহ নিজে তার উজীরদের নিয়ে দেখতে লাগল কেমন করে সোনা পোঁতা হয়।
‘বীজ পাঁতার জন্য তৈরী হয়েছে জমি।’ বলল লোকটি। ‘এবার ঠিক করতে হয় কে পুঁতবে সোনার বীজ।সোনা পুঁততে পারে একমাত্র সৎলোক, যে জীবনে কখনও কারুর থেকে কোন কিছু চুরি করে নি।আমি কখনও চুরি করি নি, কিন্তু চুরির দোষ চাপান হয়েছে আমার ঘাড়ে তাই আমি সোনা পুঁততে পারব না।’
‘আমার প্রধান উজীর পুঁতুক!’ বলল বাদশাহ।
‘না, না, মালিক, আমি একেবারেই উপযুক্ত নয় এ কাজের জন্য!’ ব্যস্ত হয়ে প্রতিবাদ জানাল উজির।
‘তাহলে আপনি পুঁতুন, প্রধান কাজী।’ বলল বাদশাহ।
‘আমি...আমিও, উপযুক্ত নেই।’ তুতলিয়ে বলল কাজী।
বাদশাহ চোখ ফেরাল নিজের হাকিমের দিকে।
হাকিমের মুখচোখ লাল হয়ে উঠল, মাথা নাড়িয়ে বলল, ‘মাফ করবেন, হুজুর, আমিও এর উপযুক্ত নই...’
‘আপনি এদিকে আসুন মোল্লাসাহেব!’ মোল্লাকে ডাকল বাদশাহ।
‘না না, মালিক আমিও পাপী...’
নিজের পারিষদদের সবাইকে জিজ্ঞাস করল বাদশাহ। কেউই সোনা পুঁততে চাইল না।
‘তাহলে, শাহান্শাহ, আপনাকে নিজেকেই পুঁততে হবে সোনা।’ বলল পণ্ডিত চাইল না।
‘ভাবছি, আমি সব নষ্ট করে ফেলব না তো।’ ইতস্তত করে বললেন বাদশাহ্।
চিৎকার করে উঠল লোকটি। ‘আপনার দরবারে একজন সৎ লোকও নেই? আমি তো সারাজীবনে কানাকড়িও চুরি করি নি আর আপনি আমাকে চোরের মত ফাঁসি দিতে আদেশ দিয়েছেন!’
তাজিক লোককাহিনী, অনুবাদ: পূর্ণিমা মিত্র, আঁকিয়ে: ইল্যুস মুর্সালিমভ, রাদুগা প্রকাশন, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ১৯৯০
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments