বেড়াতে গিয়েও সেই দূরে দূরেই
‘ওহ, বহুকাল অপেক্ষার পর আমরা তিন দিনের ছুটিতে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দিলাম। তবু কেন যেন মনে হচ্ছে আমাদের মধ্যে কোনো আনন্দ নেই। দূরত্ব যেন দিন দিন বেড়েই চলছে। আমরা দুজনই চাকরিজীবী। আমি প্রাইভেট ব্যাংকে আর ও সাংবাদিক। আমাদের সারা দিনে কথা বলার সময় কয়েক ঘণ্টা, তা-ও খাবার সময়ই। অফিস থেকে ফিরতে আমাদের আটটা কি নয়টা বেজে যায়। কখনও ওর রাতেও ডিউটি থাকে, তখন সে সময়টিও নেই। আমার চাপাচাপিতেই এই বেড়ানো। আমি ছুটি পেলেও ওর ছুটি পাওয়া কঠিন ছিল। এখন বেড়াতে গিয়েও একটু পরপর অফিস থেকে আমার ফোন অথবা ওর ফোন আসছে। ইচ্ছা করছে ফোনটা ছুঁড়ে ফেলে দিই। সাথে ল্যাপটপও আছে ষোলোকলা পূর্ণ করার জন্য। গাড়িতে ওঠার একটু পর থেকেই ও বই পড়া শুরু করেছে। আমি অন্যদিকে তাকিয়ে প্রকৃতি দেখছি। মনে হচ্ছে গাছ, আকাশ তো তেমনই আছে, তবে আমার মনের কারণে তাদের সৌন্দর্য কিছু চোখে পড়ছে না। ও সাধারণত অফিস থেকে ফিরে দুই-তিন ঘণ্টা পিসি, মোবাইল ও টিভির খবর নিয়ে থাকে, কথা বলব কখন। তখন আমি হয়তো ঘরে বসে শুনি—‘একা পাখি বসে আছে শহুরে দেয়ালে, শিস দিয়ে গান গায় ধূসর দেয়ালে...’ এমন গান। জীবনে কিছু সুর ফিরিয়ে আনতেই বেড়ানো। বেড়ানো ওর অত পছন্দ নয়। আমি বেড়াতে আর ছবি তুলতে খুব ভালোবাসি। তাই বেড়াতে এসেও আমার সঙ্গী হয়ে ক্যামেরাটাই আছে। আর ওর সঙ্গী হয়ে আছে খবর, বই। আজকে কি আমরা দুজন মিলে একসাথে হাসির বই পড়তে পড়তে, ছবি তুলতে তুলতে যেতে পারতাম না। ওর এই গম্ভীর মুখ দেখে মনে হচ্ছিল বেড়াতে না এলেই ভালো হতো। শেষে মনে হলো আমার জীবন আমার। যখন বেড়াতে এসেছিই, জীবনকে উপভোগ করি। যে যার মতো। যতই চেষ্টা করি যদি মন সঙ্গ না দেয়, তবে কি আর আনন্দ করা সম্ভব! তাই মাধবকুণ্ড গিয়েও দেখলাম ও আশপাশ থেকে খবর নিচ্ছে, তার প্রতিবেদনের কাজ করছে। আমিও সব অগ্রাহ্য করে আর মুগ্ধ হয়ে ছবি তুলে গেলাম। দুজন রয়ে গেলাম দুজনার মতোই। যে স্বপ্ন নিয়ে বেড়াতে বেরিয়েছিলাম, তা স্বপ্নই রয়ে গেল।’
দুজনের মধ্যে একজনের প্রতি অন্যজনকে দেওয়ার সময় না থাকলে সেই সম্পর্কের মধ্যে প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা প্রকৃতির নেই। দুজনের জীবনের সেই সুর কখনও ফিরে আসবে না, যদি না তাদের মধ্যে সেই আন্তরিকতা থাকে।
মিতা আক্তারের নিত্যদিনের এ চিত্র এখন বহু ঘরেরই চিত্র। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের বাঁধন দিন দিন যেন হালকা হয়ে আসছে। তাই অনেক সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত আর টিকছে না। কখনও কখনও অফিস আর কাজই যখন জীবনের সব হয়ে যায়, তখন একে অপরের প্রতি সেই অনুভূতি আর থাকে না। দুজনের জীবনের সেই সুর কখনও ফিরে আসবে না, যদি না তাদের মধ্যে সেই আন্তরিকতা থাকে। দুজনের মধ্যে একজনের প্রতি অন্যজনকে দেওয়ার সময় না থাকলে সেই সম্পর্কের মধ্যে প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা প্রকৃতির নেই। এ প্রসঙ্গে কলেজের অধ্যাপক সুমন আহমেদের কাছে জানতে চাইলাম তার মতামত।
‘চাকরির মাঝেও গরমের ছুটিতে, শীতের ছুটিতে আমরা কিছু বন্ধু মিলে প্রায়ই ঘুরতে বেরিয়ে পড়তাম। এই যান্ত্রিক জগতে একটু স্বস্তির নিশ্বাস নিতেই আমরা চলে যেতাম। তখন সবাই অবিবাহিত। বিয়ের পর থেকে শুধু দুজন মিলে বেড়ানোর ইচ্ছা বহু গুণে বেড়ে গেল। আমার মনে হতো দূরত্ব কমাতে, কাছাকাছি আনতে বেড়ানো সাহায্য করবে। আমার স্ত্রীও কলেজের শিক্ষক, তাই আমাদের ছুটিও একই সময়ে থাকত। ও বেড়াতেও পছন্দ করে কিন্তু অদ্ভুতভাবে এই বেড়ানো নিয়েই আমাদের মনোমালিন্য যেন বেড়েই চলছে। ওর জীবন হচ্ছে নিয়মমাফিক। ঠিক এক
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
৳৯৯
এক মাস
৳৩০
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
সামিহা সুলতানা অনন্যা
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
সেকালে মেয়েরা বাহুতে যেসব অলঙ্কার পরিধান করিত তাহার পরিচয় সাহিত্যে পাওয়া যায়। বাহুর সকল প্রকার ভূষণকে বলে অঙ্গদ। অঙ্গদ হয় নানাপ্রকার—(১) তাড়, (২) কেয়ুর, (৩) বাজু বা ৰাজুবন্দ, (৪) মাদুলি।
বাহুর উপরিভাগে দুই ইঞ্চি পরিমিত একজোড়া সরল সোনার পাতযুক্ত গহনাকে বলে তাড় বা তাগা। এখন ইহার বদলে অনন্ত, বাঁক প্রভৃতি অন্যবিধ গহনা পরিয়া থাকে। কবি নারায়ণদেব এই গহনাটির খুব ভাল বর্ণনা করিয়াছেন। বেহুলার সাজসজ্জা নামক অংশে দেখি বেহুলা বাহুতে পরিয়াছে—
“সুবর্ণের চাইর-তাড়”
যদি আমরা জনকরাজের অন্তঃপুরে উঁকি মারি তাহা হইলে দেখি আসন্ন বিবাহের আনন্দে উদ্ভাসিত সীতাকে ঘেরিয়া সখীদের বিপুল কলোচ্ছ্বাস, তাহারা সীতাকে সাজাইতে ব্যস্ত—
উপর হস্তেতে দিল তাড়ক ৷
—কৃত্তিবাসী
-
আজ থেকে প্রায় ৭০ বছর আগের কথা। এদেশ সবেমাত্র ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে। এদেশের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন এখনকার চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে। এমন সমাজে যৌনতা ভীষণ নিষিদ্ধ একটি বিষয়। সে সময়ে আমাদের দেশে এ বিষয়ে কথাবার্তা বা আলাপ-আলোচনা অত্যন্ত গর্হিত একটি ব্যাপার বলে পরিগণিত হত। শুধু এদেশেই নয় ইয়োরোপ-আমেরিকাতেও ১৯৬০-এর দশকে ‘যৌন বিপ্লব’-এর ধাক্কায় গোটা সমাজে যৌনতা সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাপকভাবে পাল্টে যাবার আগে যৌন বিষয়ে কিংবা নরনারীর যৌন সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা আলোচনাকে সহজভাবে নেয়া হত না। ভাবতে খুব অবাক লাগে, ওরকম একটি সময়ে বয়সে অত্যন্ত তরুণ একজন মানুষ এই বিষয়ে লিখতে দৃঢ় হাতে কলম ধরেছেন। শুধু যৌনতা নয়,
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
[কুইজে অংশ নিয়ে জিতে নিন এক মাসের ফ্রি সাবক্রিপশন]
-
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত বয়সে ছোটগল্পকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন?
-
ক. ১০ বছরখ. ১২ বছরগ. ১৪ বছরঘ. ১৬ বছরLogin
Please login first to Answer.
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments