-
প্রতিবছর ৮ মার্চ নানা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। জাতিসংঘ এ দিবসটি উদ্যাপন শুরু করে ১৯৭৫ সাল থেকে। এখন উদ্যাপিত হয় সব দেশেই। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীর অবস্থান, অগ্রযাত্রার পথে মূল বাধা, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় মূল সংকট ও তার সমাধান জানতে আলোচনা হচ্ছিল মানবাধিকার আন্দোলনের কয়েকজন নেতার সঙ্গে।
আয়শা খানম
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, বাংলাদেশে গত চুয়াল্লিশ বছরে নারীর অর্জন অনেক। আইলা-সিডর মোকাবিলা, সেনাবাহিনী-পুলিশ, পাহাড়-হিমালয় জয়, প্যারাসুট জাম্পিং, রাষ্ট্র পরিচালনা- কোনো ক্ষেত্রেই পিছিয়ে নেই নারী। গত দুই দশকে এই অগ্রগতির গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ যাত্রা যেন ধারাবাহিক থাকে সে লক্ষ্যে নারীদের নিরাপত্তা দেওয়া,
-
অফিস শেষে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ির সেবা-শুশ্রূষা করে সন্তানের সব চাহিদা পূরণ করে, তাদের ভালো রাখতে গিয়ে কখনও কি আমরা ভেবে দেখেছি যে নিজে কেমন আছি? নিজের জীবনে ভালো থাকার জন্য সেখানে কি কোনো সময় আছে? অফিস থেকে ক্লান্ত মনে ফিরে বাড়ির কোনো কিছুতেই যেন আর মন লাগে না। কারণ জানা নেই, তবু যেন এক অজানা ব্যথা। ক্লান্ত মন ও দেহ নিয়ে দাওয়াতে গেলেও যেন সেই মন ভালো হয় না। খুব কাছের আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা হলেও মুখে লেগে থাকে কৃত্রিম হাসি, যার মধ্যে কোনো সত্যতা নেই, নেই প্রাণের ছোঁয়া। এ ঘটনাগুলো প্রতিটি নারীর জীবনে খুবই চেনা।
একজন নারীর মন যদি ভালো
-
‘সকালে ঘুম থেকে উঠে আমাদের দুজনকে ছুটতে হয় কলেজের পথে। দুজনের গন্তব্য থাকে একই, আমরা একই কলেজে শিক্ষকতা করছি। আমার বিচরণক্ষেত্র গাছপালা নিয়ে, আমি বোটানির শিক্ষক। ওর জগৎ আলো, মহাকাশ এসব নিয়ে। আমার স্বামী পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক।’ এভাবেই নিজেদের জগতের কথা বলছিলেন সিরাজুুম মুনিরা। তিনি ঢাকা ইম্পেরিয়াল কলেজে সাত বছরের বেশি সময় ধরে চাকরি করছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বোটানিতে তিনি অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। শিক্ষাজীবন শেষে ঢাকা ইম্পেরিয়াল কলেজেই চাকরিজীবন শুরু। এখানেই সহকর্মী হিসেবে মোহাম্মদ এনামুল হকের সঙ্গে পরিচয়। চাকরিতে যোগদানের ৯ মাসের মাথায় পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন তাদের চারজনের পরিবার। তিনি বলেন, ‘আমাদের পেশা একই হওয়ায় সুবিধা
-
অতি সাধারণ ঘরের মেয়ে আনিলা (ছদ্মনাম)। তার স্বপ্ন ছিল অনার্স সম্পূর্ণ করে ও ভালো কোম্পানিতে চাকরি করবে, স্বাবলম্বী হবে। বাবা-মায়ের চাপে অনার্স অসম্পূর্ণ রেখেই তাকে বিয়ে করতে হলো। পড়াশোনা সম্পূর্ণ হলো না। স্বামী চায় না বাড়ির বউ চাকরি করুক, তাই স্বাবলম্বী হওয়ার ইচ্ছাও চিরদিনের জন্য বলি দিতে হলো। সব স্বপ্ন হারিয়ে তরুণীটি মানসিকভাবে জর্জরিত ও বিপর্যস্ত। বেঁচে থাকার ইচ্ছাও ত্যাগ করেছে। প্রতিনিয়ত সামাজিক ও মানসিক চাপে আনিলার মতো বহু নারী মানসিক রোগের শিকার ও অসুস্থ।
যত দিন সমাজে নারী ও পুরুষের সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে না, সামাজিক ও মানসিকভাবে নারীর ওপর এ অত্যাচার বন্ধ হবে না, তত দিন নারীরা মানসিক অসুস্থতা
-
হঠাৎ চিৎকার দিয়ে সুমির ঘুম ভেঙে যায়। স্বপ্নে সুমি দেখেছে এক মরুভূমিতে সে হারিয়ে গেছে। হাঁটছে আর হাঁটছে, কিন্তু ফেরার কোনো পথই খুঁজে পাচ্ছে না। তার স্বামী অস্ট্রেলিয়ায় থাকে। পরদিন সে আবার অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যাবে। সুমির বিয়ে হয়েছে দুই মাস। অচেনা ঘরে ঘুম থেকে উঠেই তার মন খারাপ হয়ে যায়। তার মনে হচ্ছে এ কোন ভুবনে সে এসে পড়েছে! বিয়ের পর বাবার বাসায় গিয়েছে, তবে খুব কম। ওদের বিয়ে পারিবারিকভাবেই ঠিক করা। শ্বশুরবাড়ির অচেনা অনভ্যস্ত পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে সময় লাগে। এই নতুন জায়গায় তাকে স্বামীবিহীন একাই দিন কাটাতে হবে, যত দিন না ভিসা হয়। অনার্স, মাস্টার্স পরীক্ষাকেও এমন কঠিন
-
লাখো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এ স্বাধীনতা। আমাদের প্রিয় স্বাধীনতার জন্য অনেক মা হারিয়েছেন তার সন্তান, নারী হারিয়েছেন তার সম্ভ্রম। ১৯৭১ সালে রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি নরপিশাচেরা তখন পৈশাচিক কার্যকলাপে নিয়োজিত, বহু নারীর জীবন ধ্বংসের খেলায় ছিল মাতোয়ারা। তেমনই ভয়াল কালো থাবার শিকার বীরাঙ্গনা নারী কাননবালা। তখন গোপালগঞ্জের ভাজন্দি গ্রামের এক হিন্দু পরিবারের কিশোরী কাননবালা। তারা ছয় ভাই ও দুই বোন। ১৯৭১ সালের আষাঢ় মাসের এক বৃষ্টিভেজা অন্ধকার রাতে রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি সেনারা ঘিরে ফেলে কাননবালাদের বাড়ি। ঠাকুরমাকে লাথি মেরে ফেলে দিয়ে তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় তাকে। তার বাবা-মা-ভাইদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। কাননবালার চোখ বেঁধে তাকে নিয়ে
-
স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পরও, বহু মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় রয়ে গেছে পর্দার আড়ালে। যাদের বহু ত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন দেশে বসবাসের সুযোগ অর্জন করেছি, নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের অনেকের পরিচয় রয়ে গেছে অজানা। একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্ন দেখা শুরু করে এদেশের সকল নারী ও পুরুষ। পরে সে স্বপ্নকে পূর্ণ করতে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণকারী নারীর সংখ্যা ব্যাপক। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকাকে অনেক সময় কম মূল্যায়ন করা হয়। সে সময় বহু নারী অস্ত্র হাতে সরাসরি যুদ্ধ করেছেন। অনেক নারী মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে রান্নার কাজে, চিকিৎসক বা নার্স হিসেবে সেবার কাজে নিয়োজিত
-
বাংলাদেশে মাতৃভাষার জন্য আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ১৯৪৮ সাল থেকে। সেদিনটি ছিল ২৫ ফেব্রুয়ারি। পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে পরিষদের ভাষা বাংলা করার দাবি উত্থাপন করা হলে পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান জানান যে পাকিস্তান মুসলিম রাষ্ট্র এবং মুসলমানের ভাষা উর্দু। তাই উর্দুই হবে রাষ্ট্রভাষা। এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে ২৭ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা সম্মিলিতভাবে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাদের সেই মিছিলের প্রথম সারিতে ছিলেন নাদেরা বেগম। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত ছাত্রনেত্রী। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ের ছাত্রী। তাঁর বড় দুই ভাই কবীর চৌধুরী ও মুনীর চৌধুরী সে সময় প্রগতিশীল রাজনীতিতে সক্রিয়। পারিবারিকভাবে এবং পাশাপাশি নিজস্ব বিবেকবোধ থেকে সে সময় তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
-
আপনি যদি কখনো শাহবাগের মোড়ে গিয়ে থাকেন, সেখানে দেখা পাবেন ঝরনা, কাজল, রিনা, মনোয়ারাদের। ওরা ফুল বিক্রি করে। মালা গাঁথে বিক্রি করার জন্য। আমরা তাদের বলব 'ফুলকন্যা'। ওরা ফুলের মতো সুন্দর, কিন্তু জীবনটা ফুলের মতো সুন্দর করে সাজাতে পারে না।
নানা রংবেরঙের ফুল দিয়ে সাজানোর মধ্য দিয়েই আমরা আমাদের চির আনন্দের এবং বিশেষ অনুষ্ঠানের দিনগুলো উদ্যাপন করি। বিয়েবাড়ি, হলুদ, বউভাত সব অনুষ্ঠানই তার পূর্ণতা পায় হরেক রঙেয়ের ফুল দিয়ে সাজানোর মধ্য দিয়ে। আমাদের আনন্দের মুহূর্তগুলোর চিরসঙ্গী এই ফুল। আর এই ফুল বেচেই অনেক নারীর জীবন চলছে। শাহবাগে পাইকারি ফুলবিক্রেতা নারীদের সাথে কথা হচ্ছিল তাদের জীবন নিয়ে। সূর্য ওঠার আগে থেকেই
-
একাত্তরের নভেম্বর। ঘুটঘুটে অন্ধকার। আমরা ক’জন মুক্তিযোদ্ধা গ্রামের পথে চলেছি অপারেশনে। হঠাৎ চারপাশ থেকে পাকিস্তানি বাহিনীর একটি দল গর্জে উঠল, 'হ্যান্ডস আপ, কৌন হ্যায়?' আমাদের দলনেতা এ ধরনের অবস্থার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত। বললেন, 'আপনা আদমি!' 'পাসওয়ার্ড?' 'এসএস ২'। এই গোপন পাসওয়ার্ড আমরা অপারেশনে যাওয়ার আগেই সংগ্রহ করে রেখেছিলাম। ওরা হেসে আমাদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। ঠিক সেই সুযোগে আমাদের স্টেনগানগুলো গর্জে উঠল। ব্রাশফায়ারে এক নিমেষে ১১ পাকিস্তানি সেনা খতম!—তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি। মুক্তিযুদ্ধের এই রোমাঞ্চকাহিনি শুনে শিহরিত হয়ে উঠেছিলাম আমি। আমার মুক্তিযোদ্ধা বাবা বলছিলেন। আজ আবার বিজয় দিবস সমাগত। মুক্তিযুদ্ধের সেই কাহিনিটা আজ তাই আবার মনে পড়ছে বলছিল বন্যা।
-
লিরার খুব মন খারাপ। ছাদে একা দাঁড়িয়ে আছে। আজকে ওর ক্লাসে পরীক্ষার খাতা দিয়েছে, ও খুব কম মার্কস পেয়েছে। সর্বোচ্চ উঠেছে বিশে আঠারো, আর গতবার ক্লাসে প্রথম হয়েও ও পেয়েছে বারো। এবার ক্লাস ফোরেও ও যদি প্রথম না হয় তাহলে মা আর বাবা মিলে যে কী করবে, সে কথা ভাবলেও ওর ভয় লাগছে। লিরা কোথাও খেলতে যেতে পারে না, শুধু পড়া আর পড়া। ওর মা-বাবার একটাই কথা, পরীক্ষায় প্রথম হতেই হবে, যতই কোচিং করতে হোক। বড় হয়ে ওকে ডাক্তার হতে হবে। মাঝে মাঝে তাই ওর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। পথশিশুদের মতো ঘুরে বেড়াতে ইচ্ছে করে। ওদের কী মজা,
-
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে প্রবেশের পর মাঠভর্তি ছাত্রীদের কণ্ঠস্বর ভেসে এল কানে। কলেজের বান্ধবীরা আড্ডায় বাঁধনহারা আনন্দে মশগুল। মাঠের এক প্রান্তে চোখ চলে গেল। তিন-চারজন ছাত্রী হাত ধরাধরি করে হাঁটছে। তাদের জীবন কলেজের অন্য সব ছাত্রীর জীবন থেকে আলাদা, তারা দৃষ্টিশক্তি থেকে বঞ্চিত। সাধারণভাব তাদের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বলে অভিহিত করা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাদের রয়েছে অন্তর্দৃষ্টি। বদরুন্নেসা কলেজের দশজন ছাত্রী দৃষ্টিশক্তিবঞ্চিত। জগতের আলো তাদের জগৎকে আলোকিত করতে না পারলেও, জ্ঞানের আলোয় আমাদের চিরচেনা জগৎ তাদের কাছে পেয়েছে এক রূপ।
যারা চোখে দেখতে পায় না তাদের অর্জনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এবং তাদের আত্মনির্ভরশীলতার হাতিয়ার হিসেবে সাদা ছড়ির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিবছর
ক্যাটাগরি
উৎস
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.