শাহবাগের ফুলকন্যারা
আপনি যদি কখনো শাহবাগের মোড়ে গিয়ে থাকেন, সেখানে দেখা পাবেন ঝরনা, কাজল, রিনা, মনোয়ারাদের। ওরা ফুল বিক্রি করে। মালা গাঁথে বিক্রি করার জন্য। আমরা তাদের বলব 'ফুলকন্যা'। ওরা ফুলের মতো সুন্দর, কিন্তু জীবনটা ফুলের মতো সুন্দর করে সাজাতে পারে না।
নানা রংবেরঙের ফুল দিয়ে সাজানোর মধ্য দিয়েই আমরা আমাদের চির আনন্দের এবং বিশেষ অনুষ্ঠানের দিনগুলো উদ্যাপন করি। বিয়েবাড়ি, হলুদ, বউভাত সব অনুষ্ঠানই তার পূর্ণতা পায় হরেক রঙেয়ের ফুল দিয়ে সাজানোর মধ্য দিয়ে। আমাদের আনন্দের মুহূর্তগুলোর চিরসঙ্গী এই ফুল। আর এই ফুল বেচেই অনেক নারীর জীবন চলছে। শাহবাগে পাইকারি ফুলবিক্রেতা নারীদের সাথে কথা হচ্ছিল তাদের জীবন নিয়ে। সূর্য ওঠার আগে থেকেই শুরু হয় তাদের কাজ। ভোরবেলা নানা বাজার থেকে ফুলের সরবরাহ এলে শুরু হয় ফুল বেচাকেনা। এই পাইকারি কেনাবেচায় ৩০ থেকে ৪০ জন নারী জড়িত।
ঝরনার সাথে কথা হচ্ছিল ফুল বেচাকেনা নিয়ে। ঝরনা বলেন, তিনি বেশির ভাগ সময় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার ফুল কেনেন। এর মধ্যে গাঁদা, রজনীগন্ধা, গোলাপই কেনা হয়। পরে তারা তিন-চারজন মিলে মালা বানিয়ে দোকানে বা বাসায় সাজানোর জন্য বিক্রি করে। হলুদ ও বউভাতের মঞ্চসজ্জা এবং বিয়েবাড়িতে নানা ধরনের মালা বানিয়ে সরবরাহ করেন। দুই-তিনজন মিলে একসাথে অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের মালার সেটও তৈরি করেন।
মনোয়ারার দুই ছেলে। স্বামী রাজমিস্ত্রি। মনোয়ারার কাছে বেচা-বিক্রি সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, এখন বেচাকেনা ভালো যাচ্ছে না। সপ্তাহে সাধারণত বৃহস্পতি ও শুক্রবার বিয়ে, হলুদের জন্য বেচাকেনা বেশি হয়।
ফুল বিক্রি করে তাদের পোষায় না। তাই তাদের মন খারাপ। অনেকে কথা বলতেই রাজি নন। তারা বলেন, আমাদের সমস্যার কথা অনেক বলা হয়েছে, লেখা হয়েছে, কোনো লাভ হয়নি, তাহলে এত সব কথা বলে লাভ কী? তারা মালা বিক্রির জন্য উপযুক্ত কোনো স্থানও পান না এবং দোকানে বিক্রি করে তাদের পরিশ্রমের উপযুক্ত মূল্যও পান না। তারা যে মালার সেট বানিয়ে সত্তর-আশি টাকায় বেচতে বাধ্য হন দোকানদারের কাছে, দোকানদার তা ক্রেতাদের কাছে তিনশ-চারশ টাকায় বিক্রি করেন। অনেক সময় বিক্রি না হওয়ায় তাদের কাছে ফুল থেকে যায়। পরদিন সে ফুল বিক্রি করা অনেক সময়ই সম্ভব হয় না। এ অবস্থায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে পাল্লা দিয়ে তাদের জীবন চালানো কঠিন হয়ে উঠছে। অনেকে মালিকের কাছ থেকে ফুল নিয়ে গয়না, মালা গেঁথে দেন এবং মালার পরিমাণের উপর টাকা পান। রজনীগন্ধার মালার জন্য ২ টাকা বড় গলার মালার জন্য ১০ টাকা।
এক মা তার বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়াতে খাওয়াতেই মালা গাঁথছিলেন। কেননা এটিই তার জীবন নির্বাহের উপায়। ফুলের মালা বোনা এবং তার বিক্রির হারের ওপরই নির্ভর করে তাদের জীবন। কাজল বলেন, বেশির ভাগ সময়ই তাদের লোকসান হয়। লাভের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা। বিভিন্ন দোকানে ফুল বিক্রি করতে গেলে অনেক সময়ই নানা অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্যের সম্মুখীন হতে হয়। এসব বৈরী পরিবেশ মেনে নিয়েই তাদের কাজ চালিয়ে যেতে হয়। এটিই বাস্তবতা। এর পরিবর্তন দরকার। এ পরিবেশের জন্যই খুব কম তরুণীই মালা গাঁথার কাজকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়। যারা পাইকারি ফুল বেচাকেনা করেন, তাদের অনেকের বাসা কামরাঙ্গীরচরে। ভোরবেলা সূর্য ওঠার আগে শাহবাগে এসে ফুল বেচাকেনা করা নারীদের জন্য বেশ সমস্যা, অনেক সময় অনিরাপদও। শুধু উপযুক্ত বেচার জায়গার অভাবে তারা অনেক কম দামে তাদের কষ্টে গাঁথা মালা দোকানদারদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে যা, নিতান্তই অনাকাঙ্ক্ষিত। রাস্তায় মালা হাতে নিয়ে বিক্রি করে ছোট ছোট মেয়ে, তাদের সাথে কথা হচ্ছিল। মিতু বলছিল, এ পাইকারি দোকান থেকেই তারা
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments