ছোটদের আওরঙ্গজেব
‘হযরত হাসানের পবিত্র মাযার যেন আমার তরফ থেকে এক টুকরো কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এ জন্য প্রয়োজনীয় টাকা রাখা আছে আমার পুত্র শাহ্জাদা আযমের কাছে। টুপি সেলাই করে আমার উপার্জিত চার টাকা দু’আনা রয়েছে আয়া বেগার কাছে। সে টাকাটা আমার কাফনের জন্য ব্যয় করবে। কুরআন শরীফ নকল করে মজুরি বাবদ যে তিন শ’ পাঁচ টাকা আমি পেয়েছি, তা যাবে আমার নিজস্ব তহবিলে। আমার মৃত্যুর দিনে সে টাকা গরীবদের ভেতর বিলিয়ে দেবে। আমার মাথা অনাবৃত রেখে আমাকে কবর দিও, আমি যেন সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র করুণা দেখতে পাই। আমার মৃতদেহ সবচেয়ে কাছের গোরস্থানে বয়ে নিয়ে যাবে। অনাবশ্যক কফিনে না রেখে কবরের মাটিতে শুইয়ে দেবে আমাকে।’
কথাগুলো শুনে অনেকেই হেঁয়ালির মত মনে করবে। ভাববে এসব আবার, কিসের আবদার। অথচ আমার কাছে তা মোটেই হেঁয়ালি নয়। কারণ, যিনি এ কথাগুলো বলেছেন, তিনি তো সাধারণ মানুষ নন। তিনি ছিলেন তাঁর বংশের সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ, উদার এবং নিষ্কলুষ চরিত্রের মানুষ, অথচ তাঁকেই ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি নিষ্ঠুর, খুনী, জঙ্গী, অত্যাচারী, হিন্দু-বিদ্বেষী, গোঁড়া ইত্যাদি বলে কলুষিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনিই তো প্রজাসাধারণের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে শেষ জীবনে টুপি সেলাই করে ও কুরআন নকল করে সংসার চালিয়েছিলেন। আর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার পূর্ব মুহূর্তে ঐ উইল করে গিয়েছিলেন। সে উইল কিন্তু আর দশটা সাধারণ উইলের মত নয়। উইলের প্রতিটি শব্দে ফুটে উঠেছে উইলকারীর বিশ্বাস আর চরিত্র। আর সে উইলকারী ছিলেন সম্রাট আওরঙ্গজেব।
বংশ পরিচয়
আওরঙ্গজেব তৈমূর বংশের লোক। এ বংশের আদি পুরুষ আমীর তৈমূর। তিনি আসলে তুর্কবীর ছিলেন। তাঁর বংশেরই সন্তান ভারত সম্রাট আকবর। আকবরের পুত্র জাহাঙ্গীর। জাহাঙ্গীরের যোগ্য সন্তান সম্রাট শাহজাহান। আর শাহজাহানের সুযোগ্য বীর সন্তান হলেন সম্রাট আওরঙ্গজেব।
আওরঙ্গজেব সম্রাট শাহজাহানের তৃতীয় পুত্র। তাঁর চার পুত্রই মমতাজ মহলের কোলে বড় হয়েছে। মমতাজ মহলের অন্য নাম আরজুমান্দ বানু বেগম। আরজুমান্দ বানু বেগম ১৫৯৪ খৃস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আসফ খান। তিনি পরে ১৬০৭ খৃস্টাব্দে আপন মেয়ের সাথে সম্রাট শাহজাহানের বিয়ে দেন। কিন্তু তার আগে মেয়েকে তিনি উপযুক্ত শিক্ষা দিয়েছিলেন। আর কালে তিনি একজন প্রতিভাময়ী মহিলা হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন। তাঁর রূপে গুণে মুগ্ধ হয়েই সম্রাট শাহজাহান তার নাম দিয়েছিলেন ‘মমতাজ’ অর্থাৎ ‘আমার মাথার মুকুট’। সে নাম অনুসারেই আগ্রার বিশ্ববিখ্যাত ‘তাজমহল’-এর নামকরণ করা হয়েছে।
মমতাজ মহল অত্যন্ত পবিত্র চরিত্রের মহিলা ছিলেন। গরীব-দুঃখীদের ব্যথায় তাঁর অন্তর সবসময় কাঁদতো। গরীব-দুঃখী, ইয়াতিম ও বিধবারা তাঁর কাছে কিছু চেয়ে কখনো খালি হাতে ফিরে যায়নি। এমনকি তিনি ইয়াতিম বালিকাদের বিয়ের ব্যবস্থাও করে দিতেন। অধিকন্তু তিনি একজন ধর্মপরায়ণা মহিলা ছিলেন। তিনি নিয়মিতভাবে নামায আদায় করতেন এবং রোযাসহ ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো নিয়মিতভাবে পালন করতেন। মনে হয় মায়ের এ গুণগুলোই আরওঙ্গজেবের উপর প্রভাব ফেলেছিলো বেশি।
জন্ম
আওরঙ্গজেব ১৬১৮ খৃস্টাব্দের ৪ঠা নভেম্বর দোহাদে জন্মগ্রহণ করেন। দোহাদ হলো মালাবা সীমান্তের কাছাকাছি এবং বরোদা উজ্জয়িনীর ঠিক মাঝামাঝি স্থান। তবে আরওঙ্গজেবের জন্মের তারিখটি নিয়ে কিছুটা মতভেদ আছে। কেউ কেউ বলেন—দোহাদেই তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন, কিন্তু জন্মের তারিখটা হবে ২৪শে নভেম্বর। সে যাই হোক, সম্রাট শাহজাহান তখন ছিলেন দাক্ষিণাত্যের শাসনকর্তা। তিনি ও তাঁর বেগম মমতাজ মহল সে সময় বোম্বাই প্রেসিডেন্সীর পাঁচ মহল তালুকে বাস করছিলেন।
শৈশবকাল
আওরঙ্গজেবের শৈশবকাল সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায়নি। কারণ, তাঁর জন্মের পর পরই পিতা শাহজাহানের জীবনে ঝড় বইতে শুরু করলো। আর সে ঝড় সৃষ্টি করেন শাহজাহানের বিমাতা নূরজাহান। নূরজাহানের পরামর্শেই তখন রাজ্যের সবকিছু চলতে শুরু করেছিলো। কিন্তু সেখানে পথের
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments