জাগরণের অগ্রপথিক : লিওনার্দো দা ভিঞ্চি
[জন্ম : ১৫ এপ্রিল ১৪৫২, আনচিয়ানো, ভিঞ্চি, রিপাবলিক অব ফ্লোরেন্স (বর্তমানে ইতালি), মৃত্যু : ২ মে ১৫১৯, ফ্রান্স]
লিওনার্দো দা ভিঞ্চি ছিলেন ইতালিয় চিত্রকর, স্থাপত্য-নকশাকার, ভাস্কর, স্থপতি ও প্রকৌশলী। অন্য সকলকে ছাপিয়ে তিনি পরিণত হয়েছেন পুনর্জাগরণের (রেনেসাঁর) মানবতাবাদের সর্বোত্তম প্রতিনিধিতে। তাঁর লাস্ট সাপার ও মোনালিসা রেনেসাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রভাববিস্তারকারী চিত্রকর্মের মধ্যে অন্যতম। তাঁর নোটবইগুলোতে জানা যায় কয়েক শতকের অগ্রসর বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসার আগ্রহ ও যন্ত্রকৌশলের উদ্ভাবনী চিন্তা।
তাঁর জীবনকালে তো বটেই এখন অব্দি যে অনন্য জনপ্রিয়তা লিওনার্দোর আছে তার মূলকারণ আসলে তার অপরিসীম জ্ঞান পিপাসা যা তার চিন্তা-ভাবনা ও কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করেছে। আদতে শিল্পী হওয়ায় তিনি তার চোখ দুটোকে গন্য করলেন জ্ঞনরাজ্যের সিংহদ্বার। লিওনার্দোর কাছে দৃষ্টি হচ্ছে মানুষের সর্বোত্তম ইন্দ্রিয় কারণ তাতেই সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ে কোনো ঘটনার সব খুঁটিনাটি সঠিক ও নিশ্চিতভাবে। তাই, যা কিছুই তিনি দেখছিলেন তাই তাঁর জ্ঞানের উপজীব্য হয়ে যাচ্ছিল। Super Verdure (কীভাবে দেখতে হয় জানা) তার কাজগুলোর বড় থিমে পরিণত হল। জ্ঞানের সকল শাখায় যেখানে চিত্রকর্মের ব্যবহার আছে তার সবখানেই তিনি তাঁর সৃষ্টিশীলতার প্রয়োগ ঘটালেন।
এনাটমি (অঙ্গসংস্থানবিদ্যা) বিষয়ক অনুসন্ধান ও চিত্রকর্ম
এনাটমি নিয়ে লিওনার্দোর মুগ্ধতা সেই সময়ের চিত্রকর্মের আগ্রহের দিকটি প্রকাশ করে। তাত্ত্বিক লিও বাত্তিস্তা আলবার্টি ১৪৩৫ সালে তার Della Pittura গ্রন্থে চিত্রশিল্পীদের আহ্বান জানান তারা যেন মানবদেহকে সেইভাবে আঁকে তা যেভাবে প্রকৃতিতে আছে, অর্থাৎ এর ভিতরের অস্থি, পেশী যেভাবে আছে সেভাবে এবং তার উপরে ত্বকের আবরণ দিতে হবে। কোন দিন থেকে লিওনার্দো এনাটমি নিয়ে কাজ শুরু করেন তা জানা যায় না, যেমন জানা অসম্ভব ঠিক কখন থেকে তিনি মানবদেহ ব্যবচ্ছেদ করতে শুরু করেন। হয়ত তিনি মিলানে যাবার কয়েক বছর পর এ কাজ শুরু করেন। মিলান তখন চিকিৎসাশাস্ত্রের গবেষণার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এনাটমি নিয়ে তার অনুসন্ধানে প্রাথমিক পর্যায়ে চিত্রকলাবিদ্যা অনুশীলনেরই অংশ ছিল কিন্তু ১৪৯০ খ্রিস্টাব্দের দিকে এটি তার গবেষণার একটি স্বতন্ত্র ক্ষেত্রে পরিণত হয়। তার তীক্ষè দৃষ্টি মানবদেহের কাঠামো যতই উন্মোচিত করতে থাকল ততই তিনি মুগ্ধ হচ্ছিলেন এবং মানবদেহের বিভিন্ন শারীরিক কর্মকাণ্ডকে প্রকৃতির দৃষ্টিকোণ থেকে বুঝতে চেষ্টা করছিলেন। পরবর্তী দুই দশক ধরে তিনি এনাটমি নিয়ে হাতে কলমে আরও কাজ করেন। এসময় তিনি ডিসেকশন টেবিলে মগ্ন ছিলেন মিলানে, ফ্লোরেন্স ও রোমের হাসপাতালে। পাভিয়াতে তিনি কাজ করেন প্রখ্যাত চিকিৎসক-অঙ্গসংস্থানবিদ মার্কান্তানিও দেল্লা তরের সঙ্গে। তাঁর নিজের দেয়া হিসাব মতে লিওনার্দো প্রায় ৩০টি মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ করেন।
প্রথম দিকে লিওনার্দো কংকাল ও পেশী নিয়ে কাজ করেন। তবুও প্রথম দিকেই তিনি তার অঙ্গসংস্থানবিদ্যা ও শরীরবিদ্যার গবেষণার মধ্যে সমন্বয় করতে পেরেছিলেন। দেহের স্থির কাঠামোকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে তিনি অনুসন্ধান করতে লাগলেন দেহের যান্ত্রিক ক্রিয়ায় মানে চলন ও অন্য কর্মকাণ্ডে স্বতন্ত্র অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ভূমিকা কী। এর থেকেই তিনি দেহের ভিতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে অনুসন্ধানে প্রবৃত্ত হলেন। তিনি সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন মস্তিষ্ক, হৃৎযন্ত্র ও ফুসফুসের উপর এবং এগুলোকে মনে করতেন ইন্দ্রিয় ও জীবনের চালক হিসেবে। এসব অনুসন্ধানের উপাত্তই বিধৃত আছে তার ব্যবচ্ছেদ সংক্রান্ত চিত্রকর্মগুলোতে। তার এই কাজ রেনেসাঁ পর্বের বিজ্ঞানের সবচেয়ে তাৎপর্যময় অর্জনগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। চিত্রকর্মগুলোতে সমন্বিত হয়েছে প্রাকৃতিক ও বিমূর্ত উপস্থাপনা। কংকালে অস্থির অবস্থান, বিভিন্ন স্তরের পেশীর সাপেক্ষে ভিতরের অঙ্গগুলোর অবস্থান যে গভীর অন্তদৃষ্টির সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছেন তা সত্যিই অনন্য। কিন্তু এর সবচেয়ে বড় মূল্য নিহিত এইখানে যে, চিত্রকর্মগুলো স্বতন্ত্র ব্যবচ্ছেদের অভিজ্ঞতার আলোকে এমনভাবে নির্মিত হয়েছে যাতে উপাত্তগুলো সহজে ও সঠিকভাবে দৃশ্যমান হয়ে উঠে। এ কারণেই লিওনার্দো হয়ত এত জোরের সঙ্গে বলতে পেরেছেন যে,
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
আকর্ষণীয় মূল্য
এক বছর
এক মাস
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে
সাবস্ক্রাইব করেছেন? আপনার একাউন্টে লগইন করুন
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments