শাহবাগ আন্দোলনে নারীর অবদান
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাঙালি নারীর প্রতিবাদী মুখ আবার সারা বিশ্বের কাছে উদ্ভাসিত হলো শাহবাগে গণজাগরণের মধ্য দিয়ে। শাহবাগ আন্দোলনে প্রায় প্রতিদিন এই আন্দোলনকে চাঙ্গা রেখেছে নারীদের জ্বালাময়ী কণ্ঠের স্লোগান। পৃথিবীতে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর—কাজী নজরুল ইসলামের এই বাণীর যথার্থতা প্রমাণের মধ্য দিয়ে পুরুষের পাশাপাশি এক মঞ্চে স্লোগান দিয়ে নারীরা বীরের মতো নেতৃত্ব দিয়েছে এ আন্দোলনে। স্লোগানকন্যা লাকি আক্তারের পাশাপাশি দিন-রাত স্লোগানের ঝড় তুলেছে মুক্তা বাড়ৈ, প্রগতি বর্মন, সুস্মিতা রায় সুপ্তি, জয়শ্রী রায়, তানিয়া, সামিয়া রহমান, উম্মে হাবিবা বেনজির, তানজিদা তুবা প্রমুখ। তাদের এই স্লোগানে অনুপ্রাণিত হয়ে এক অগ্নিময়ী শিখা ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। শুধু স্লোগান দিয়ে নয়, আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের লক্ষ্যে নারী-শিশুদের দিন-রাত নির্বিশেষে শাহবাগে উপস্থিতি ছিল এ যুগের জন্য অতি প্রয়োজনীয় দৃষ্টান্ত। সারা দিন, এমনকি সন্ধ্যার পরও নারীরা শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে থেকে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করলেও তাদের পুরুষদের কাছ থেকে সহ্য করতে হয়নি বড় ধরনের কোনো প্রকার লাঞ্ছনা বা উত্ত্যক্ততা। তাদের জন্য প্রয়োজন পড়েনি আলাদা নিরাপত্তার। বরং প্রজন্ম চত্বরে এসেই নারী-শিশুরা ফিরে পেয়েছে তাদের হারিয়ে যাওয়া সেই সাহস ও নিরাপত্তা। এখানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমবেত হয়ে পরিণত হয়েছে এক অপরাজেয় শক্তিতে। একাত্তরে যে লক্ষ্য নিয়ে জন্ম বাংলাদেশের, তাকে পরিণতি দেয়ার নতুন প্রত্যয় নিয়েই জেগে উঠেছিলেন নবীন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা।
সারা দিন, এমনকি সন্ধ্যার পরও নারীরা শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে থেকে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করলেও তাদের পুরুষদের কাছ থেকে সহ্য করতে হয়নি বড় ধরনের কোনো প্রকার লাঞ্ছনা বা উত্ত্যক্ততা। তাদের জন্য প্রয়োজন পড়েনি আলাদা নিরাপত্তার। বরং প্রজন্ম চত্বরে এসেই নারী-শিশুরা ফিরে পেয়েছে তাদের হারিয়ে যাওয়া সেই সাহস ও নিরাপত্তা। এখানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমবেত হয়ে পরিণত হয়েছে এক অপরাজেয় শক্তিতে।
আন্দোলন চলাকালীন মাত্র এক দিনেই প্রায় ২৫ হাজার নারী যোগ দেয় এই গণজাগরণে। ৩০টি নারী সংগঠনের ব্যানারে এই নারীরা যোগ দেয় গণজাগরণ মঞ্চে। এর মধ্যে ছিল ব্রুতি, নিজেরা করি, মহিলা-পরিষদ, মহিলা আইনজীবী পরিষদ প্রমুখ। প্রজন্ম চত্বরে প্রতি মুহূর্তে সৃষ্টি হয়েছে নতুন নতুন স্লোগানের। রাত দশটা-বারোটা পর্যন্ত দেখা গেছে চাকরিজীবী, গৃহবধূ নারীদের উপস্থিতি। সমাবেশে স্লোগানের মধ্যে নারীদের কণ্ঠ ছিল বেশি সরব। সারা দিনের অফিসের ক্লান্তি কর্মজীবী নারীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন থেকে বিরত রাখতে পারেনি। তিন-চার বছরের শিশুকে নিয়েও চলে এসেছে তাদের মায়েরা। স্লোগানে মায়ের সঙ্গে তার কোলে বসে গলা মিলিয়েছে চার বছরের কন্যাটিও। মুক্তিযুদ্ধের সময় বহু কিশোর-কিশোরী অকালে প্রাণ দিয়েছে, আমাদের মনে জমে রয়েছে সে সময়ের দুঃখের স্মৃতি। বহু মা এই নতুন প্রজন্মের নারীদের মধ্যে খুঁজে পান যুদ্ধে শহিদ হওয়া তার নিজ সন্তানের চেহারা। তাদের স্মরণ করে বহুকাল পর তাদের কাছে পাঠান চিঠি। একজন মা বলছিলেন, তার আট বছর বয়সী মেয়েকে গাছ থেকে ফেলে দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনী হত্যা করেছিল। বহুদিন পর নিজ মেয়ের কাছে চিঠি লিখতে গিয়ে সেই মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। আশপাশের স্কুলছাত্রীরাই তখন তার মেয়ের মতো পাশে এসে দাঁড়ায়।
সকাল থেকে প্রতিদিনই প্রজন্ম চত্বর ছিল স্কুলছাত্রীদের স্লোগানে মুখর। ভিকারুননিসার কিছু ছাত্রী বলে, এই সমাবেশে অংশগ্রহণ করতে পেরে তারা গর্বিত। পরীক্ষা সামনে থাকলেও এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার পথে তা কোনো বাধা হতে পারেনি, আবার পড়াশোনার পথেও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি তাদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের এক ছাত্রী বলেন, ‘বইমেলা, পয়লা বৈশাখ, বাণিজ্যমেলার মতো অনুষ্ঠানে গিয়ে এতটা দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে পারতাম না, যতটা এখানে রয়েছি’। বহুদিন পর নির্ভয়ে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments