রবি ও শশী
দুই বাচ্চা রবি আর শশী। সব বাচ্চার মতো এরাও নানা রকম মজা করে, মাঝে মাঝে কাঁদেও। ছোট ছোট শিশুরা যেমন করে খায় এরাও খায় তেমনি করে। দুধ চিনি দেওয়া পায়েস পুরে দিতে হয় একেবারে মুখের ভিতরে। নইলে খেতে পারে না।
রুশ ভাষায় তাদের নাম বললে সেটা শোনাবে এই রকম: সৎসে আর লুনা। রুশ ভাষা বুঝলে রবি শশীরও তা জানা থাকত।
কিন্তু রুশ ভাষায় ওদের কী বলে ডাকে এখনো ওরা তা জানে না।
‘সৎসে, সৎসে!’ ছেলেমেয়েরা চিৎকার করে, রবি কিন্তু শুড়টা একটু দোলায় না পর্যন্ত।
‘লুনা, লুনা!’ বাচ্চারা ডাকে শশীকে, কিন্তু তাদের দিকে ঘুরেও তাকায় না শশী। 'বোধ হয় ওদের নাম গুলিয়ে ফেলেছি আমরা', ছেলেমেয়েরা বলাবলি করে, 'দেখ না, ওরা কেমন এক রকম দেখতে।'
তা সত্যিই, রবি শশীর চেহারায় ভারি মিল। তাই বলে ভাই-বোন তারা নয়, এমন কি দূর সম্পর্কের আত্মীয়ও নয়।
রবি আর শশী এরা ভারতবর্ষের শিশু হাতী। খুব অল্পদিন আগে আমাদের দেশে এসেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীজহরলাল নেহেরু সোভিয়েত শিশুদের জন্যে উপহার পাঠিয়েছেন এদের।
শ্রীনেহেরু লিখেছেন, ‘সোভিয়েত ইউনিয়নে পরিভ্রমণের সময় বহু ছেলেমেয়ের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল আর সর্বত্র তারা ভারতবর্ষের ছেলেমেয়েদের শুভেচ্ছা জানিয়েছে। এখন ভারতের শিশুদের তরফ থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের শিশুদের জন্য দুটি যৎকিঞ্চিৎ বৃহদাকার উপহার পাঠানো হল দুটি শিশু হাতী। যদিও ইতিমধ্যেই বেশ বড়োসড়ো দেখতে, তবু বয়স তাদের সবে মাত্র এক বছর। সোভিয়েত ইউনিয়নের শিশুদের কাছে যাচ্ছে ভারতের শিশুদের দূত হয়ে, সঙ্গে নিয়েছে শুভেচ্ছা ও বন্ধুত্বের বাণী... আশা করি, সোভিয়েত ইউনিয়নের ছেলেমেয়েরা ছোট্ট উপহার দুটির সঙ্গে মিতালি পাতাবে আর মনে রাখবে ভারতের ছেলেমেয়েদের, এই উপহার যাদের স্মরণিকা।’
দূর যাত্রার আগে
রবি আর শশী এসে পৌঁছল মস্ত শহর বোম্বাইতে। সমুদ্রের বন্দর পর্যন্ত নিয়ে আসা হল তাদের মালগাড়িটাকে, তারপর তাকে রাখা হল সাইডিং-এ। কিন্তু দেখা গেল যে যাত্রা তাদের তখনো শেষ হয়নি।
দূর যাত্রার জন্য তোড়জোড় শুরু হল।
বন্দরে করাত কুড়ুল চালানোর আওয়াজ শোনা গেল। জয়নার আর ছুতোর মিস্ত্রিরা রবি আর শশীর জন্য বানাতে লাগল বিশেষ খাঁচা। বাচ্চা হাতীদের জন্য এই খাঁচাগুলি হওয়া চাই বেশ আরামদায়ক, প্রশস্ত আর টেকসই। সেজন্য ওগুলো তৈরী করতে হবে সাধারণ তক্তা থেকে নয়, বানাতে হবে ভারতের সবচেয়ে কঠিন যে কাঠ সেই 'লোহা কাঠ' থেকে।
দর্জির দোকানে সেলাই-কল চলতে শুরু করল। দর্জিরা সেলাই করল রবি আর শশীর জন্যে বিশেষ সাজ। হাতীদের সাজপোষাকগুলো হওয়া চাই সুন্দর, স্বাচ্ছন্দ্যকর আর অবশ্যই বেশ গরম। তাই সবচেয়ে গরম উলের কাপড় থেকে এগুলো সেলাই করল দর্জিরা।
লরির ভেপু শোনা গেল বন্দরে। ড্রাইভাররা জেটিতে নিয়ে এল চাল আর চিনি, আখ আর দুধ, আনারস আর পেস্তা বাদাম, কলাগাছ, সবুজ ঘাস আর শুকনো খড়। দূরের যাত্রায় রবি শশী যেন থাকে পরমানন্দে, স্বাস্থ্য রক্ষা করে, খেতে যেন পায় যত খুশী সবচেয়ে সুস্বাদু আর মুখরোচক খাবার।
তোড়জোড় যা কিছু সব শেষ হল। সেই সময় বোম্বাই বন্দরের জেটিতে এসে নোঙ্গর গাড়ল সোভিয়েত জাহাজ ‘স্তাভরপল’।
'বোঝাই শুরু করা যাক,' বলে উঠলেন ক্যাপ্টেন চেরনব্রোভকিন।
অবতরণের পালা
ষোল দিন ধরে জাহাজে চলেছে রবি শশী। তারপর ‘স্তাভরপল’ এসে পৌঁছল ওদেসায়। তীরে নামতে হবে এবার।
জাহাজের ডেক থেকে বাচ্চা হাতীশুদ্ধ খাঁচাগুলিকে তুলে নিয়ে এল ক্রেন।
শহরের রাস্তা দিয়ে রবি শশীকে নিয়ে যাওয়া হল দুটো লরিতে করে; চিড়িয়াখানার গেটের ভিতরে ঢুকে লরি গিয়ে দাঁড়াল হাতীশালের সামনে।
চিড়িয়াখানায় সাক্ষাৎ
আগে কখনো চিড়িয়াখানার প্রবেশপথে কিউ হত না, আজকাল হচ্ছে।
তাতে আবার আজ রবিবার, লোকের ভিড় বিশেষ করে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments