আমার ছেলেটা কেন অচেনা হয়ে যাচ্ছে

কয়েক দিন ধরে নিলুফার ইয়াসমীন খুব চিন্তায় আছেন। তাদের একমাত্র ছেলে বর্ণকে খুব অন্যমনস্ক মনে হচ্ছে। হঠাৎ করেই ও একধরনের দূরত্ব রেখে চলছে। আগে এসেই স্কুলের সব গল্প করত। তার পাশে বসে থাকত। এখন ও ক্লাস নাইনে উঠেছে। একটু বড় বড় ভাব। তাকে এড়িয়ে চলছে। শুধু তা-ই নয়, খাওয়ার সময়ও নিজের ঘরে গিয়ে দরজা আটকে একাই খাচ্ছে। তার মনে হচ্ছে, তিনি নিজের ছেলেকেই আর চিনতে পারছেন না।

হঠাৎ করে কেন এই দূরত্ব তৈরি হলো তাদের মাঝে? এই ছেলেকেই তিনি কিছুদিন আগে নিজ হাতে খাইয়েও দিয়েছেন। তিনি বুঝতে পারছেন যে ছেলেটা মানসিকভাবে এখন একটা কঠিন সময় পার করছে। কিন্তু তিনি কোনো সাহায্যই করতে পারছেন না। বর্ণর সঙ্গে তার বাবার সব সময়ই কিছুটা দূরত্বের সম্পর্ক। তিনি থাকেন নিজের জগৎ নিয়ে। ছেলের কী অবস্থা বা কেমন আছে, এসব মাথাব্যথা তার নেই। সব সময়ই একটু নির্বিকার, দূরত্ব রেখে চলেন। বর্ণ যখন ছোট তখন তাকে কারণ ছাড়াই বকাবকি করতেন। তাই বর্ণ সব সময় বাবাকে এড়িয়েই চলে। কার্যত তার কাছে যায় না।


সন্তান যখন ঘরে থেকেও ঘরের মানুষের কাছে অচেনা হয়ে ওঠে, তখন বুঝতে হবে কোথাও আমাদের যোগাযোগের অভাব রয়ে গেছে। আমরা তাদের হাতে দামি গ্যাজেট তুলে দিয়ে ভাবছি দায়িত্ব শেষ, কিন্তু আসলে তারা খুঁজছে একটু সময় আর মনোযোগ। শাসনের দেয়াল তুলে নয়, বরং বন্ধু হয়ে তাদের পাশে দাঁড়ালেই কেবল সেই ‘অচেনা’ সন্তানকে আবার চেনা মানুষের মতো ফিরে পাওয়া সম্ভব।


তিনি লক্ষ করছেন যে ইদানীং ছেলে সব সময় বন্ধুদের নিয়েই ব্যস্ত থাকে। একদিন তো বেশ রাত হয়ে গেল, বর্ণ আর আসে না। তিনি প্রায় অস্থির, পাগল হওয়ার দশা। সে সময় বর্ণ এল, কিন্তু অসংলগ্ন কথাবার্তা। এখন তার বন্ধু হয়েছে পাড়ার কিছু খারাপ ছেলে। শুনেছেন তারা নেশাটেশাও করে। তাদের জ্বালাতনে উঠতি বয়সী মেয়েদের মায়েরাও চিন্তিত। তার এই সহজ-সরল ছেলেটা তাদের পাল্লায় পড়ে কি সে রকমই হয়ে যাচ্ছে? তিনি দেরি হওয়ার কারণ জানতে চাইলেন। বর্ণর সহজ-সরল উত্তরটি ছিল, সে বড় হয়েছে, এখন তার ব্যাপারে দখল নেওয়ার অধিকার মা হিসেবে তার আর নেই।

নিলুফার ইয়াসমীন ও তার ছেলের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ার তিনি যেমন চিন্তিত, তেমনি অধিকাংশ মা চিন্তিত হয়ে পড়েন যখন তার ছেলেরা টিনএজ পর্বে প্রবেশ করে। তখন তাদের মাঝে শুধু বড় বড় ভাবই নয়, সে যে পুরুষ, সেই অনুভূতির জন্ম নেয়। এই কঠিন সময়ে সেই অনুভূতিগুলো সে তার মাকে বলতে পারলেই শান্তি পেত। কিন্তু সামাজিক চাপে সে সেই পরিবার থেকে, মায়ের কাছ থেকেই দূরে সরে যায়। সে হয়ে যায় একেবারেই একা। সে সময় অনেক ক্ষেত্রে খারাপ বন্ধুরা তাকে পরিবার থেকে দূরে টেনে নেয়। কখনও বা নেশায় আসক্তও করে ফেলে। তবে এই কু-সঙ্গ থেকে ছেলেকে রক্ষা করতে না পারার ব্যর্থতা তার বাবা-মায়েরই। এই দূরত্ব যদি তৈরি না হতো তবে এমন হতো না। তেমনি একাকিত্বের ভুক্তভোগী, বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে সজীব (ছদ্মনাম) বলছিল তার মনের কথা:

আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হব। আমি আমার মায়ের একমাত্র আদরের সন্তান। ছোটবেলায় একটা সময় ছিল যখন সব সময় কোনো বন্ধু কী দুষ্টুমি করল, কে আমাকে মারল, কে আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করল এসবই মাকে বলতাম। যখন ক্লাস এইটের ছাত্র, সে সময় নিজের মধ্যে এক বড় বড় ভাব হলো। স্কুলে একা যাওয়া-আসা শুরু করতে চাইলাম। কিন্তু মায়ের চিন্তা কি আর এত সহজে কমে? মা তখনো আমাকে স্কুলে পৌঁছে দিতে থাকলেন। আমার স্কুলের বন্ধুরা আমাকে মায়ের আঁচল

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice