দাম্পত্য কলহের বলি অসহায় সন্তান

দাম্পত্য জীবনে মান-অভিমান, ঝগড়া-বিবাদ চিরসঙ্গী। বাবা-মায়ের এ বিবাদেরই নির্মম বলি হতে হলো ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী হৃদিতাকে। বাবা ও মায়ের মধ্যে ঝগড়া এবং তারই সূত্রে আলাদা বসবাসের কারণে অভিমান থেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিল হৃদিতা। একটি নিষ্পাপ কিশোরীর জীবন ঝরে পড়ল অসময়ে। কীভাবে এ জীবন রক্ষা করা সম্ভব?

দিন দিন বাংলাদেশে বিবাহবিচ্ছেদের হার যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি নানা কারণে দাম্পত্যজীবনে অশান্তি লেগেই রয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের প্রতি সম্মান, বিশ্বাসের অভাব থেকেই সাধারণত বিবাদের শুরু এবং সম্পর্কে টানাপড়েন। বাবা-মায়ের মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝি, ডিভোর্স সন্তানের মানসিক বিকাশে খুবই খারাপ প্রভাব ফেলে এবং এক্ষেত্রে সন্তানের লেখাপড়া, জীবন সবকিছুই হয়ে ওঠে অনিশ্চিত। অনেক সময় একাকিত্ব ও চরম অনিশ্চয়তা সন্তানকে আত্মহত্যার পথেও ধাবিত করে।

এসব সন্তানের জীবনধারা প্রসঙ্গে কথা হচ্ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কাউন্সেলর সাইফুন নেসা জামানের সঙ্গে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিংয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সাইকোলজিতে অনার্স এবং ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিতে এমফিল সম্পন্ন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের ছাত্রছাত্রীরা পরিবারের নানা সমস্যা, হলের নতুন পরিবেশে বসবাসের ক্ষেত্রে একাকিত্বের অনুভূতি, পরীক্ষার ফলাফলের মানসিক চাপ-বিভিন্ন কারণে কাউন্সেলিংয়ের জন্য তার কাছে এসে থাকেন।

বাবা-মায়ের মধ্যে মনোমালিন্য, ছাড়াছাড়ি ও এসবের পরিণামে সন্তানের যে মানসিক অবসাদ, সে ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের কী দায়িত্ব পালন করা উচিত এ সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাই। তিনি বলেন, বাবা-মায়ের মধ্যে ছাড়াছাড়ি এবং আলাদা বসবাস সন্তানকে মানসিকভাবে খুবই দুর্বল করে ফেলে। একই সঙ্গে সন্তানের মনে বিষণ্ণতা এবং বাবা বা মাকে হারানোর বেদনাদায়ক অনুভূতি কাজ করে। তাই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সে সময় বিশেষভাবে সন্তানকে মানসিক সাপোর্ট দিতে হবে। প্রয়োজনে বাবা-মা সমঝোতার ভিত্তিতে চলার চেষ্টা করবে, যেন শিশু কখনও নিজেকে বন্দি এবং বাবা-মায়ের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত মনে না করে। আমাদের সমাজে বিবাহবিচ্ছেদকে এখনো সহজভাবে গ্রহণ করা হয় না। তাই বিবাহবিচ্ছেদ হলে সন্তানকে শুনতে হয় মন্তব্য। অনেক সময় স্কুলে, কলেজে তার সঙ্গে বিরূপ আচরণও করা হয়। সমাজের পক্ষ থেকে ভাবা হয় না যে একটি বিরূপ মন্তব্য কারও জীবননাশের কারণও হতে পারে। তাই সমাজ থেকেও এসব সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে হবে, যা তাকে দেবে নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা। শিক্ষকদের এসব কিশোর-কিশোরীর পাশে দাঁড়িয়ে তাদের একাকিত্ব দূর করার এবং মানসিক শক্তি জোগানোর দায়িত্বও পালন করতে হবে।

বর্তমানে বিবাহবিচ্ছেদের হার বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সাইফুল নেসা বলেন, বিয়ের আগে এবং পরের জীবন সম্পূর্ণ আলাদা। সুখী দাম্পত্যের জন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়ের পক্ষ থেকেই প্রয়োজন মানিয়ে চলার ইচ্ছা। এছাড়া আরও কিছু বৈশিষ্ট্য দরকার। বিয়ের আগ পর্যন্ত নিজের জীবন শুধু নিজেরই। কিন্তু বিয়ের পর জীবনে প্রথম সহাবস্থানের সম্মুখীন হতে হয় একজনকে। আরেকজনের জীবন নিয়েও ভাবতে হয়। আগে যৌথ পরিবারে দাদা-দাদি, নানা-নানির কাছ থেকে বিবাহোত্তর জীবন সম্পর্কে অনেক তথ্য জানতে পারত বাড়ির ছেলে বা মেয়েরা। বিদেশে রয়েছে নানা প্রি-ম্যারিটাল ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা। আমাদের দেশেও বর্তমানে প্রি-ম্যারিটাল কাউন্সেলিং জরুরি হয়ে পড়েছে। বিবাহ-পরবর্তীকালে নানা মান-অভিমানের পরিপ্রেক্ষিতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ম্যারিটাল কাউন্সেলিং গ্রহণ করা যেতে পারে। অনেক সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি থেকেও সম্পর্কে টানাপোড়েনের সূত্রপাত হয়ে থাকে। এসব ক্ষেত্রে পারিবারিক সুখ-শান্তি ফিরিয়ে আনতে ম্যারিটাল কাউন্সেলিং খুব সাহায্য করে। শিশুর ভবিষ্যৎ নির্ভর করে বাবা-মায়ের মানুষ করার ধরনের ওপর। শিশুকে অতিরিক্ত সোহাগ দেওয়া ঠিক নয়, কারণ এতে সন্তান বেশি পরনির্ভরশীল হয়ে পড়ে। আবার শিশুর প্রতি অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ ও দূরত্ব বজায় রাখাও ঠিক নয়। শিশুর মানসিক অবস্থা বুঝতে এবং সঠিক পথে মানুষ করার লক্ষ্যে বাবা-মা প্যারেন্টাল

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice