-
ঢাকার রাস্তায় প্রতিদিন মানুষের যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তার প্রকৃত অবস্থা কেবলমাত্র ভুক্তভোগীদের পক্ষেই অনুভব করা সম্ভব। যানজটের কারণে প্রতিদিন যে শুধু ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট [যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বছরে ৩৭ হাজার কোটি টাকা, যা জাতীয় বাজেটের ১১ ভাগের একভাগ] হচ্ছে তাই নয়, এর সরাসরি প্রভাব রয়েছে পরিবেশ দূষণ, শব্দ দূষণ, সড়ক দুর্ঘটনা ও চলাচলকারী ব্যক্তির মানসিকতার উপর [মেজাজ খিটখিটে হওয়া, ক্লান্তি, বিরক্তি, কাজের গতি কমে যাওয়া, আয়ুষ্কাল কমে যাওয়া]। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই অসহনীয় যানজটের হাত থেকে আমাদের সাধারণ মানুষের মুক্তি মিলবে কি? সত্যি বলতে এই বিষয় নিয়ে এত বেশি আলোচনা হয়েছে এবং হচ্ছে, তাই আমি উত্তরটি
-
আজ থেকে প্রায় ৭০ বছর আগের কথা। এদেশ সবেমাত্র ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে। এদেশের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন এখনকার চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে। এমন সমাজে যৌনতা ভীষণ নিষিদ্ধ একটি বিষয়। সে সময়ে আমাদের দেশে এ বিষয়ে কথাবার্তা বা আলাপ-আলোচনা অত্যন্ত গর্হিত একটি ব্যাপার বলে পরিগণিত হত। শুধু এদেশেই নয় ইয়োরোপ-আমেরিকাতেও ১৯৬০-এর দশকে ‘যৌন বিপ্লব’-এর ধাক্কায় গোটা সমাজে যৌনতা সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাপকভাবে পাল্টে যাবার আগে যৌন বিষয়ে কিংবা নরনারীর যৌন সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা আলোচনাকে সহজভাবে নেয়া হত না। ভাবতে খুব অবাক লাগে, ওরকম একটি সময়ে বয়সে অত্যন্ত তরুণ একজন মানুষ এই বিষয়ে লিখতে দৃঢ় হাতে কলম ধরেছেন। শুধু যৌনতা নয়,
-
তিন মাস পর সরকারের এক বছর পূর্ণ হবে। নির্বাচন বা ভোট কি ধরনের হয়েছে নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তা জনগণ জানে। জনগণকে তা বলার বা বুঝানোর প্রয়োজন নেই। জনগণ জানতে চায় কেন তাদের ভোটাধিকার বারবার ছিনতাই হয়ে যায়। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কি?
এই সময়কালের মধ্যে আমরা দেখেছি, কৃষক ধানের দামে চরমভাবে মার খেয়েছে। তার উৎপাদন খরচও উঠেনি। এরপর মানুষের ঘরবাড়ি ডুবেছে বন্যায়, পুকুরের মাছ গেছে ভেসে, ফসলের হয়েছে ক্ষতি। জুন মাসে সরকার বাজেট দিয়েছে। ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীর সুদের হার কমিয়ে তাদের জীবন করেছে দুর্বিষহ। ধনীদের উপর প্রত্যক্ষ কর না বাড়িয়ে বহুমাত্রিক অপ্রত্যক্ষ কর বাড়িয়েছে। যার সিংহভাগ বোঝা বহন করতে
-
দুই দশকেরও বেশি আগে বিজ্ঞানচেতনা পরিষদের যাত্রার শুরুতে বিজ্ঞান ও চেতনা শব্দ দুটি আলাদা না কি একসঙ্গে লিখব তা নিয়ে আমাদের মধ্যে তর্ক ছিল। পরে আমরা সিদ্ধান্ত নিই দুটি শব্দ একসঙ্গেই লিখব: বিজ্ঞানচেতনা। আমাদের সমাজে পরীক্ষাগার, গবেষণা ইত্যাদি সম্পর্কিত ভাবনার জায়গা থেকে বিজ্ঞানকে দেখার চল বেশ প্রতিষ্ঠিত, শক্তিশালীও বটে। কিন্তু এসব থেকে প্রকৃতি ও মানুষ বিচ্ছিন্ন থাকলে তা সামগ্রিকতা পায় না। তাই শুরু থেকেই আমরা বিজ্ঞান ও চেতনাকে আলাদা করিনি। বিজ্ঞানকে চেতনা থেকে আলাদা করলে তা ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে প্রকৃতির জন্য, মানুষের জন্য। এই সামগ্রিকতার মধ্যে পরস্পরের সম্পর্ক ও অবস্থানকে বিশ্লেষণ ও যাচাই করা, মানুষের মধ্যে প্রশ্ন করার সক্ষমতা তৈরির
-
উপক্রমণিকা (prologue)
অনেক সময়ই আমরা পত্রিকার পাতায় বা অন্তর্জালে [Internet] এই ধরনের খবর দেখে থাকি—পুঁইশাকের চচ্চড়ি খেলে এইডস হওয়ার সম্ভাবনা কমে কিংবা এই আশ্চর্য অভ্যাস আপনাকে ক্যান্সার থেকে দূরে রাখবে...ইত্যাদি। সচেতন পাঠক হয়ত এগুলোকে বিশেষ পাত্তা দেন না। কিন্তু তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়, দুটো ঘটনার মধ্যে একটিকে কারণ এবং অপরটিকে ফলাফল বলতে গেলে কী কী শর্ত মানতে হবে? আমরা কীভাবে জানি যে, কোনো একটা রোগের কারণ একটি বিশেষ রোগজীবাণু বা একসেট জীবনাচরণ? কেমন করে জানা যায় যে অমুক ওষুধ বা চিকিৎসায় তমুক অসুখটা সারে, নিছক দৈবক্রমে নয়? কারণ ও ফলাফলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন সংক্রান্ত এরূপ প্রশ্নের মীমাংসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা
Page 1 of 1
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.