গণতন্ত্রহীনতা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের জন্ম দেয়
তিন মাস পর সরকারের এক বছর পূর্ণ হবে। নির্বাচন বা ভোট কি ধরনের হয়েছে নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তা জনগণ জানে। জনগণকে তা বলার বা বুঝানোর প্রয়োজন নেই। জনগণ জানতে চায় কেন তাদের ভোটাধিকার বারবার ছিনতাই হয়ে যায়। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কি?
এই সময়কালের মধ্যে আমরা দেখেছি, কৃষক ধানের দামে চরমভাবে মার খেয়েছে। তার উৎপাদন খরচও উঠেনি। এরপর মানুষের ঘরবাড়ি ডুবেছে বন্যায়, পুকুরের মাছ গেছে ভেসে, ফসলের হয়েছে ক্ষতি। জুন মাসে সরকার বাজেট দিয়েছে। ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীর সুদের হার কমিয়ে তাদের জীবন করেছে দুর্বিষহ। ধনীদের উপর প্রত্যক্ষ কর না বাড়িয়ে বহুমাত্রিক অপ্রত্যক্ষ কর বাড়িয়েছে। যার সিংহভাগ বোঝা বহন করতে হবে নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত মানুষকে। গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে সরকার। রান্না ঘরের চুলা, বিদ্যুৎ, সার, শিল্প, চা বাগান, হোটেল, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রার খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। মানুষের আয় বাড়েনি, বেড়েছে খরচ। ফলে দারিদ্র্য বৈষম্য আরেক ধাপ বেড়েছে। ব্যাংক মালিকদের ঋণ দেয়ার সুদের হার এক অংকে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছিল সরকার, খোদ প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু ব্যাংক মালিকরা সে নির্দেশ মানেনি। শেয়ার মার্কেটে ধ্বস অব্যাহত আছে। লিজিং কোম্পানিগুলো দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকে তারল্য সংকট দেখা যাচ্ছে। ঋণখেলাপির সংখ্যা ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ঠিকভাবে হচ্ছে না। বিদেশে শ্রমিক যাওয়ার প্রবাহ ও হার স্থবির অবস্থায় আছে-কমে গিয়েছে। উন্নয়ন হচ্ছে Jobless উন্নয়ন। সমগ্র আর্থিক খাতে চলছে নৈরাজ্য।
শিক্ষা-স্বাস্থ্য নিয়ে চলছে রমরমা ব্যবসা। ডেঙ্গু রোগ মহামারীর ন্যায় ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এখন একটু কমেছে। কিন্তু যেকোনো সময়ই তা বাড়তে পারে। এই ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগের সীমাবদ্ধতা, ঘাটতি, সিটি কর্পোরেশনের যোগ্যতা, দক্ষতা, পরিকল্পনা ও দেউলিয়াত্ব দিবালোকের ন্যায় মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে উঠে।
সামাজিক নৈরাজ্য থামছে না, বরং বৃদ্ধি পেয়েছে। ধর্ষণ, খুন, রাহাজানি, শিশু পাচার, নারী পাচার অব্যাহত আছে। লাঞ্ছনার কারণে নারীদের আত্মহত্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদক ব্যবসা অব্যাহত আছে, আবার গতি পেয়েছে। এর সাথে মাফিয়া রাজনীতিবিদ, সামাজিক দুর্বৃত্ত ও প্রশাসনের একাংশ জড়িত। পরিবহনে চলছে চাঁদাবাজি, সড়কে মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত আছে।
আইনের শাসন নেই। ত্বকী হত্যা, সাগর-রুনি হত্যাা, তনু হত্যার বিচার এখনও হয়নি। বন্ধ হয়ে আছে, থমকে আছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্বিত। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলি বিপর্যস্ত। রাষ্ট্র-প্রশাসন-বিচার বিভাগ এমনকি সংসদের উপরও কর্তৃত্ব করছে নির্বাহী বিভাগ। সমস্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ বাস্তবায়নের নির্দেশদাতা হয়ে গেছেন নির্বাহী বিভাগের প্রধান—প্রধানমন্ত্রী। সবকিছুই প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীক। মানুষ সব সমস্যার সমাধান প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা করে। এটি একটি রাষ্ট্রের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড হতে পারে না।
রাষ্ট্র প্রচণ্ড নিপীড়নের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের কাছে সরকারি দলও নতজানু, পুরোপুরি নির্ভরশীল। বিশেষ করে গত নির্বাচনের পর জনবিচ্ছিন্নতার কারণে আরও প্রশাসননির্ভর হয়ে পড়েছে সরকারি দল। গণতন্ত্রহীনতার কারণে রাষ্ট্র আরও গণবিরোধী deep state এ পরিণত হয়েছে। লুটেরা ব্যবসায়ী, লুটেরা আমলা, ক্যাডার নির্ভর লুটেরা রাজনীতিবিদের এক পাপচক্র রাষ্ট্র-প্রশাসন-রাজনীতি-অর্থনীতি-সংসদ সবকিছু দখল করে নিয়েছে।
২০১৪-২০১৮ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচনে বর্তমান শাসকদল নির্ভর করেছে রাষ্ট্রযন্ত্র ও পাশের দেশ ভারতের উপর। যা এদেশের জনগণ দেখেছে। তাই রাষ্ট্রের উপর এবং জাতীয় স্বার্থ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব সরকারি দলের হাতে নিরঙ্কুশ আছে বলে মনে হয়। তাই আমরা দেখি আসামের এনআরসি বা নাগরিকপঞ্জি, তিস্তার পানি, সীমান্ত হত্যা নিয়ে সরকার নিশ্চুপ। কাশ্মীরের জনগণের মানবাধিকার নিয়ে সরকারের কণ্ঠ ‘ডিপ্লোমেটিক’। বর্তমান সরকার দলের শক্তি যদি জনগণ হতো এরকম হতো বলে মনে হয় না। কণ্ঠ হতো দৃঢ়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ইন্ধিরা গান্ধীকে বলেছিলেন—‘মিসেস গান্ধী আপনার সেনাবাহিনী আপনি কখন আমার দেশ
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments