- প্রক্রিয়াধীন
- ১৯৮৮
- ২৩৮
মায়া ডিম
অনেকদিন আগে, কেউ জানে না কবে, ভরত পাখি ছিল রাজা, আর মূষিকা ছিল রানী। নিজেদের মাঠ ছিল তাদের। গম বুনল তাতে। গম ফলার পর দানা ভাগাভাগি করতে লাগল। কেবল একটা দানা রয়ে গেল বাড়তি। মূষিকা বললে: ‘ওটা আমিই নিই।’
কিন্তু ভরত বলে: ‘না, ওটা আমার।’
‘বেশ, আধাআধি চেরা যাক।’
ভরত পাখি রাজি হল। ভাঙার জন্যে দানায় কামড় দিয়েই-না মূষিকা সেটা মুখে করে পালাল গর্তে। ভরত পাখি তখন জিগির দিলে, মূষিকা রানীর সঙ্গে লড়াইয়ে জড়ো করল বনের সব পাখি, রানী জড়ো করল সব পশুদের, যুদ্ধ বাধল।
লড়াই চলল সারা দিন, সন্ধেয় জিরিয়ে নেবার জন্যে থামল সবাই। মূষিকা রানী তাকিয়ে দেখে, ডাঁশেরা লড়াইয়ে আসে নি। তখন হুকুম করল তাদের আসতে। ঝাঁক বেধে উড়ে এল ডাঁশেরা। মূষিকা হহুকুম দিলে রাতে পাখিদের পাখার পালক যেন কামড়ে কামড়ে খসিয়ে দেয় ৷
পরের দিন ভোর হতেই রানী চেচিয়ে উঠল: ‘ওঠো সবাই, লড়াই!’
পাখিরা উঠতে গেল, কিন্তু উড়তে আর পারে না, পড়ে যায় মাটিতে। জন্তুরা তাদের কামড়ে খায়। জয় হল রানীর।
তবে একটা ঈগল পাখি দেখে ব্যাপার সুবিধের নয়, বসেই থাকে গাছে, ওড়ে না। এই সময় এল শিকারী। দেখে গাছে বসে আছে ঈগল, অমনি তাক করল তার দিকে! আর ঈগল কাকুতিমিনতি করে: ‘মেরো না আমায়, জোয়ান শিকারী, আমি তোমার খুব কাজে লাগব।’
আরেকবার তাক করল শিকারী, ঈগল ফের মিনতি করে: ‘নিয়ে চলো আমায়, সেবাশুশ্রষা করো, দেখবে তখন কেমন তোমার কাজে লাগি।’
আরো একবার তাক করল শিকারী, ঈগলও মিনতি করতে লাগল: ‘না, না, আমায় মেরো না, ভারি কাজে লাগব তোমার!’
তার কথায় বিশ্বাস হল শিকারীর। গাছে উঠে তাকে তুলে নিয়ে বাড়ি ফিরল। ঈগল তাকে বললে: ‘তুমি আমায় মাংস খাইয়ে যাও যতদিন না পাখায় আমার জোর পাচ্ছি।’ ওদিকে শিকারীর তো ছিল দুটি গরু আর একটি ষাঁড়। একটা গরু সে কাটল। সারা বছর ধরে ঈগল খেল সেটাকে। ঈগল বললে: ‘ছেড়ে দাও আমায়, উড়ে দেখি পাখা আমার গজাল কিনা।’
তা শিকারী তাকে ছেড়ে দিলে। ওড়ে ঈগল, কেবলি ওড়ে, দুপরে ফিরল বাড়িতে। বললে: ‘এখনো জোর আমার কম! অন্য গরুটাও কাটো!’
শিকারী তার কথামতো দ্বিতীয় গরুটাও জবাই করল। এক বছর ধরে ঈগল খেল সেটা। তা খাবার পর ফের উড়ে গেল। উড়ে চলল প্রায় গোটা দিন, ফিরল সন্ধেয়, বললে: ‘এবার ষাঁড়টাকে কাটো ‘
শিকারী ভাবে, ‘কী করা যায়? কাটব নাকি কাটব না?” তারপর বললে: ‘সবই গেল, তা এটাও যাক!’
জবাই করল ষাঁড়টাকে। এক বছর ধরে ঈগল খেল সেটা, তারপর কী ওড়াই না উড়ল! ওই উঁচুতে, উঁচুতে, একেবারে মেঘের নিচে। যখন ফিরল শিকারীকে বললে: ‘ধন্যি তোমায় ভালোমানুষের পো। যত্ন আত্তি করেছ আমার। এবার আমার পিঠে চেপে বসো।’
শিকারী শুধোয়: ‘কেন?’
ঈগল বলে: ‘বলছি বসো!’
শিকারীও বসল।
ঈগল তাকে উড়িয়ে নিয়ে গেল নীল মেঘের ওপারে, তারপর নিচে ফেলে দিল। ঈগল উড়ছিল, পড়ন্ত অবস্থায় ধরে ফেলল শিকারীকে, বললে: ‘তা কিরকম লাগল?’
শিকারী বললে: ‘প্রায় মরো-মরো।’
ঈগল বললে: ‘তুমি যখন তাক করেছিলে আমারও তেমনি লেগেছিল।’ পরে বললে, ‘আবার উঠে বসো।’
ঈগল ফের তাকে নীল মেঘের ওপারে নিয়ে গিয়ে ফেলে দিল মাটিতে, ফের তাকে ধরে ফেলল প্রায় মাটিতে পড়বার মুখে। জিগ্যেস করলে: ‘তা কেমন লাগল?’
শিকারী বললে: ‘মনে হচ্ছিল আমার হাড়গোড় সব খসে পড়েছে।’
ঈগল তখন বলল: ‘আমারও তাই মনে হয়েছিল যখন আরেক বার তুমি তাক করেছিলে। নাও বসো আরেক বার।’
শিকারী বসল।
ঈগল তাকে আরেক বার নিয়ে গেল
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments