মায়া ডিম

অনেকদিন আগে, কেউ জানে না কবে, ভরত পাখি ছিল রাজা, আর মূষিকা ছিল রানী। নিজেদের মাঠ ছিল তাদের। গম বুনল তাতে। গম ফলার পর দানা ভাগাভাগি করতে লাগল। কেবল একটা দানা রয়ে গেল বাড়তি। মূষিকা বললে: ‘ওটা আমিই নিই।’

কিন্তু ভরত বলে: ‘না, ওটা আমার।’

‘বেশ, আধাআধি চেরা যাক।’

ভরত পাখি রাজি হল। ভাঙার জন্যে দানায় কামড় দিয়েই-না মূষিকা সেটা মুখে করে পালাল গর্তে। ভরত পাখি তখন জিগির দিলে, মূষিকা রানীর সঙ্গে লড়াইয়ে জড়ো করল বনের সব পাখি, রানী জড়ো করল সব পশুদের, যুদ্ধ বাধল।

লড়াই চলল সারা দিন, সন্ধেয় জিরিয়ে নেবার জন্যে থামল সবাই। মূষিকা রানী তাকিয়ে দেখে, ডাঁশেরা লড়াইয়ে আসে নি। তখন হুকুম করল তাদের আসতে। ঝাঁক বেধে উড়ে এল ডাঁশেরা। মূষিকা হহুকুম দিলে রাতে পাখিদের পাখার পালক যেন কামড়ে কামড়ে খসিয়ে দেয় ৷

পরের দিন ভোর হতেই রানী চেচিয়ে উঠল: ‘ওঠো সবাই, লড়াই!’

পাখিরা উঠতে গেল, কিন্তু উড়তে আর পারে না, পড়ে যায় মাটিতে। জন্তুরা তাদের কামড়ে খায়। জয় হল রানীর।

তবে একটা ঈগল পাখি দেখে ব্যাপার সুবিধের নয়, বসেই থাকে গাছে, ওড়ে না। এই সময় এল শিকারী। দেখে গাছে বসে আছে ঈগল, অমনি তাক করল তার দিকে! আর ঈগল কাকুতিমিনতি করে: ‘মেরো না আমায়, জোয়ান শিকারী, আমি তোমার খুব কাজে লাগব।’

আরেকবার তাক করল শিকারী, ঈগল ফের মিনতি করে: ‘নিয়ে চলো আমায়, সেবাশুশ্রষা করো, দেখবে তখন কেমন তোমার কাজে লাগি।’

আরো একবার তাক করল শিকারী, ঈগলও মিনতি করতে লাগল: ‘না, না, আমায় মেরো না, ভারি কাজে লাগব তোমার!’

তার কথায় বিশ্বাস হল শিকারীর। গাছে উঠে তাকে তুলে নিয়ে বাড়ি ফিরল। ঈগল তাকে বললে: ‘তুমি আমায় মাংস খাইয়ে যাও যতদিন না পাখায় আমার জোর পাচ্ছি।’ ওদিকে শিকারীর তো ছিল দুটি গরু আর একটি ষাঁড়। একটা গরু সে কাটল। সারা বছর ধরে ঈগল খেল সেটাকে। ঈগল বললে: ‘ছেড়ে দাও আমায়, উড়ে দেখি পাখা আমার গজাল কিনা।’

তা শিকারী তাকে ছেড়ে দিলে। ওড়ে ঈগল, কেবলি ওড়ে, দুপরে ফিরল বাড়িতে। বললে: ‘এখনো জোর আমার কম! অন্য গরুটাও কাটো!’

শিকারী তার কথামতো দ্বিতীয় গরুটাও জবাই করল। এক বছর ধরে ঈগল খেল সেটা। তা খাবার পর ফের উড়ে গেল। উড়ে চলল প্রায় গোটা দিন, ফিরল সন্ধেয়, বললে: ‘এবার ষাঁড়টাকে কাটো ‘

শিকারী ভাবে, ‘কী করা যায়? কাটব নাকি কাটব না?” তারপর বললে: ‘সবই গেল, তা এটাও যাক!’

জবাই করল ষাঁড়টাকে। এক বছর ধরে ঈগল খেল সেটা, তারপর কী ওড়াই না উড়ল! ওই উঁচুতে, উঁচুতে, একেবারে মেঘের নিচে। যখন ফিরল শিকারীকে বললে: ‘ধন্যি তোমায় ভালোমানুষের পো। যত্ন আত্তি করেছ আমার। এবার আমার পিঠে চেপে বসো।’

শিকারী শুধোয়: ‘কেন?’

ঈগল বলে: ‘বলছি বসো!’

শিকারীও বসল।

ঈগল তাকে উড়িয়ে নিয়ে গেল নীল মেঘের ওপারে, তারপর নিচে ফেলে দিল। ঈগল উড়ছিল, পড়ন্ত অবস্থায় ধরে ফেলল শিকারীকে, বললে: ‘তা কিরকম লাগল?’

শিকারী বললে: ‘প্রায় মরো-মরো।’

ঈগল বললে: ‘তুমি যখন তাক করেছিলে আমারও তেমনি লেগেছিল।’ পরে বললে, ‘আবার উঠে বসো।’

ঈগল ফের তাকে নীল মেঘের ওপারে নিয়ে গিয়ে ফেলে দিল মাটিতে, ফের তাকে ধরে ফেলল প্রায় মাটিতে পড়বার মুখে। জিগ্যেস করলে: ‘তা কেমন লাগল?’

শিকারী বললে: ‘মনে হচ্ছিল আমার হাড়গোড় সব খসে পড়েছে।’

ঈগল তখন বলল: ‘আমারও তাই মনে হয়েছিল যখন আরেক বার তুমি তাক করেছিলে। নাও বসো আরেক বার।’

শিকারী বসল।

ঈগল তাকে আরেক বার নিয়ে গেল

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice