- প্রক্রিয়াধীন
- ১৯৮৮
- ২৮৭
রাখাল ছেলে
এক-যে ছিল রাখাল ছেলে, একেবারে ছোটোটি থেকে কেবল ভেড়াই চরায়, আর কিছুই করত না, কিছুই জানত না। একদিন আকাশ থেকে পড়ল পাথর, আর পাথর বলতে পাথর—আট মন ভারি। পাথরটা নিয়ে মজা করতে ভালো লাগত রাখাল ছেলের: কখনো সেটা বাঁধত তার পাঁচনবাড়ির সঙ্গে, কখনো আকাশে ছড়ে দিয়ে নিজে ঘুমিয়ে নিত, ঘুম ভেঙে দেখত পাথর তখনো আকাশে, মাটিতে পড়ে নি, আর যেই পড়ত, দেবে যেত মাটিতে।
মা বকাবকি করত: ‘অমন নুড়িপাথর নিয়ে খেলতে হয়? গায়ে আঁচড় লাগবে।’
ও সেসব খেয়ালই করে না।
এখন রাখাল ছেলে যেখানে থাকত, সে রাজ্যের রাজার পেছনে লাগল এক নাগ, এগল রাজধানীর দিকে; মন তিরিশেক ওজনের এক-একটা পাথর উলটে-পালটে ছুঁড়ে দেয়, পুরী বানায় নিজের জন্যে। আবার দাবিও করে, রাজা তার কন্যের বিয়ে দিক তার সঙ্গে।
ভয় পেয়ে গেল রাজা, দূত পাঠাল সারা রাজ্যে, সারা রাজত্বিতে, এমন মহাবীর কেউ কি আছে যে নিধন করবে নাগকে। অনেক খোঁজাখুঁজি হল, কিন্তু তেমন কাউকে পাওয়া গেল না।
কথাটা কানে গেল রাখাল ছেলের, বড়াই করলে: ‘ও নাগকে আমি আমার পাঁচনবাড়ি দিয়েই শেষ করে দিতে পারি।’
হয়ত এটা সে এমনি রগড় করেই বলেছিল, কিন্তু লোকেরা অমনি সেটা গিয়ে লাগাল রাজার কাছে; রাজাও তলব করল তাকে। এল রাখাল ছেলে রাজার কাছে, রাজা চেয়ে দেখে ভারি ছোটো, বললে: ‘তুই যে এখনো ছোটো!’
আর সে তো বটেই, রাখাল ছেলে তো নাবালকই। কিন্তু সে বলে: ‘তাতে কিছু, এসে যায় না।’
রাজা তাকে দিল দুই বাহিনী সৈন্য। গেল সে সৈন্যদের কাছে, হুকুম দেয়, কী তার দাপট, যেন বিশ বছর ধরে সৈন্য চালিয়ে আসছে। অবাক হয়ে রাজা কেবল হাত ওলটায়। বলে: ‘বাপরে!’
তারপর তো, নাগের পুরী থেকে হাত দশেক দূরে সে হকুম দিলে: ‘নজর রাখো, নাগের পুরীর চিমনি দিয়ে যেই ধোঁয়া বেরবে, বুঝবে আমি জিতলাম। আর যদি আগুন বেরয়, তার মানে আমায় সে হারিয়ে দিয়েছে।’
সৈন্য ফেলে রেখে গেল সে একা। আর নাগ ছিল এতই বলবান যে কাউকে সে তার ধারেকাছেও আসতে দিত না, ফোঁস করে নিশ্বাস ফেলেই সে বহু হাত দূরেই লোককে থামিয়ে দিত। রাখাল ছেলেকে দেখেই নাগ ফোঁস করে নিশ্বাস ছাড়ল। কৈ না, এটাকে সরাতে পারল না।
নাগ শুধোল, ‘তা বীরকিশোর, এসেছ কেন? লড়বে, নাকি মিটমাট করবে?’
‘বীরকিশোর মিটমাট করতে আসে না, লড়তে আসে।’
নাগ বললে: ‘আরে যাও, আরো তিন বছর হেসেখেলে কাটাও, তারপর এসো।’
‘না, হেসেখেলে কাটানো আমার হয়ে গেছে।’
নাগ শুধোল, ‘কিন্তু আমার সঙ্গে লড়বে কী দিয়ে?”
‘এই পাঁচনবাড়ি দিয়ে।’
আর তার পাঁচনবাড়ির দড়া বোধ হয় গোটা একটা বলদের চামড়া দিয়ে পাকানো, ডগায় পাথরটা বাঁধা।
নাগ বললে, ‘তাহলে মারো আমায়!’
‘না, তুমি আমায় মারবে প্রথম!’
এদিকে নাগের তরোয়াল তো সাত হাত লম্বা, হয়ত লোহার, হয়ত ইস্পাতের, কিন্তু রাখাল ছেলেকে তা দিয়ে ঘা মারতেই টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ল তরোয়াল ৷
‘সামলাও তাহলে,’ বলে রাখাল ছেলে, ‘এবার আমি মারব।’
সেই চাবুকটা দিয়ে যেই মারা, নাগ অমনি লুটিয়ে পড়ল, ধোঁয়া উঠল চিমনি দিয়ে। সৈন্যদলের ওদিকে ভারি আনন্দ, বাজনদাররা বাজনা বাজায়, গান ধরে, রাজা আসে রাখাল ছেলেকে বরণ করতে, হাত ধরে নিয়ে যায় পুরীতে। রাজকন্যের বিয়ে দিল তার সঙ্গে, প্রাসাদ বানিয়ে দিল খানিক দূরে, সেখানে নিজের মতো থাকে তারা।
কিন্তু অন্য রাজারা বলাবলি করতে লাগল, ‘এ আবার কী—নিজের মেয়ের বিয়ে কিনা রাখালের সঙ্গে! রাজার নিজেরও আপসোস হচ্ছিল। তাই সবখানে চিঠি পাঠাল, এমন মহাবীর কি আছে রাখাল ছেলেকে যে নিধন
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments