রাখাল ছেলে
এক-যে ছিল রাখাল ছেলে, একেবারে ছোটোটি থেকে কেবল ভেড়াই চরায়, আর কিছুই করত না, কিছুই জানত না। একদিন আকাশ থেকে পড়ল পাথর, আর পাথর বলতে পাথর—আট মন ভারি। পাথরটা নিয়ে মজা করতে ভালো লাগত রাখাল ছেলের: কখনো সেটা বাঁধত তার পাঁচনবাড়ির সঙ্গে, কখনো আকাশে ছড়ে দিয়ে নিজে ঘুমিয়ে নিত, ঘুম ভেঙে দেখত পাথর তখনো আকাশে, মাটিতে পড়ে নি, আর যেই পড়ত, দেবে যেত মাটিতে।
মা বকাবকি করত: ‘অমন নুড়িপাথর নিয়ে খেলতে হয়? গায়ে আঁচড় লাগবে।’
ও সেসব খেয়ালই করে না।
এখন রাখাল ছেলে যেখানে থাকত, সে রাজ্যের রাজার পেছনে লাগল এক নাগ, এগল রাজধানীর দিকে; মন তিরিশেক ওজনের এক-একটা পাথর উলটে-পালটে ছুঁড়ে দেয়, পুরী বানায় নিজের জন্যে। আবার দাবিও করে, রাজা তার কন্যের বিয়ে দিক তার সঙ্গে।
ভয় পেয়ে গেল রাজা, দূত পাঠাল সারা রাজ্যে, সারা রাজত্বিতে, এমন মহাবীর কেউ কি আছে যে নিধন করবে নাগকে। অনেক খোঁজাখুঁজি হল, কিন্তু তেমন কাউকে পাওয়া গেল না।
কথাটা কানে গেল রাখাল ছেলের, বড়াই করলে: ‘ও নাগকে আমি আমার পাঁচনবাড়ি দিয়েই শেষ করে দিতে পারি।’
হয়ত এটা সে এমনি রগড় করেই বলেছিল, কিন্তু লোকেরা অমনি সেটা গিয়ে লাগাল রাজার কাছে; রাজাও তলব করল তাকে। এল রাখাল ছেলে রাজার কাছে, রাজা চেয়ে দেখে ভারি ছোটো, বললে: ‘তুই যে এখনো ছোটো!’
আর সে তো বটেই, রাখাল ছেলে তো নাবালকই। কিন্তু সে বলে: ‘তাতে কিছু, এসে যায় না।’
রাজা তাকে দিল দুই বাহিনী সৈন্য। গেল সে সৈন্যদের কাছে, হুকুম দেয়, কী তার দাপট, যেন বিশ বছর ধরে সৈন্য চালিয়ে আসছে। অবাক হয়ে রাজা কেবল হাত ওলটায়। বলে: ‘বাপরে!’
তারপর তো, নাগের পুরী থেকে হাত দশেক দূরে সে হকুম দিলে: ‘নজর রাখো, নাগের পুরীর চিমনি দিয়ে যেই ধোঁয়া বেরবে, বুঝবে আমি জিতলাম। আর যদি আগুন বেরয়, তার মানে আমায় সে হারিয়ে দিয়েছে।’
সৈন্য ফেলে রেখে গেল সে একা। আর নাগ ছিল এতই বলবান যে কাউকে সে তার ধারেকাছেও আসতে দিত না, ফোঁস করে নিশ্বাস ফেলেই সে বহু হাত দূরেই লোককে থামিয়ে দিত। রাখাল ছেলেকে দেখেই নাগ ফোঁস করে নিশ্বাস ছাড়ল। কৈ না, এটাকে সরাতে পারল না।
নাগ শুধোল, ‘তা বীরকিশোর, এসেছ কেন? লড়বে, নাকি মিটমাট করবে?’
‘বীরকিশোর মিটমাট করতে আসে না, লড়তে আসে।’
নাগ বললে: ‘আরে যাও, আরো তিন বছর হেসেখেলে কাটাও, তারপর এসো।’
‘না, হেসেখেলে কাটানো আমার হয়ে গেছে।’
নাগ শুধোল, ‘কিন্তু আমার সঙ্গে লড়বে কী দিয়ে?”
‘এই পাঁচনবাড়ি দিয়ে।’
আর তার পাঁচনবাড়ির দড়া বোধ হয় গোটা একটা বলদের চামড়া দিয়ে পাকানো, ডগায় পাথরটা বাঁধা।
নাগ বললে, ‘তাহলে মারো আমায়!’
‘না, তুমি আমায় মারবে প্রথম!’
এদিকে নাগের তরোয়াল তো সাত হাত লম্বা, হয়ত লোহার, হয়ত ইস্পাতের, কিন্তু রাখাল ছেলেকে তা দিয়ে ঘা মারতেই টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ল তরোয়াল ৷
‘সামলাও তাহলে,’ বলে রাখাল ছেলে, ‘এবার আমি মারব।’
সেই চাবুকটা দিয়ে যেই মারা, নাগ অমনি লুটিয়ে পড়ল, ধোঁয়া উঠল চিমনি দিয়ে। সৈন্যদলের ওদিকে ভারি আনন্দ, বাজনদাররা বাজনা বাজায়, গান ধরে, রাজা আসে রাখাল ছেলেকে বরণ করতে, হাত ধরে নিয়ে যায় পুরীতে। রাজকন্যের বিয়ে দিল তার সঙ্গে, প্রাসাদ বানিয়ে দিল খানিক দূরে, সেখানে নিজের মতো থাকে তারা।
কিন্তু অন্য রাজারা বলাবলি করতে লাগল, ‘এ আবার কী—নিজের মেয়ের বিয়ে কিনা রাখালের সঙ্গে! রাজার নিজেরও আপসোস হচ্ছিল। তাই সবখানে চিঠি পাঠাল, এমন মহাবীর কি আছে রাখাল ছেলেকে যে নিধন
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
৳৯৯
এক মাস
৳৩০
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments