-
সোভিয়েট ইউনিয়নে শ্রেণীর অস্তিত্ব লোপ পাইয়াছে, সঙ্গে সঙ্গে শোষণেরও অবসান হইয়াছে। শ্রেণীই যদি না থাকে, তবে শোষণ করিবে কে কাহাকে? শ্রেণীর মূলোচ্ছেদ করাই ছিল ১৯১৭’র নবেম্বর বিপ্লবের লক্ষ্য। ১৯৩৩’এ, দ্বিতীয় পঞ্চ বার্ষিকী পরিকল্পনার সময়ে এই কাজটি সুসম্পূর্ণ হয়। যদিও শ্রেণীহীন সমাজই শ্রমিকের লক্ষ্য তথাপি সংগ্রাম করিয়াই তাহা অর্জন করিতে হইবে। যে-সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এই সংগ্রাম চালাইতে হইবে, প্রথমত শ্রমিকের পক্ষে উহার আসল রূপটি জানিয়া লওয়া অত্যাবশ্যক।
পুঁজিতন্ত্র শ্রেণীর ভিত্তির উপর স্থাপিত। শ্রেণী পুঁজিতন্ত্রের পূর্ববর্ত্তী সমাজ-ব্যবস্থায়ও ছিল। অবশ্য আদিমযুগে শ্রেণী বলিয়া কোন কিছু ছিল না। পুঁজিতন্ত্রের অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, পুঁজিতন্ত্র পূর্বেও ছিল, পরেও থাকিবে। কিন্তু পূর্ববর্তী সমাজ-ব্যবস্থাগুলিকে অস্বীকার করা যখন অসুবিধা
-
লেখক: পিনাকীলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের দৌলতে পেনিসিলিনের নাম আজ আর কারও অজানা নেই। দু'এক বছরের মধ্যেই খবরের কাগজের পাতায় পাতায় এ খবর সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে অথচ পেনিসিলিন নেহাৎ নূতন নয়। কতকটা অভাবনীয় ও নাটকীয়ভাবে পেনিসিলিনের অস্তিত্ব ও রোগনিবারণী ক্ষমতা ধরা পড়ার জন্যই বোধ হয় এটি এত অল্পকালের মধ্যেই বহুজনপরিচিত ও বহুপ্রচলিত হয়েছে।
১৮৭৭ সালে লুই পাস্তুর লক্ষ্য করেন পরখনলের মধ্যে একজাতের ব্যাধিজীবদের (ব্যাক্টিরিয়া) বৃদ্ধি অন্য আর একজাতের ব্যাধিজীবদের সংস্পর্শে ও সমকালীন বৃদ্ধির ছোঁয়াচে থেমে যায়। এর কারণ এখন অজানা নেই। ব্যাধিজীবরা হ'ল অনুদেহী অনুজীব- (মাইক্রো-অরগ্যানিজম্)। তাদের প্রাণক্রিয়ার ফলে নানা জাতের সুনির্দিষ্ট রাসায়নিক পদার্থ তৈরী হয়। এক জাতের ব্যাধিজীবদের বৃদ্ধি-বিরোধী
-
মেঘনার পাড় ভেঙে একটা শাখানদী বেরিয়েছিল। তার নাম তিতাস। এখন সে বেশ বড় নদী। আমরা তারই তীরে বাস করি। তার জলের কিনারায় লগি গেড়ে আমরা নাওগুলো বেঁধে রাখি। তার পাড়ের মাটিতে ঘাসের উপর বাঁশের "আড়া" বেঁধে আমরা জালগুলো শুকোতে দিই। পল্লির ভেতর থেকে যে-পথ ঘাটে গিয়ে ঠেকেছে, তারই একপাশে মাটিতে গর্ত করে আমরা জালে গাব দিই, আরেক পাশে ডাঙায় তুলে আমরা না'য়ে দিই আলকাতরা।
আমরা এক সংসারে দুই ভাই। দাদা আর আমি। আমি ধরি মাছ, দাদা করে মাছের ব্যাপার। আমি নদীতে জাল ফেলি, জাল তুলি, রাজপুরে ঘাটে নিয়ে সে-মাছ নগদ দামে বেচে আসি। দাদা না'য়ে না'য়ে ঘুরে তার মাছের ডালি
-
বিনিময় প্রথার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে পণ্যোৎপাদন বিকাশ লাভ করিয়াছে। পণ্যোৎপাদনের বিকশিত অবস্থায় সরাসরি দুইটী পণ্যের বিনিময় হয় না। পণ্য ক্রয় বিক্রয় হয়, উহাদের মুদ্রায় পরিবর্তিত করা হয়। মূল্যের মুদ্রারূপটি সম্পর্কে ভাল করিয়া জানার পূর্বে আগেকার মূল্যরূপ এবং উহাদের ক্রমিক বিকাশের সঙ্গে পরিচিত হওয়া আবশ্যক।
উৎপাদন যখন প্রায় সবটাই ছিল স্বাভাবিক, তখন পণ্যে পণ্যে বিনিময় হইত আকস্মিক ভাবে। পণ্যের সহিত পণ্যের বিনিময় হইত পৃথক পৃথক ভাবে। এইরূপ বিনিময়কে বলা যাইতে পারে প্রাথমিক মূল্যরূপ। ২০ গজ বস্ত্র = ১ কোট, অথবা ক পণ্য ব = খ পণ্য দ; এইরূপ সমীকরণের মধ্য দিয়া প্রাথমিক মূল্যরূপের প্রকাশ হয়। বৈজিক সংখ্যায় সমীকরণটীতে ‘ব’ এবং ‘দ’
-
সন্ধ্যার কিছু আগে নীরেন ট্রেন হইতে নামিল। তাহার জানা ছিল না এমন একটা ছোট্ট স্টেশন তাদের দেশের। কখনো সে বাংলা দেশে আসে নাই ইতিপূর্বে এক কলিকাতা ছাড়া।
নীরেনের দাদামশাই রায়বাহাদুর শ্যামাচরণ গাঙ্গুলী তাহাকে বলিয়া দিয়াছিলেন বাংলা দেশের পল্লিগ্রামে গিয়া সে যেন জল না-ফুটাইয়া খায় না, মশারি ছাড়া শোয় না, নদীর জলে না-স্নান করিয়া তোলা জলে স্নান করে। নীরেনের স্বাস্থ্যটি বেশ চমৎকার, ডাম্বেল মুগুর ভাঁজিয়া শরীরটাকে সে শক্ত করিয়া তুলিয়াছে, বড়োলোকের দৌহিত্র, অভাব-অনটন কাহাকে বলে জানে না। মনে নীরেনের বিপুল উৎসাহ। চোখের স্বপ্ন এখনও কাঁচা, সবুজ।
একটা লোক প্ল্যাটফর্মের প্রান্তে দাঁড়াইয়া প্ল্যাটফর্মে সাজানো দূর্বাঘাসের ওপর গোরু ছাড়িয়া দিয়া গোরুর দড়ি হাতে
-
ছামুদ জাতির আরবের অন্তর্গত হজর ও ওয়াদিলকোর অঞ্চলে বাস করতো। তারা পাথর কেটে সুন্দর গৃহ নির্মাণ করতে জানতো। জীবজন্তু মারবার জন্যে পাথর কেটে আশ্চর্য রকম অস্ত্রশস্ত্র তৈরী করতো। এদের মধ্যে কতক শ্রেণীর লোক পাহাড়ের গুহায় বাস করতো। এরা আল্লাহতা’লাকে মানতো। যা কিছু বড় এবং অদ্ভুত তাদের চক্ষে লাগতো তারই প্রতিমূর্তি পাথর দ্বারা তৈরী করে পূজা করতো। তাছাড়া দিনরাত ঝগড়া ও দাঙ্গাহাঙ্গামা নিয়ে থাকতো। আল্লাহতা’লা তাদের মধ্যে হযরত ছালেহকে নবীরূপে পাঠালেন। হযরত ছালেহ তাদের ডেকে বললেন: ভাইসব খোদা তোমাদের এই মাটি হতে সৃষ্টি করেছেন, আবার এই মাটিতেই লয় করবেন। তাঁর কতা একবার ভেবে দেখ, তিনি ছাড়া তোমাদের কাছে আমি পরমার্থিক আলো
-
আমি সকালে উঠেই চণ্ডীমণ্ডপে যেতাম হীরু মাস্টারের কাছে পড়তে।
আজ ঘুম ভাঙতে দেরি হওয়ায় মনে হল কাল অনেক রাত্রে বাবা বাড়ি এলেন মরেলডাঙা কাছারি থেকে। আমরা সব ভাইবোন বিছানা থেকে উঠে দেখতে গেলাম বাবা আমাদের জন্যে কী কী আনলেন।
চণ্ডীমণ্ডপের উঠানে পা দিতেই রূপো কাকা আমাদের বকে উঠল—এ্যাঃ, রাজপুত্তুর সব উঠলেন এখন! মারে গালে এক এক চড় যে চাবালিটা এমনি যায়! বলি, করে খাবা কীভাবে? বামুনের ছেলে কি লাঙল চষতি যাবা?
বাবা বাড়ি থাকতেও রূপো কাকা আমাদের চোখ রাঙাবে।
দাদা ভয়ে ভয়ে উত্তর দিলে—রাতে ঘুম হয়নি রূপো কাকা।
—কেন রে?
—ছারপোকার কামড়ে। বাব্বাঃ, যা ছারপোকা খাটে।
—যা যা তাড়াতাড়ি পড়তে
-
পৃথিবী সৃষ্টির একেবারে প্রথশ দিকের কথা। তখন এখানে কোন জীবজন্তু, পশুপক্ষী বা কীটপতঙ্গ কিছুই ছিল না। সমস্ত দুনিয়ায় বাস করতো শুধু জিনেরা। তারা কেবলই নিজেদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি, মারামার নিয়েই থাকতো, ভুলেও কখনো আল্লাহ তা’লাকে স্মরণ করতো না। একদিন আজাযিল খোদার দরগায় আরজ (প্রার্থনা) করলো: হে প্রভু, আমাকে হুকুম দাও, আমি দুনিয়ায় গিয়ে জিনবংশ গারত (ধ্বংস) করে দুনিয়া থেকৈ পাপ দূর করে দেই। খোদা তার আরজ মঞ্জুর করলেন। আজাযিল চল্লিশ হাজার ফেরেশতাকে সঙ্গে নিয়ে নেমে এলো দুনিয়াতে। জিনদের সৎপথে আনবার জন্য অনক সদুপদেশ দিলো, কিন্তু তারা সে কথাতে একেবারে কর্ণপাতই করলো না। আজাযিল কি আর করে। তখন তাদের ধ্বংস করে বেহেশতে
-
মাটির দ্বারা প্রস্তুত তুচ্ছ মানব আদমের জন্য আজাযিলের এই দুর্দশা ঘটলো। আজাযিল সেই নিরপরাধ আদমকে জব্দ করবার জন্য সুযোগ খুঁজতে লাগলো।
খোদাতা’লা বেহেশতে বিচিত্র উদ্যান রচনা করে নানারকম সুন্দর সুন্দর ফল ও ফুলের গাছ সৃষ্টি করলেন। সেই বাগানের দু’টি গাছ সৃষ্ট হলো—তার একটি নাম জীবন-বৃক্ষ, অপরটির নাম জ্ঞান-বৃক্ষ। খোদা আদমকে সেই বাগানে বাস করবার অনুমতি দিলেন। খোদা আদমকে অনুমতি দিলেন—বাগানের সমস্ত গাছের ফল সে খেতে পারে, কিন্তু জীবন-বৃক্ষ ও জ্ঞান-বৃক্ষের ফল সে কখনো যেন ভক্ষণ না করে। এই গাছের ফল আহার করামাত্র তার মৃত্যু ঘটবে।
এর পরে অনেক দিন চলে যাবার পর খোদা মনে করলেন আদমেরন একজন সঙ্গিনী সৃষ্টি করা
-
হযরত আদ ও বিবি হাওয়া শয়তাদেরকুচক্রে পড়ে বেহেশতচ্যুত হলেন। তাঁরা আল্লাহতা’লার অভিশাপে পৃথিবীতে এসে বাস করতে লাগলেন। ক্রমে তাঁদের সন্তান-সন্ততি জন্মগ্রহণ করতে লাগলো। হযরত আদমের বংশধরগণের মধ্যে হাবিল ছিলেন অতিশয় ধর্মপ্রাণ। তিনি রাতদিন কেবল খোদার বন্দেগীতে মশগুল হয়ে থাকতেন। অন্য কোন দিকে তাঁর দৃষ্টি ছিলো না।
ইবলিস আদমের ওপরে হাড়ে হাড়ে চটে ছিলো। সে কেবল সুযোগ খুঁজছিলো কি করে এঁর সন্তানগণকে পথভ্রষ্ট করা যায়। অবশেষে অনেক প্রলোভন দিয়ে কাবিল নামক পুত্রকে আপনার অধীনে আনতে সমর্থ হলো। কাবিল শয়তানের ফেরেরীতে পড়ে মুহুর্তের জন্য ভুলেও একবার আল্লাহতা’লার নাম মুখে আনতো না, বরং দিনে দিনে পাপের পথে অধিক অগ্রসর হতে লাগলো।
একদিন হাবিল
-
বেবিলন দেশের নাম হয়তো তোমরা শুনেছো! সেই দেশের সম্রাট নমরূদ ছিলেন যেমন অহঙ্কারী তেমনি অত্যাচারী। রাজকোষে ছিল তাঁর প্রচুর মণিরত্ন, ধন-ঐশ্বর্য-দেহে বীর্য, অগণিত লোক-মস্কর।
একবার অগণিত সৈন্যসামন্ত নিয়ে তিনি অভিযানে বের হলেন। দেশের পর দেশ তাঁর করায়ত্ত হতে লাগলো। চারদিকে বয়ে গেলো রক্তের নদী—শোনা যেতে লাগলো নিপীড়িতের আর্তনাদ—দুর্বলের হাহাকার—বুকফাটা ক্রন্দন। তবু বিরাম নাই—বিশ্রাম নাই—শুধু ধ্বংস আর ধ্বংস—জয় আর জয়। গ্রীস, তুরস্ক, আরব, পারস্য ও পাকভারতে তাঁর বিজয়-নিশান উড়তে লাগলো। তিনি হলেন অর্ধ পৃথিবীর একচ্ছত্র অধিপতি। দম্ভে তাঁর বুক উঠলো ফুলে—দুনিয়াটাকে খেলাঘর বলে তাঁর মনে হতে লাগলো।
একদিন নমরূদ আম-দরবারে বসে অমাত্য-পারিষদ নিয়ে খোশগল্পে মশগুল আছেন, এমন সময়ে একজন ফকির এসে
-
বিহি হাজেরা কাঁদে দূর মরু ময়দানে,
ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ তাঁরে ত্যাজে কোন প্রাণে।
সারা ও হাজেরা বিবি সতীন দুইজন,
হাজেরাকে ইব্রাহিম দেন নির্বাসন;
মরু আরবের ময়দানে একা কাঁদিছে হায়!
ধূ ধূ বালু-পানি হায় নাহি কোন খানে।
‘পানি কোথা পানি দাও’ পানি বলি ফুকারে নারী;
পিপাসায় প্রাণ বাহিরায়—কোথায় বারী।
দেহ পুড়ে যায় সাহারার ‘লু’ হাওয়ায়
আগুন ঢালিছে রোদ প্রাণ বুঝি যায়-
থৈ-থৈ জ্বলে বালু-বালুর সাগর,
মরীচিকা মনে হয় ওই সরোবর,
অভাগী ছুটিয়া যায় পানির সন্ধানে।
নয়নে অশ্রু নাই-দেহ ফেটে লহু বুঝি ঝরে,
এক ফোঁটা পানি দাও—কলিজা বিদরে!
শিশু ইসমাইল পড়ে মাটিতে লুটায়
হাত পা ছুঁড়িয়া শিশু খেলা করে তায়,
পায়ের আঘাতে তার
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.