- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
আদ জাতির ধ্বংস
মহাপ্লাবনের পর বহু বছর কেটে গেছে।
আরবে আদ নামক একটা জাতি অতিশয় শক্তিশালী হয় উঠেছিলো। তারা খোদাকে মানতো না—ইচ্ছা মতো যা খুশী করতো। কখনো পাথর, কখনো পুতুল, কখনো গাছপালাকে পূজা করতো। খোদাতা’লা তাদের হেদায়েত করার জন্য হুদ (আঃ) কে সৃষ্টি করলেন। হুদ তাদের এই কুকার্য দেখে মনে মনে অতিশয় দুঃখিত হলেন। তিনি আপনার জ্ঞাতিবর্গকে ডেকে বললেন: তোমাদের কুপথ থেকে সৎপথে আনবার জন্য খোদা আমাকে পাঠিয়েছেন। যদি তোমরা তাঁর প্রতি ঈমান না আন তবে তিনি কঠিন গজব তোমাদের উপরে নাজেল করবেন। তোমরা আল্লাহতা’লার এবাদত করো। আল্লাহ ছাড়া আর কেউ উপাস্য নাই। তিনি এক, অদ্বিতীয় এবং নিরাকার। তিনি দয়ালু ও মহান।
কাফেররা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলো: তুমি কি ভেবেছো যে তোমার কথা মতো আমাদের ধর্ম ছেড়ে তোমার নিরাকার আল্লাহর এবাদত করবো? ও ব চালাকী আমাদের কাছে চলবে না। যদি বেশি বাড়াবাড়ি করো তবে মেরে তোমার হাড়গুড়োঁ করে দেবো। হযরত হুদ তাদের কতা গ্রাহ্য মাত্র করলেন না। তিনি এই কুপথগামী লোকদের ধর্ম পথে আনবার জন্য যথাসাধ্য উপদেশ দিতে লাগলেন। মাত্র অল্প কয়েকজন লোক তাঁর কথায় বিশ্বাস করে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলো। অধিকাংশ লোকই তাঁর উপদেশ শুনলো না, অবহেলা ভরে বললো: হুদ! তুমি তো আমাদের মতো মানুষ ছাড়া আর কিছুই নও। বড় বড় বক্তৃতা করে আমাদের মধ্যে সম্মান লাভ করতে চাও এই তো তোমার উদ্দেশ্য। যদি আল্লাহতা’লার শিক্ষা দেবার দরকার হয়, তাহলে তিনি অন্যবাবে আমাদের শিক্ষা দিবেন। এজন্য তুমি এত মাথা ঘামাও কেন? তুমি নিজির চরকায় তেল দাও গে, আমাদের জন্য ভেবো না।
হযরত হুদ যখন লোকদের সৎপথে আনতে পারলেন না, তখন তিনি নিরুপায় হয়ে আল্লাহতা’লার নিকট মনের দুঃখে আরজ করতে লাগলেন: হে রহমান রহিম আমার কথায় এরা কর্ণপাত মাত্র করলো না। এরা বড় পাপী। তুমি ছাড়া এদের শিক্ষা দিতে পারে এমন আর কেউ নেই। তুমি এদের কঠিন শাস্তি দিয়ে বুঝিয়ে দাও তোমার মহান অস্তিত্ব। তুমি সর্বশক্তিমান—তুমি এদের চেতনা জাগ্রত করো।
খোদাতা’লা তাঁর প্রার্থনা মঞ্জুর করলেন। এরপর হুদ ধর্ম প্রচার বন্ধ রেখে নীরবে নিজের ঘর-সংসারের কাছে মনঃসংযোগ করলেন।
কাফেররা হুদকে এইরূপে চুপচাপ থাকতে দেখে খুব ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতে লাগলো। সবাই বলতে লাগলো। হুদ এবার ঠিক বুঝেছে, আমাদের ঠকানো অত সোজা নয়—তাই চুপচাপ বসে গেছে ঘর সংসার নিয়ে। বেচারা এতো গলাবাজি করলো বটে কিন্তু সবই পণ্ড হলো।
একদিন আল্লাহ হযরত হুদকে জানিয়ে দিলেন: এবার পৃথিবীতে ভয়ানক ঝড় বৃষ্টি আরম্ভ হবে। তোমরা পরিজনবর্গ এবং সামাজ্য দু’চারজন অনুচর যা আছে তাদের সঙ্গে নিয়ে একটি নিরাপদ স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করো।
খোদারআদেশ পেয়ে হুদ আত্মীয়-পরিজনদের নিয়ে একটি গহবরে গিয়ে লুকালেন। অতঃপর ভীষণ ঝড় ও শিলাবৃষ্টি আরম্ভ হলো। প্রবল ঝড় ও ঘুর্ণিবায়ুতে মাটির ওপরে ঘরবাড়ি গাছপালা কিছুই আর দাঁড়িয়ে রইলো না, সমস্ত ধ্বংস হয়ে গেলো।
তারপর ধীরে ধীরে প্রকৃতি শান্ত হলো। তখন দেখা গেলো আদ জাতির লোকদের ঘরবাড়ির চিহ্নমাত্র নেই এবং তারাও সবংশে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।
খোদা পাপীদের এই রকমেই শাস্তি দিয়ে থাকেন।
কোরানের গল্প
বন্দে আলী মিয়া
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments