ছাত্রানাং অধ্যয়নং তপঃ

লিন্টু আর পিন্টু দু ভাই। যমজ। একই ক্লাসে পড়ে। তবে পড়াশুনার সঙ্গে তাদের ঘোড়াই সম্পর্ক ছিল। শয়তানি ও বাঁদরামিতে দুজনেই ওস্তাদ। দুটো ছোটখাট বিছে বললেও অত্যুক্তি হবে না।

ক্লাস সিক্সে পর পর দুবার যখন ওরা ফেল করল তখন ওদের আব্বা হায়দার সাহেব ঠিক করলেন যে, ওদের জন্যে এবার প্রাইভেট টিউটর রাখতে হবে। রাখলেনও একজন মাস্টার। কিন্তু কয়েক দিন পরই বিদেয় হতে হল মাস্টারকে। ব্যাপারটা আর কিছুই নয়।

মাল্টার সাহেব পরম আরামে চেয়ারে বসে চোখ বুজে নিদ্রাদেবীর আরাধনা করছিলেন।

আর তখনই হায়দার সাহেবের দৃষ্টিতে পড়ল ব্যাপারটা। পরের দিনই বিদেয় করে দিলেন মাস্টারকে। এ রকম ফাঁকিবাজ মাস্টারকে তিনি কিছুতেই বরদাশত করতে পারেন না।

এরপরে রাখলেন আরেকজন মাস্টার। কিন্তু সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। আবার তাঁর চোখে পড়ল একই ব্যাপার। মাস্টার সাহেব পরম আরামে নিদ্রা দিচ্ছেন, আর তাঁর সুযোগ্য ছাত্রদ্বয় নিশ্চিন্তে চকলেট চিবোচ্ছে।

সেই মাস্টারও বিদেয় হল। এবার মনে মনে আশ্চর্য হলেন একটু হায়দায় সাহেব। দুজন মাস্টারই এভাবে পড়াতে এসে ঘুমিয়ে পড়ল কেন? কিন্তু তিনি কিছুই বুঝতে পারলেন না।

একবার ভাবলেন আর মাস্টার রাখবেনই না। পরে ভাবলেন, একবার শেষ চেষ্টা করে দেখাই যাক। এবারও যদি সে রকম ফাঁকিবাজ মাল্টার আসে, তাহলে আর মাস্টার রাখবেনই না। এই শেষবার।

লিন্টু-পিন্টু খবরটা পেয়ে একটু স্বস্তির বিশ্বাস ফেলল। দুজন মাস্টার তো যা হোক বিদেয় হয়েছে। এবার তৃতীয়টা কোনমতে বিদেয় হলেই হয়। আব্বা বলেছেন, 'এই শেষবার।' তারপর আর তাদের পায় কে? সারাটা বছরই ক্রিকেট, ফুটবল, সিনেমা-থিয়েটার নিয়ে হৈ চৈ করে কাটিয়ে দেওয়া যাবে। পড়াশুনার জন্যে তাদের কোন চিন্তা নেই। তাদের মতে, স্কুলে তো পড়াশুনা হয়ই, বাড়ীতে আবার কি দরকার?

তিন নম্বর মাস্টার অসিত বাবু বেশ শক্ত সমর্থ মানুষ। হায়দার সাহেব দেখে একটু নিশ্চিন্ত হলেন। ইনি হয়তো আগের মাস্টারদের মত ফাঁকি দেবেন না।

অসিত বাবু যেদিন প্রথম পড়াতে এলেন, সেদিন মুখ খুব গম্ভীর করে তাঁর ছাত্র দুজন এসে বসল টেবিলের দুধারে দুটো চেয়ারে। অসিত বাবু প্রথমে দু' একটা উপদেশ দিলেন তাঁর ছাত্রদের। বললেন: সংস্কৃতে একটা কথা আছে, 'ছাত্রণাং অধ্যয়নং তপঃ'। যার মানে হল অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।

পিন্টু বলল: জানি স্যার।

অসিতবাবু বললেন, তাই নাকি?

: অনেকবার অনেকের মুখে শুনেছি কিনা কথাটা, তাই সহজে ভুলতে পারি না।

অসিতবাবু হাসলেন: তাহলে ভালোই বলতে হবে। আমি আশা করি তোমরা শুধু ঐ প্রবাদ বাক্যটি মনে রেখেই ক্ষান্ত হবে না, কাজ কর্মেও তা প্রয়োগ করে আমাকে সন্তুষ্ট করবে।

: নিশ্চয়ই স্যার, নিশ্চয়ই স্যার।

সোৎসাহে বলে উঠল লিন্টু ও পিন্টু একই সঙ্গে।

: দেখি, কি বই ওটা? অসিতবাবু বললেন।

পিন্টু এগিয়ে দিল বইখানা। ইতিহাস বই। অসিতবাবু কয়েকটি পাতা উল্টিয়ে বললেন: আচ্ছা আমি তোমাদের কয়েকটা সহজ প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছি। উত্তর দাও তো।

লিন্টু আর পিন্টুর মুখ সাংঘাতিক গোমড়া হয়ে গেল। মনে হচ্ছে যেন তারা কোন তেতো ওষুধ গিলতে যাচ্ছে। বেশ তো, এতক্ষণ কথায় কথায় সময় কেটে যাচ্ছিল। আবার প্রশ্ন ট্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে যাওয়া কেন বাপু? কিন্তু উপায় নেই। অসিতবাবু ততক্ষণে প্রশ্ন করে বসেছেন। আচ্ছা বলতো প্রথম পাণিপথের যুদ্ধ কখন ও কাদের মধ্যে হয়েছিল?

প্রথম পাণিপথের যুদ্ধ। তাই তো নামটাতো বেশ চেনা চেনাই মনে হচ্ছে। পিন্টু মনে মনে আন্দাজ করতে থাকে। বইয়ের কোন পৃষ্ঠায় যেন আছে এটা।

লিন্টু প্রশ্ন করেও পাণিপথের যুদ্ধ কয়টা হয়েছিল স্যার।

: তিনটা।

তিনটা। পিন্টু মনে মনে আওড়ালো কথাটা। তাহলে প্রথম যুদ্ধটা নিশ্চয়ই অনেক আগে হয়েছিল? আন্দাজ করে উত্তরটা দিল পিন্টুঃ খৃস্টের জন্মের

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice