রাশিয়ায় গ্রামের গরীবরা মুক্তি পাইল কীভাবে?
অক্টোবর বিপ্লব ও গ্রামের গরিব
আজ যে কাহিনী বলিব, ৭০ বৎসর আগে তাহার শুরু হইয়াছিল। রাশিয়ায় শ্রমিক, ক্ষেতমজুর আর কৃষকরা মিলিয়া—জোট বাঁধিয়া ঘটাইয়াছিল এই মহান ঘটনা। ইহার ফলে সারা দুনিয়ার নগরবাসী বড়লোকদের বুক কাঁপিয়া উঠিয়াছিল। শ্রমিক আর গ্রামের গরিবদের ভাগ্য বদল সেই দিন হইতে শুরু হইয়াছিল রাশিয়ায়। তারপর তাহাদের দেখাদেখি আরো কয়েকটি দেশের খাটিয়া খাওয়া শোষিত মানুষরা এইরূপ ঘটনা ঘটাইল। আর এখন সারা দুনিয়ার শ্রমিক আর গ্রামের গরিব মানুষদের কাছে যতই ধরা পড়িতেছে কিভাবে তাহারা ঠকে, ততই তাহারা এই রকম ঘটনা ঘটাইবার যোগাড় করিতেছে।
আজ হইতে ৭০ বৎসর আগে ইংরেজি ১৯১৭ সালে রাশিয়ার শ্রমিক আর গ্রামের গরিব মানুষ সারা দেশময় জাগিয়া উঠিয়া যাহা ঘটাইয়াছিল শুদ্ধ বাংলায় তাহাকে বলে বিপ্লব। বিপ্লব অর্থ উল্টাইয়া দেওয়া। রাশিয়ার শ্রমিক, ক্ষেতমজুর ও কৃষকরা মিলিয়া গরিবের মাথায় ধনীদের কাঁঠাল ভাঙ্গিয়া খাওয়ার সমাজ ব্যবস্থাটা সমূলে উল্টাইা দিয়াছিল। আর উল্টানোর পরই ঘটনার শেষ হইয়া গেল না। গ্রামের গরিব শহরের শ্রমিক আর তাহাদের পক্ষের সব শিক্ষিত মানুষকে লইয়া তৈয়ার হইয়াছিল বলশেভিক (কমিউনিস্ট) পার্টি। এই পার্টি সমাজতন্ত্র কায়েম করিতে লাগিয়া গেল। ধনিকশ্রেণীর শোষণের জাল চিরদিনের জন্য ছিড়িয়া ফেলিয়া দিয়া শোষণমুক্ত একটা সুন্দর সমাজব্যবস্থা তাহারা দাঁড় করাইল। যে ব্যবস্থার ফলে চিরদিনের জন্য খতম হইল শ্রমিকের উপর মালিকের শোষণ আর গ্রামের গরিবদের উপর শহরের ধনিকদের শোষণ। ১৯১৭ সালের অক্টোবর মাসে রাশিয়ার মানুষ বিপ্লব শুরু করিয়াছিল। এই বৎসর মহান অক্টোবর বিপ্লবের ৭০ বৎসর পূর্ণ হয়। সারা দুনিয়ার মেহনতী গরীব মানুষ, শহরের শ্রমিক আর যাহারা গ্রামের ক্ষেতমজুর-কৃষক, যাহারা নিজেদের দেশে বিপ্লব করিয়াছে, আর এখনো বিপ্লব করিতে পারে নাই, কিন্তু করিবার জন্য তৈয়ার হইতেছে; তাহারা সবাই এই বৎসর অক্টোবর বিপ্লবের ৭০তম বার্ষিকী পালন করিয়াছে। সারা দুনিয়ার গরিব মানুষরা বিশেষ করিয়া গ্রামের গরিবরা এই উৎসব পালন করিব গ্রামে গ্রামে। দিনের পর দিন আমরা হাড়ে হাড়ে বুঝিতে পারিতেছি যে, বাঁচিতে হইলে বিপ্লব আমাদিগকে করিতেই হইবে। উল্টাইতে হইবে আমাদের দেশের গরীব মারিয়া ধনিক পুষিবার ব্যবস্থা। কায়েম করিতে হইবে সমাজতন্ত্র।
রাশিয়ার গরীব মানুষদের ঘুম কেন ভাঙ্গিয়াছিল
১৯১৭ সালের আগে বিরাট বিশাল দেশ রাশিয়ায় ভীষণ ক্ষমতাশালী রাজা রাজত্ব করিত। চিরকাল ধরিয়া চলিয়া আসিতেছিল রাজাদের রাজত্ব। রাশিয়ার রাজা যে কত বড় ছিল আর তাহার ক্ষমতা যে ছিল কত তাহা সাধারণ মানুষ বুঝিতেই পারিবে না। বাংলা ভাষায় তাহাকে বলা যায় সম্রাট বা রাজার রাজা আর রাশিয়ার ভাষায় তাহাকে বলা হইত ‘জার’। এই ‘জার’—এর ছিল লক্ষ লক্ষ সিপাই-মিলিটারী, অগণিত আমলা-কর্মচারী। আর হাজার হাজার জমিদার ছিল তাহার অধীনে। জারের নিজের এবং তাহার চেলাপেলাদের ধন-সম্পত্তি যে ছিল কত তাহার কোন হিসাব ছিল না। সোনার পুরীতে সোনার পালঙ্কে শুইয়া তাহারা আমোদ-প্রমোদ করিয়া দিন কাটাইত। জার কোথায় থাকেন গ্রামের গরিব মানুষ কেহ কোনদিন দেখে নাই। কেবল কল্পনা করিত। প্রথম দিকে রাজা-রাণী আর রাজপুরীর মানুষদের লইয়া তাহাদের গৌরবের আর অন্ত ছিল না। এইসব কল্পনা করিতেই তাহাদের মনে একটি পবিত্র ভাবের উদয় হইত। রাজার কর্মচারীদিগকে মানুষ দেবতার মত ভয় পাইত। রাজা-রাণী এবং রাজপুরীর না-দেখা মনিবদের প্রতি ভক্তি ও ভয়ে বিগলিত হইয়া আল্লাহর কাছে তাহাদের জন্য মোনাজাত করিত। রাশিয়ায় তখন গরিব মানুষের সংখ্যা ছিল কোটি কোটি। আর তাহাদের দুঃখ-দুর্দশার কোন সীমা ছিল না। এখন আমাদের দেশের ক্ষেতমজুর-কৃষক মিলাইয়া গ্রামের গরীবদের অবস্থা যেমন তখন রাশিয়ার অবস্থাও অনেকটা সেই রকম ছিল।
এই সাথে রাশিয়ায় আরেকটা ব্যাপার ঘটিতেছিল। দেশে কল-কারখানা তৈয়ার হইতেছিল। রাজপরিবার আর জমিদার শ্রেণী ছাড়াও ব্যবসাদার পুঁজিপতিদিগকে সুযোগ-সুবিধা দিয়া ধনিক গোষ্ঠীটিকে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments