-
বৃদ্ধ বয়সে বিবি সারা খাতুনের গর্ভে হযতর ইব্রাহিমের এক পুত্র সন্তান জন্মে। তাঁহার নাম ইসরাইল (আঃ)। ইসরাঈলের দুই পুত্র ইয়াশা ও ইয়াকুব। ইয়াকুবের বারোটি পুত্র, তন্মধ্যে একাদশ পুত্র হযরত ইউসুফ। কনিষ্ঠ পুত্রের নাম বনি-ইয়ামিন।
হযরত ইয়াকুব জানতেন যে, ইউসুফ ভবিষ্যৎ জীবনে নবী হবেন। তিনি অতি গুণবান, শ্রী ও লাবণ্যমণ্ডিত ছিলেন। শৈশবেই ইউসুফ ও বনি ইয়ামিন মাতৃহীন হন। নানা কারণে হযরত ইয়াকুব অন্যান্য সন্তান অপেক্ষা ইউসুফকে একটু বেশী আদর যত্ন করতেন। এই জন্য বিমাতার গর্ভে অপর দশজন ভ্রাতা ইউসুফকে একটু ঈর্ষার চক্ষে দেখতেন।
ইউসুফ একদা রাত্রে স্বপ্ন দেখতে পেলেন—সূর্য চন্দ্র ও এগারটি নক্ষত্র তাঁকে যেন অভিবাদন করছে। পরদিন পিতার নিকটে কথাটা
-
অনেক আগের কথা। আরব দেশে সাদ নামে একটি বংশ ছিলো। এই বংশের লোকদের চেহারা ছিলো যেমন খুব লম্বা এবং চওড়া, গায়েও তেমনি ভীষণ শক্তি।
তারাই ছিলো তখন আরব দেশে প্রবল এবং প্রধান।
তাদের একজন বাদশাহ ছিলো—তার নাম শাদ্দাদ। শাদ্দাদ ছিলো সাত মুলুকের বাদশাহ। তার ধন-দৌলতর সীমা ছিলো না। হাজার হাজার সিন্দুকে ভরা মণি, মুক্তা, হীরা জহরৎ। পিলপানায় লক্ষ লক্ষ হাতী, আস্তাবলে অসংখ্য ঘোড়া। সিপাই-শাস্ত্রী যে কত তার লেখাজোকা ছিলো না। উজীর-নাজীর, পাত্র-মিত্র, আমলা-গোমস্তায় তার রঙমহল দিনরাত গম-গম করতো।
সাধারণতঃ মানুষের ধনদৌলত যদি একটু বেশি থেকে থাকে তবে সে একটু অহঙ্কারী হয়ই। শাদ্দাদ বাদশাহের দেমাগ এত বেশী হয়েছিলযে, একদিন সে দরবারে
-
তোমরা হয়তো জানো মাটির নিচে সোনা, রূপা, হীরা, মণি-মাণিক্যের খনি এবং সমুদ্রের নিচে ইয়াকুত, জমরদ, প্রবাল ও মুক্তা অনেক আছে। তোমরা শুনে আশ্চর্য হবে যে, এই সবই আগে একজন মাত্র লোকের সম্পত্তি ছিলো।
এত বড়ো ধনী পৃথিবীতে আর একজনও ছিলো না এবং আর কেউ কখনো হবে না। তার সেই ধনসম্পত্তি কিরূপে ছড়িয়ে পড়লো এবং ভূগর্ভে ও সমুদ্রের মধ্যে কেমন করে প্রবেশ করলো সেই আজব কাহিনী আজ তোমাদের কাছে বলবো।
হযরত মুসার জ্ঞাতি সম্পকরঈয় এক চাচাতো ভাই—নাম ছিলো তার কারূণ। কারূণের বরাত ছিল খুব ভাল। দুনিয়ার সব জায়গায় তার মালগুদাম ছিলো। সমস্ত নদীতে ও সমুদ্রে ঝাঁকে ঝাঁকে তার নৌকা ও জাহাজ
-
মহাপ্লাবনের পর বহুকাল অতিবাহিত হয়েছে। নূহের বংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বংশে একজন পরম ধার্মিক লোক জন্মগ্রহণ করলেন, তাঁর নাম ইসরাইল। তিনি যে দেশে বাস করতেন তার নাম কেনান। মিশরের বাদশাহ ফেরাউন তাঁকে মিশরে এসে বাস করার আমন্ত্রণ করেন।
তিনি ইসরাইলকে যথেষ্ট প্রীতির চক্ষে দেখতেন। ফেরাউন কালক্রমে পরলোক গমন করলে অপর একজন ফেরাউন সিংহাসনে উপবেশন করলেন। ফেরাউন কোন লোকের নাম নয়। মিশরের বাদশাহদিগকে ফেরাউনবলা হতো, ইহা পদবী যাহা হউক, পরের এই ফেরাউন অত্যাচারী ছিলেন। তিনি পূর্ববর্তী ফেরাউনের একজন উজীর ছিলেন। প্রথমে তিনি খুব সৎস্বভাবের লোক ছিলেন। নানা রকমে প্রজাদের উপকার করতেন।
কোন বৎসর অজন্মা হলে তিনি নানা রকম কৌশল করে প্রজাদের
-
ছুটির ঘণ্টা পড়িতেই বগলে খানকয়েক বই খাতা লইয়া নরেশ বাড়ির পথটি ধরিয়া চলিতে থাকে। পশ্চাতে যে এক বুড়া ডিটেকটিভের মত তাহার গতিবিধি লক্ষ করিতে পিছু লইয়াছে, ইহা সে লক্ষ করে নাই। লক্ষ করিলে বুড়ার ক্ষুধিত দৃষ্টি হইতে নিজেকে বাঁচাইবার জন্য সচেষ্ট হইত।
নরেশ মাইনর স্কুলের ছাত্র, তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। ভূষণের পারিপাটা নাই, চুলগুলি উদ্বু-খুস্থ।
অর্ধমলিন পাঞ্জাবীর হাতাটায় এক ছোপ কালির দাগ। উহা দ্বারা কখন সে মুখের ঘাম মুছিয়াছিল—মুখেও কালির সবুজ স্পর্শ লাগিয়াছে। কোঁচাটা মাটিতে লুটাইত যদি সে বাম হাতে উহা উঁচু করিয়া ধরিয়া
না রাখিত। মোটের উপর বেশ নিরীহ গোবেচারা ছেলে। ক্ষুধার তাড়নায় বেশ একটু জোরে জোরেই পা ফেলিয়া চলিতে
-
গুরুদয়ালের পায়ে ব্যথা, হাঁটিতে কষ্ট হয়। তবু না হাঁটিলে বুঝি তার চলে না? সকালবেলা বাহির হইয়া যায়। কোনোদিন দুপুরে ফিরে, কোনোদিন ফিরেও না। কোনোদিন সূর্যের অস্তগমনের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামে ফিরে, ফিরিয়া হয়তো অপরিচ্ছন্ন বিছানাটা হাতড়াইয়া দেশলাই বাহির করিয়া 'ডিবা' জ্বালিল, না-হয় তো বাড়ির পূব দিককার নিমগাছটার তলায় হাত-পা ছড়াইয়া দিয়া গান ধরিল:
রাধে, রাধে গো রাধে,
তোর লাগি মোর পরাণ কাঁদে;
নইলে কি আর কালো শশী
অতি সাধের চূড়া বাঁশী
অই চরণে তুলে দিল সাধে,
রাধে, রাধে গো রাধে...
বাড়ির একমাত্র অধীশ্বর সে। সে ছাড়া এবাড়িতে আর একটিও জীবন্ত প্রাণী নাই। কাজেই তার এই স্বেচ্ছাচারিতা। কেহই বাধা দেয় না।
প্রতিবেশীদের
-
দূর ছাই। জায়গাটা তাকে ছাড়তেই হবে। তমোনাশ রায়ের আর একটা দিনও ইচ্ছা করে না এখানে থাকতে। কী নিয়ে থাকে সে এখানে? কী এখানে আছে? ভোঁস ভোঁস করে এক-একটা ট্রেন আসে; হাত-পা ছুড়ে যেন অচল হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। কোনোটা পাঁচ মিনিট, আর কোনোটা দু-মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে আবার স্টার্ট দেয়। ক্ষুদ্র প্ল্যাটফর্মে সংখ্যায় অপ্রচুর যাত্রী-যাত্রিনীরা ভিড় করে। বেরোবার একটা লোহার গেট আগলে তমোনাশ আগে থেকেই দাঁড়িয়ে থাকে। তারা তার সঙ্গে বোঝাপড়া করে, কাকুতি করে, আবার বচসাও করে, বলে, ধনেখালির টিকেট করে ফকিরের হাটে কেন নেমেছি, শুধচ্ছো বাবু! আমরা গরিব, আমরা খেতে পাই না, এক বেলা খাই, তো দুবেলা উপোস করে থাকি।
আমরা
-
বারো মাসের ছটা ঋতু আবু মিয়ার মনে ছত্রিশ রকমের চিন্তা বয়ে আনে। ফাল্গুন যখন বনে বনে রঙ চড়ায়, সে রঙে তারো মনে জাগে নেশা। এর পর জ্যৈষ্ঠের বাউল বাতাস আমের তলায় শুকনো পাতাগুলো ওড়ায়, তারো বুকটা শূন্যতায় খা খা করে ওঠে। কলকাতায় বসে কিছুই দেখছে না সে, কিন্তু যখনি ভাবতে বসেছে, মনে হয়েছে তখনি, তাদের গাঁয়ের পাশে পুকুর পাড়ে আপনি-ফোটা ফুলের বনের অন্তরাগ আর উদাস দুপুরের ঝরাপাতার মড়মড় খসখস শব্দ সবই দেখতে ও শুনতে পাচ্ছে। বড় বড় দু তলা তিন তলা বাড়িগুলোর উপর দিয়ে যে আকাশটুকু দেখা যায়, তাতে যখন মেঘ করে আসে, আর আসে একটা হাল্কা হাওয়া, তখন আবু
-
মেঘনার পাড় ভেঙে একটা শাখানদী বেরিয়েছিল। তার নাম তিতাস। এখন সে বেশ বড় নদী। আমরা তারই তীরে বাস করি। তার জলের কিনারায় লগি গেড়ে আমরা নাওগুলো বেঁধে রাখি। তার পাড়ের মাটিতে ঘাসের উপর বাঁশের "আড়া" বেঁধে আমরা জালগুলো শুকোতে দিই। পল্লির ভেতর থেকে যে-পথ ঘাটে গিয়ে ঠেকেছে, তারই একপাশে মাটিতে গর্ত করে আমরা জালে গাব দিই, আরেক পাশে ডাঙায় তুলে আমরা না'য়ে দিই আলকাতরা।
আমরা এক সংসারে দুই ভাই। দাদা আর আমি। আমি ধরি মাছ, দাদা করে মাছের ব্যাপার। আমি নদীতে জাল ফেলি, জাল তুলি, রাজপুরে ঘাটে নিয়ে সে-মাছ নগদ দামে বেচে আসি। দাদা না'য়ে না'য়ে ঘুরে তার মাছের ডালি
-
লাইট হাউস
জাহাজ ধীরে ধীরে সাগরে গিয়ে পড়ল। টের পেলুম না, কখন, কি করে সাগরে এসে গেছি। তীরের উপর চোখ রেখে চলছিলুম—সেই তটরেখা এক সময় চোখের সামনে থেকে মিলিয়ে গেল—স্বপ্ন যে ভাবে মিলিয়ে যায়—তেমনি ধীরে ধীরে।
যাত্রীদের দিকে তাকালে করুণা জাগে—এত বড় একটা সাগর, যার সঙ্গে মিশেছে মহাসাগর—দুনিয়ার সকল মহাসাগরের সঙ্গে যার যোগাযোগ—তার সম্বন্ধে তারা একান্তই উদাসীন। চোখ খুলে তাকাবারও যেন গরজ নেই কারো। বিরাট একখানা উপন্যাসের মত জাহাজটা সাঁতার কেটে চলেছে। তার ভেতরে অনেক চরিত্র, অনেক চঞ্চলতা, অনেক উপাখ্যান—আপনাতে আপনি মশগুল তারা, বাইরের দিকে বড় একটা কেউ তাকায় না—তাকালেই যেন তাদের জীবনের ছন্দপতন হয়ে যাবে। উপন্যাস এগিয়ে চলেছে নিজের
-
পুঁজিতন্ত্রের অর্থনীতি শ্রমিকের শোষণের উপর প্রতিষ্ঠিত। ইহার মূল লক্ষ্য মুনাফা। মুনাফা আত্মসাৎ করে সমাজের মুষ্টিমেয় ব্যক্তি। মুনাফা অর্জনের জন্যই শ্রমিককে শোষণ করা হয়, বেকারের সৃষ্টি করা হয়। মুনাফার জন্যই এক পুঁজিপতির সঙ্গে হয় অন্য পুঁজিপতির সংঘর্ষ। বিভিন্ন শিল্পের পুঁজির পরিমাণ মুনাফার তারতম্য দ্বারা স্থির হয়। চিনি উৎপাদনে মুনাফা বেশী হইতেছে,অতএব অন্য শিল্প হইতে পুঁজি উঠাইয়া উহাতেই খাটাইতে হইবে। পুঁজিতন্ত্রে যন্ত্রের উন্নতি করা হয়। কিন্তু উহার উদ্দেশ্য শ্রমিকের শ্রম লাঘব, অথবা জনসাধারণের স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি নয়। প্রতিযোগিতার সুবিধার জন্যই যন্ত্রের উন্নতি করা হয়।
ব্যক্তির স্বাধীন ইচ্ছার উপর পুঁজিতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা; ইহার অবশ্যম্ভাবী ফলস্বরূপ দেখা দেয় অপচয়, বেকার, সংকট ও সংঘর্ষ।
সোভিয়েট ইউনিয়নে উৎপাদন
-
পুঁজিতন্ত্রের চরম বিকাশ হয় ঊনবিংশ শতাব্দীতে। ইহা এক দেশ হইতে অন্য দেশে ছড়াইয়া পড়ে। এই বিকাশ ও বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে পুঁজিতন্ত্রের অন্তর্দ্বন্দ্ব বাড়িয়া যায়। শিল্পপুঁজিরই (Industrial Capital) সে সময়ে প্রধান স্থান। এক কথায়, এই যুগটিকে বলা যাইতে পারে শিল্প-পুঁজির যুগ। পুঁজিতন্ত্রের এই স্তরটীতেই উদ্ভব হইয়াছে সাম্রাজ্যবাদের। সাম্রাজ্যবাদ পুঁজিতন্ত্রের বিকাশেরই একটী অবস্থা। এই স্তরে পুঁজিতন্ত্রের বিরোধ সুতীব্র হইয়া উঠে। সাম্রাজ্যবাদকে বলা যায় পুঁজিতন্ত্রের বিকাশের সর্বশেষ স্তর। সাম্রাজ্যবাদের যুগেই পুঁজিতান্ত্রিক বিধান সমাজের বিকাশের পথে অন্তরায় হইয়া দাড়ায়।
পুঁজিতন্ত্রে পুঁজি বহু হাতে ছড়ানো থাকে; কিন্তু উহার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন শিল্প-পুঁজির সংকেন্দ্রন হয়। প্রতিযোগিতায় ছোট কারখানা বড় কারখানার নিকট পরাভূত হয়। বড় কারখানাগুলির
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.