বলদর্পী নমরূদ
বেবিলন দেশের নাম হয়তো তোমরা শুনেছো! সেই দেশের সম্রাট নমরূদ ছিলেন যেমন অহঙ্কারী তেমনি অত্যাচারী। রাজকোষে ছিল তাঁর প্রচুর মণিরত্ন, ধন-ঐশ্বর্য-দেহে বীর্য, অগণিত লোক-মস্কর।
একবার অগণিত সৈন্যসামন্ত নিয়ে তিনি অভিযানে বের হলেন। দেশের পর দেশ তাঁর করায়ত্ত হতে লাগলো। চারদিকে বয়ে গেলো রক্তের নদী—শোনা যেতে লাগলো নিপীড়িতের আর্তনাদ—দুর্বলের হাহাকার—বুকফাটা ক্রন্দন। তবু বিরাম নাই—বিশ্রাম নাই—শুধু ধ্বংস আর ধ্বংস—জয় আর জয়। গ্রীস, তুরস্ক, আরব, পারস্য ও পাকভারতে তাঁর বিজয়-নিশান উড়তে লাগলো। তিনি হলেন অর্ধ পৃথিবীর একচ্ছত্র অধিপতি। দম্ভে তাঁর বুক উঠলো ফুলে—দুনিয়াটাকে খেলাঘর বলে তাঁর মনে হতে লাগলো।
একদিন নমরূদ আম-দরবারে বসে অমাত্য-পারিষদ নিয়ে খোশগল্পে মশগুল আছেন, এমন সময়ে একজন ফকির এসে দরজায় দাঁড়িয়ে হাঁক দিলো: সর্বশক্তিমান খোদার নামে কিছু দান করুন জাঁহাপনা।
নমরূদ এ কথা শুনে চমকে উঠলেন। বললেন: সর্বশক্তিমান খোদা? সে কি বলছো তুমি? সর্বশক্তিমান আমি।
সম্রাটের কথার ওপরেকথা চলে না—সুতরাং অমাত্যবর্গ ক্ষুণ্ণমনে নীরব হয়ে রইলেন।
ফকির বললো: জাহাঁপনা আপনি ভুল করছেন—এমন পাপকথা মুখে উচ্চারণ পর্যন্ত করতে নেই। তিনি এতো বিরাট যে, তাঁর তুলনায় আপনি অতিশয় তুচ্ছ।
নমরূদ ক্রুব্ধকণ্ঠে চীৎকার করে উঠলেন: এতো বড় স্পর্ধা! আমার কথার ওপরে কথা!! প্রতিহারী-
প্রতিহারী এসে জোড়হাতে আদেশের প্রতীক্ষা করতে লাগলো: নমরূদ ক্ষিপ্ত কণ্ঠে হুকুম করলেন: এই ভিখারীর গর্দান চাই।
প্রতিহারী ফকিরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে শিরচ্ছেদের জন্য বধ্যভূমিতে নিয়ে গেলো।
অমাত্যবগ্য তাঁদের সম্রাটকে চিনতেন, তাই তাঁরা বিন্দুমাত্র বিস্মিত হলেন না; কিন্তু মনে মনে দুঃখ বোধ করতে লাগলেন।
নমরূদ সভাসদদের ডেকে বললেন: আপনারা আমার রাজ্য মধ্যে প্রচার করে দিন, আমি সর্বশক্তিমান—আমি খোদা। যে আমাকে ছাড়া অন্য খোদার বন্দনা করবে সে সবংশে ধ্বংস হবে।
অমাত্যগণ নিরুপায়। তাঁরা তখনই রাজাদেশ দেশে দেশে, নগরে নগরে, গ্রামে গ্রামে ঢাক পিটিয়ে প্রচার করে দেবার ব্যবস্থা করলেন।
দেশের লোকেরা আতঙ্কে শিউরে উঠলো। অন্তঃপুরে মেয়েরা কানে আঙ্গুল দিলো। সামান্য মানুষের এমন স্পর্ধা। বামন হয়ে আকাশে খেলাঘর নির্মাণের সাধ! কিন্তু প্রতিকার নেই। গোপনে গোপনে তারা উপাসনা করতে লাগলো। প্রকাশ্যে নমরূদের আদেশ পালন করবার ভান করা ছাড়া কোনো উপায় রইলোনা। নমরূদ অহঙ্কারে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন; সুতরাং দিনে দিনে স্পর্ধা তাঁর বেড়েই চলেছিলো। আপনার নানা রকমের মূর্তি নির্মাণ করিয়ে প্রাসাদের এক প্রকোষ্ঠে রেখে দিয়ে রাজধানীর সকলের ওপরে আদেশ দিলেন: দুধ আর কলা দিয়ে আমার মূর্তি পূজা করতে হবে। যে আদেশ অমান্য করবে তার গর্দান যাবে।
প্রাণের দায়ে সবাই নমরূদের খেয়াল অনুসারেই চলতে লাগলো। নমরূদের অনুগত ভৃত্য অজর প্রভু-অন্তপ্রাণ। তাঁর দ্বাদশ বৎসর বয়স্ক পুত্র ইবরাহিম একদিন এমন কাজ করলেন যা দেখে আতঙ্কে সকলের বাকরোধ হবার উপক্রম হলো।
নমরূদ সৈন্যসামন্ত নিয়ে বেরিয়েছিলেন কোনো উৎসবে যোগদান করতে। প্রাসাদে ফিরে এসে দেখতে পেলেন তাঁর প্রতিমূর্তিগুলো ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত। নমরূদ সেদিক পানে চেয়ে বজ্রগম্ভীর স্বরে চিৎকার করে বললেন: কে এ কাজ করলো?
ইবরাহিম নির্ভয়ে এগিয়ে এলেন। বললেন: আমি করেছি। সকলে বালকের দুঃসাহস দেখে বিস্মিত হলো। এই নির্ভীকতার যে কী পরিণাম, তা কল্পনা করে সকলে শিউরে উঠলো।
মনরূদ ভ্রু কুঞ্চিত করে প্রশ্ন করলেন: কেন? কেন করলে?
ইবরাহিম সাহসে বুক ফুলিয়ে বললেন: যে সামান্য মানুষ হয়ে খোদা হবার স্পর্ধা করে তাঁর শাস্তি দিয়েছি। এখনো সবাধান হোন জাহাঁপনা—নইলে খোদা আপনাকে ক্ষমা করবেন না।
অমাত্যবর্গ অবাক। এতো বড় উচিত কথা মুখের ওপর কেউ কোনদিন তাঁকে বলেনি।
নমরূদ হুঙ্কার দিলেন: এই, কে আছিস?
মুক্ত তরবারি হস্তে প্রতিহারী এসে কুর্ণিশ জানালো।
নমরূদ হুকুম করলেন। এই মুহুর্তে এর গর্দান চাই।
জল্লাদের হাতের অস্ত্র উজ্জ্বল আলোকে ঝলমল করে উঠলো। নমরূদ
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments