সমাজ বনাম সুশীল সমাজ বিতর্ক
ভাল মানুষদের নিয়ে বিপদ আছে। আমাদের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ একজন ভাল মানুষ। রাজনীতিবিদরা কদাচিৎ ভাল মানুষ হয়ে থাকে। ক্ষমতা এবং ভাল মানুষ একসঙ্গে পাওয়া খুবই ভাগ্যের ব্যাপার। একজন ভাল মানুষ হিসেবে যে কারও নাম একবার ফেটে গেলে খারাপ মানুষেরা সে ভাল মানুষটিকে তাদের খারাপ কাজের সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। বোধহয় একথা চিন্তা করেই ব্রিটিশ দার্শনিক বাট্রান্ড রাসেল ভাল মানুষদের বিপদ সম্পর্কে একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন।
কিছুদিন আগে এনজিওদের আয়োজিত একটি সভায় বিচারপতি সাহাবুদ্দিন সাহেব সুশীল সমাজের ভূমিকার ওপর একটি বক্তৃতা করেছিলেন। যেকোন দেশের রাষ্ট্রপতি সভা-সমিতিতে যে সমস্ত কড়া উচ্চারণ করে থাকেন, সেগুলোর ভাবগত মূল যা-ই থাকুক, রাষ্ট্রপতি পদটি মর্যাদার কারণে বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে থাকে।
পশ্চিমাদের এ ওয়ান্ডার বয় আমাদের সমাজকে কোথায় নিয়ে যাবে? প্রফেসর ইউনূস যা কাজ করেছেন এবং বিশ্বব্যাপি তাঁর যে পরিচিতি তুলনামূলক বিচার করলে দেখা যাবে, কুকুরের চাইতে তাঁর লেজ অ-নে-ক গুণ লম্বা হয়ে পড়েছে। রামায়ণের হনুমান তার দীঘল লেজ দিয়ে একবার স্বর্ণলঙ্কা দাহ করেছিলেন। প্রফেসর ইউনূস তাঁর আন্তর্জাতিক লেজ দিয়ে সোনার বাংলার কী দশা করেন, সেটা দেখার অপেক্ষা।
রাষ্ট্রপতি সাহেবের এ ভাষণটি পত্রপত্রিকায় পাঠ করার পর আমার মনে কতিপয় প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে। রাষ্ট্রপতি যে সুশীল সমাজের পক্ষে ওকালতি করেছেন, সে জিনিসটি আসলে কী? সে সুশীল সমাজের আক্ষরিক অর্থ কী? বিচারপতি সাহেবের কাছে এ প্রশ্ন উত্থাপন করা রীতিমত দুঃসাহসের ব্যাপার। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পূর্বে যিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি সুশীল সমাজের সংজ্ঞা বা অর্থ অনুধাবন করতে অক্ষম, এটা ভাবতে আমাদের কষ্ট হয়। ইংরেজিতে সিভিল-সোসাইটি নামে একটি শব্দবন্ধ চালু আছে। এ শব্দবন্ধে বাংলা অনুবাদ অনেক লোক অনেকভাবে করে আসছে। সরকারি আমলারা ঘোষণা করেছিলেন তাঁরা সুশীল সেবক। সুশীল সেবকের একটা অর্থ এবং ভাবব্যঞ্জনা আমরা অনুভব করতে পারি। দুর্নীতিপরায়ণ সরকারি আমলারা কী কারণে জাতির সুশীল সেবকে পরিণত হবেন আমি তো তার কোন মর্ম উদ্ধার করতে পারি না।
সুশীল সেবকের কথা এখন বেশি শোনা যাচ্ছে না। হালফিল আমাদের বিজ্ঞ এনজিও নেতাদের কল্যাণে সিভিল সোসাইটি শব্দটি জোরে জোরে উচ্চারিত হচ্ছে। সিভিল সোসাইটি যেহেতু ইংরেজি শব্দবন্ধ—বাংলাভাষা প্রেমের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করতে গিয়ে তাঁরা সুশীল সমাজ শব্দবন্ধটি চালু করেছে। সমাজ বিজ্ঞানে সমাজের নানারকমের সংজ্ঞা প্রচলিত আছে। এনজিওরা আমাদের সমাজকে কীভাবে দেখছে ও বিচার করছে সেটা অত্যন্ত কৌতূহলের বিষয়। আমাদের জনসমাজের সঙ্গে সুশীল সমাজের বিভাজন রেখাটি কোথায়? আমাদের সমাজের কোন অংশটিকে তাঁরা সুশীল সমাজ বলতে চাইছেন। শব্দ বা শব্দবন্ধনী দিয়ে, বাদ-বিসম্বাদ করে কোন লাভ হবে না। এনজিওরা তাদের অস্তিত্ব প্রমাণ করার জন্য নানা সময়ে নানা মুখরোচক শব্দ বা শব্দবন্ধ ও স্লোগান ‘আবিষ্কার’ করে থাকে। গণতন্ত্র পর্যবেক্ষণ, গণতন্ত্রে অংশীদারিত্ব—কত জিনিস যে এনজিওরা আমাদের সমাজে পরিচিত করেছে বলে শেষ করা যাবে না। কিন্তু আমাদের সমাজে গণতন্ত্রের অবস্থাটা কী?
কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। এক সময় এনজিওরা তাদের অস্তিত্বের যৌক্তিকতা প্রমাণ করার জন্য দাবি করত, ‘সামাজিক দারিদ্র্য দূর করছি।’ বিগত বিশ পঁচিশ বছরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, এনজিওদের পক্ষে আমাদের সামাজিক দরিদ্রতা দূর করা অসম্ভব। সমাজের জন্য কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না, তাই তাদের নিজেদের টিকে থাকার জন্য কিছু করতে হচ্ছে। বিদেশ থেকে আনীত অর্থ মূলধন হিসেবে লগ্নি করে তারা অনেকে ধনপতি হয়েছে। এ প্রক্রিয়াটি যখন ষোলকলায় পূর্ণ হয়েছে তাদের মনে এ উপলব্ধি এসেছে যে, ‘যদি সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারি, এ সম্পদ আমরা রক্ষা করতে পারব না।’ তাই এনজিওরা দারিদ্র্য দূর করার বদলে সরকার দখল
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments