বই পড়ার অভ্যাস
বই পড়ার অভ্যাস একটা মহৎ অভ্যাস। এই অভ্যাসকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখা একটা দৈব আশীর্বাদের মতো। যিনি এই অভ্যাস আমৃত্যু বাঁচিয়ে রাখতে পারেন তাঁর আর ভয় থাকে না, তিনি কর্ণের কবচ কুণ্ডলের মতো সহজাত বর্মের অধিকারী হয়ে থাকেন। কেননা পড়ার অভ্যাস সর্ব সময়ের জন্য বাঁচিয়ে রাখার অর্থ হলো জীবনকে সজীব রাখা, সতেজ রাখা, স্বাস্থ্যবান রাখা।
কৌতূহলকে জীইয়ে রাখা হলো আসল কথা। বই পড়ার সাহায্যে এই কৌতূহল সর্বক্ষণ জীইয়ে রাখা সম্ভব হয়। কৌতুহল মরে গেলে মানুষের অপমৃত্যু ঘটে। নতুন নতুন জিনিস জানবার, শেখবার, উপভোগ করবার আগ্রহটাই যদি মরে গেলো তাহলে জীবনে থাকলো কী? কই পড়ার লাভ এখানে যে, বই পড়ার ফলে ওই আগ্রহটা বেঁচে থাকে। নিত্যনতুন জিনিস জানবার বুঝবার তাগিদে জীবনে আসে সচলতা, গতিবেগ, উৎসাহ আর যে কোন পরিস্থিতির সম্মুখীন হবার মতো প্রয়োজনীয় বুদ্ধি ও মনোবল। নিত্যনতুন বইয়ের সঙ্গে সংযোগ রেখে চললে মন বুড়িয়ে যেতে পারে না, দেহে বয়সের ভার নেমে এলেও অন্তরের তারুণ্য সঞ্জীবিত থাকে। মনের বয়স কাঁচা রাখতে পারার মতো দেহের সম্বল আর কিছু হতে পারে না।
বই পড়ার উপকারিতা
অনেকেই দেখা যায় স্কুল-কলেজের দেউড়ি পেরোবার পর কর্মজগতে নেমে বইয়ের সঙ্গে আর সংযোগ রাখেন না, তখন খবরের কাগজ পড়াটাই সার হয়, কেউ কেউ খবরের কাগজটাও ছুঁয়ে দেখেন কি না সন্দেহ। এঁদের বেলায় পড়ার অভ্যাস বাঁচিয়ে রাখা তো পরে কথা, পড়ার ইচ্ছাটাই যেন মরে যায়। এটা মোটেই সুলক্ষণ নয়। পড়ার ইচ্ছা মরে যাওয়ার অর্থই হলো মন ঝিমিয়ে পড়া, মন অবলম্বনশূন্য হয়ে পড়া। কাজের মধ্যে মনকে ব্যাপৃত রাখা যায় কিন্তু কাজেরঅন্তে মন যখন নির্বস্তুক হয়ে পড়ে তখন তাকে ভরিয়ে রাখবার কি উপায়? এই ক্ষেত্রে বইয়ের তুল্য সহায়ক বন্ধু আর নেই।
অবশ্য রুচিভেদ বা প্রবণতাভেদে অবসরের সময়গুলিকে অনুপ্রাণিত করে তোলবার জন্য কেউ সঙ্গীতের আশ্রয় গ্রহণ করেন, কেউ রেডিও শোনেন বা হালের রেওয়াজ অনুযায়ী টেলিভিশন দেখেন, কেউ থিয়েটারে সময় কাটান, কেউ কেউ আবার এসবের কিছুই করেন না, স্রেফ গল্প-আড্ডা বিশ্রম্ভালাপে অবসর বিনোদন করেন। কিন্তু যিনিই যাই করুন, তাঁকে এক সময় না এক সময়ে বইয়ের শরণ নিতেই হবে। কেননা বই ঘুমন্ত মনকে জাগিয়ে তোলে, ক্লান্ত মনকে চাঙ্গা করে তোলে, অলম্বনশূন্য মনকে অবলম্বন করবার মতো একটা নিরেট বস্তু জোগায়।
শেষোক্ত কথাটা বিশেষ ভেবে দেখবার মতো। মন কখনও শূন্যের মধ্যে বিচরণ করতে পারে না। তাকে একটা না একটা কিছু নিয়ে ব্যাপৃত থাকতে হয়, তা সেটা ভালই হোক আর মন্দই হোক। ভাল চিন্তার অবলম্বন না পেলে মনে হয় অর্থহীন চিন্তায় সময় কাটাবে, না হয় ক্ষতিকর চিন্তার দিকে ঝুঁকবে। কিন্তু কোন অবস্থাতেই মন শূন্যতায় বিরাজ করবে না, করতে চাইবে না। মনের সেটা ধর্মই নয়। এই কারণেই বলা হয়, 'অলস মন শয়তানের কারখানা'। এর তাৎপর্য আর কিছুই নয়, এইটে বোঝান যে, মনকে যদি ভাল চিন্তায় ব্যস্ত রাখা না যায়, তাহলে তা হয় অসার চিন্তা করবে নয়ত অনিষ্ট চিন্তার দিকে ঝুঁকবে। প্রায়শঃ অনিষ্টকর চিন্তার দিকেই নিরালম্ব মনের পক্ষপাত দেখা যায়। উদ্ভট, অসংলগ্ন, অর্থহীন চিন্তাও যথেষ্ট ক্ষতিকর। কেননা তার থেকে চিন্তা রোগের জন্ম হয়। চিন্তার যখন কোনো লক্ষ্য থাকে না, তখন তা ব্যাধিরই নামান্তর। আমাদের দেশে মনের যথার্থ অবলম্বনের অভাবে কত লোক যে চিন্তা ব্যাধিতে ভোগে তার ইয়ত্তা নেই।
মনীষীদের অভিমত
এইখানেই বইয়ের ভূমিকা। বই, অবশ্য ভাল বই, যেমন তেমন বইয়ের কথা বলছি না। সদ্গ্রন্থ মানুষের জীবনে সত্যিকারের বাঁচার মতো অবলম্বন এনে দেয়, তাকে সক্রিয় করে, প্রাণবান করে,
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments