বিজ্ঞানের গল্প
প্রাচীন পৃথিবীর সনাতন বিশ্বাস অনুসারে মানুষ ভাবত যে পৃথিবীর সবকিছুই পরিচালিত হয় এক ধরনের অপার্থিব সত্ত্বা দ্বারা। তাদের বলা হয়ে থাকে দেবতা এবং তাদের বাস আকাশে। তারা বিশ্বের প্রতিটি জীবজন্তু, মানুষ—এমনকি প্রেম, ভালোবাসা, যুদ্ধ, সংঘাত ইত্যাদি সবকিছুকেই নিয়ন্ত্রন করেন। যদি তারা আমাদের ওপর খুশি থাকে, তাহলে আমরা পাই পর্যাপ্ত খাদ্য, পশু ও সম্পদ। আর যদি তারা আমাদের ওপর অসন্তুষ্ট হয়, তাহলে আমাদের ওপর নেমে আসে বন্যা, খরা, দুর্ভিক্ষ, মহামারী, ভূমিকম্প ইত্যাদি দুর্বিপাক। আর তাই স্তোত্র ও উৎসর্গের বিনিময়ে দেবতাদের তুষ্ট রাখতে সর্বদা নিয়োজিত থাকত যাজক ও পুরোহিতদের বিশাল এক বাহিনী।
কিন্তু আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটল। তোমরা কি জানো, কী সেই ঘটনা? সেটি হলো, হাজার বছরের সনাতন ধর্মবিশ্বাসের বিপরীতে জন্ম নিলো বিপ্লবাত্মক একটি নতুন ধারণা। পৃথিবীর বড় বড় ধর্মগুলোর উৎপত্তিস্থলগুলোতে মানুষ যখন দৈববানীর জন্য তাকিয়ে রয়েছে আকাশের দিকে, তখন প্রাচীন গ্রিসের বেশ কিছু মনীষী চোখ তুলে তাকালেন মাটির পৃথিবীর দিকে। প্রকৃতির রহস্যকে অনুধাবন করতে ঐশী ক্ষমতার পরিবর্তে তারা তাদের মস্তিষ্কের ক্ষমতাকেই কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। তারা দাবি করলেন যে দেবতাদের খেয়ালখুশি নয়, বরং বিশ্ব পরিচালিত হচ্ছে কিছু সুশৃংখল প্রাকৃতিক নিয়মে, যে নিয়মগুলো বুঝতে পারলে প্রাকৃতির ঘটনাসমূহের ভবিষ্যৎবানী করা সম্ভব। মানুষের বোধগম্য এই সুশৃংখল প্রাকৃতিক শক্তিচালিত বিশ্বকেই তারা নাম দিলেন কসমস, যেটি দেবতাদের খেয়ালখুশি মতো চলা বিশৃংখল বিশ্বের বিপরীত। তাই এখন মানুষের কর্তব্য হয়ে দাঁড়ালো আর দেবতাদের তুষ্টিবিধান নয়, বরং এই প্রাকৃতিক নিয়মগুলো আবিষ্কার করে তাদের সহায়তা নিয়ে নিজের ভাগ্যকে পরিবর্তন করা।
প্রাচীন গ্রিসের আয়োনিয়ার মিলেটাস শহরের থেলিসকে প্রথম বিজ্ঞানী আখ্যা দেওয়া হয়, কারণ তিনিই সঠিক দিনক্ষণ ঘোষনা করে প্রথমবার একটি সূর্যগ্রহণের ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন। খ্রিষ্টপূর্ব ৫৮৫ সনের ২৮ মে তারিখে তাঁর পূর্বঘোষিত ভবিষ্যৎবানী অনুসারেই সে সূর্যগ্রহণটি যখন ঘটল, তখন সবাই অবাক হয়ে গেল। আমরা এখন অবশ্য এ দিনটিকেই ধরে নিয়েছি বিজ্ঞানের জন্মদিন বলে। থেলিস মিসরের ফারাওয়ের নির্দেশে পিরামিডগুলোর উচ্চতা মেপেছিলেন সেগুলোর চূড়ায় না উঠে, সুধুমাত্র সূর্যের আলোয় তাদের ছায়া পরিমাপ করেই। তিনি মনে করতেন যে পৃথিষ্ঠীর আদি বস্তু হচ্ছে জল—আমরা সবাই জল থেকে উঠে আসা প্রাণী।
থেলিসেবই প্রায় সমসাময়িক ছিলেন সামোস দ্বীপের পিথাগোরাস, যার জ্যামিতিক উপপাদ্য আমরা এখনো স্কুলে পড়ে থাকি। পিথোগোরাসই প্রথম আবিষ্কার করেন সংখ্যার ঘন ও বর্গ করার পদ্ধতি, তবে তিনি ও তার শিষ্যরা নানা কুসংস্কারেও বিশ্বাস করতেন। পিথাগোরাস জন্ম দিয়েছিলেন এক ধরনের রহস্যবাদের আর তিনি বিশ্বাস করতেন জন্মান্তরবাদেও। তবে সুশৃংখল ও বোধগম্য বিশ্বকে বোঝাতে ‘কসমস’ শব্দটি নাকি তিনিই প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন। পিথাগোরাসই পৃথিবীর প্রথম বিজ্ঞানী, যিনি দাবি করেছিলেন যে পৃথিবীপৃষ্ঠ সমতল নয়, বরং তা বাঁকানো। সম্ভবত তিনি তাঁর আবাস সামোস দ্বীপে বসে লক্ষ্য করেছিলেন যে সমুদ্রগামী জাহাজে প্রথমে জাহাজটি, পরে পাল ও সবশেষে মাস্তুল দিগন্তরেখায় অন্তর্হিত হয়—এটি থেকেই তিনি গোলাকার পৃথিবীর ধারণাটি পেয়েছিলেন।
এই প্রাচীন গ্রিসের কস্ দ্বীপেই জন্ম নিয়েছিলেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক হিপোক্রাটিস, এখনও যার তৈরি শপথনামা আধুনিক চিকিৎসকরা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের আগে পাঠ করে থাকেন। তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে মানুষ সঠিক কারণগুলো জানেনা বলেই অনেক রোগব্যাধিকে দৈবপ্রদও বলে ভাবে। আরো একজন চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও দার্শনিক এম্পেডোক্লিস বাতাস নিয়ে অনেক পরীক্ষাকার্য চালিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে আলো অনেক দ্রুতগতিসম্পন্ন—তবে এ গতিও অসীম নয়। সম্ভবত এট্না আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে পা ফসকে পড়ে গিয়ে তিনি নিহত হয়েছিলেন।
বিজ্ঞানের জনক থেলিসেরই আরেক বন্ধু ছিলেন মাইলেশিয়ান দার্শনিক-বিজ্ঞানী এ্যানাক্সিমিন্ডার। তিনিই গ্রিসে প্রথম তৈরি করেছিলেন সূর্যঘড়ি, যার সাহায্যে সঠিকভাবে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments