-
এর আগের গল্পগুলোতে তোমরা জানতে পেরেছ যে বিজ্ঞানের জন্ম হয়েছিল প্রাচীন গ্রিসে এবং সে সময়টি ছিল যিশুখ্রিস্ট জন্মের কয়েক শতাব্দী আগে। কিন্তু আমরা দেখতে পাই যে বিজ্ঞানের এই অগ্রযাত্রা বাধা পায় খ্রিস্ট জন্মের কয়েকটি শতাব্দী পর—আর সে বাধার মূল কারণটি কিন্তু তারই প্রচারিত নতুন ধর্ম-খ্রিস্ট ধর্ম। কীভাবে এ বিষয়টি ঘটলো, সেটাই এখন তোমাদের সংক্ষেপে বলছি। আর ধর্মের সে বাধাটি জয় করে তার হাজার বছর পর বিজ্ঞান আবার আমাদের ফিরে এলো—সে গল্পটিই হচ্ছে রেনেসাঁ বা নবজাগরনের গল্প। তাহলে এসো, সে গল্পটিই এখন কাছে শোনা যাক।
ইউরোপে খ্রিস্টান ধর্মের উত্থান শুরু হয় চতুর্থ শতকে, যখন রোমান সম্রাট কনস্টানটাইন নিজে খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহন
-
বাবা খুব ভোরে উঠতেন। উঠে গান বাজাতেন আর পড়ার টেবিলে বসতেন। সেই ছোটবেলা থেকেই আমাদের ঘুম ভাঙতো গানের সুরে। আর বাবা যে পড়ার টেবিলে বসতেন এটা আমাদের কাছে ছিল নিত্যদিনের অভ্যাসের মতো। তাঁর লেখালেখি বা তিনি যে বরিশাল উদীচীর সভাপতি—এটা খুব স্বাভাবিক ছিল আমাদের কাছে। তিনি একাধারে একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন দক্ষ সংগঠক। তবে আমার কাছে তিনি শুধুই ‘বাবা’। আর বাবার সঙ্গে একদম ছোটবেলা থেকে যেতাম উদীচীতে। বিজ্ঞজনদের কথা শুনেই আমার বড় হওয়া। কি বুঝতাম জানি না। তবে বাবার সঙ্গেই থাকতাম। একুশে ফেব্রুয়ারিতে যখন বাবার হাত ধরে হেঁটে শহিদ মিনারে যেতে পারতাম না, তখন যে ভ্যানে বাদ্যযন্ত্র থাকতো সেই ভ্যানে
-
এক সময় এই পৃথিবীর চেহারা ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকম। ট্রেন, বাস, মোটর গাড়ি কিংবা উড়োজাহাজ তো ছিলই না—এমনকি মানুষের ঘর-বাড়িও ছিল না। তাহলে মানুষ তখন কোথায় থাকত? তখনকার মানুষ, অর্থাৎ আমাদের প্র-প্র ও হাজার বার প্র-পিতামহ ও পিতামহীরা থাকতো অন্ধকার গুহার ভেতর। অন্ধকার—কেননা তখন বিজলিবাতি ছিল না, হ্যাজাক লাইট এমনকি কেরোসিনের ল্যাম্পও ছিল না। শিকার করা পশু অর্থাৎ বলগা হরিণ, বাইসন, দানবাকৃতি ম্যামথের চর্বি দিয়ে জ্বালানো টিমটিমে আলোতে তারা কাজকর্ম করত। শুকনো কাঠ দিয়ে আগুন জ্বেলে তাদের গুহা গরম রাখত, কেননা তখন পৃথিবীতে ছিল ঠান্ডা তুষার যুগ। মানুষ তাদের শিকার করা পশুর চামড়া দিয়ে বানানো কর্কশ কাপড় পরত, আর সেই পশুর
-
সংস্কৃতির সাধনা মানুষকে মানবিক করে তোলে, তাকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। সমাজের প্রতি, রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ করে। শুধু মানুষ-সমাজ বা রাষ্ট্র নয়, মূলত তাকে জীবনের প্রতি, প্রাণ-প্রকৃতির প্রতি সংবেদনশীল করে বিশ্বদৃষ্টিসম্পন্ন করে তোলে। অগণিত মানুষের মাঝে সে তার কৃত্তির স্বাক্ষর রেখে যেতে পারে। উদীচীর প্রয়াত সভাপতি বদিউর রহমান তাঁর কৈশোর থেকেই এক ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়কে অতিক্রম করেও হয়ে উঠেছিলেন সেরকম এক ফলবান বৃক্ষ। হাসিমূখে জয় করে নিয়েছিলেন পরম দুঃখকেও। তাঁর প্রতি আভূমিনত শ্রদ্ধা।
বদিউর রহমান জন্ম নিয়েছিলেন ১৯৪৭ সালের ১৫ জানুয়ারি বরিশালে। তাঁর বাবা হাবিবুর রহমান ছিলেন রাজনীতি সচেতন একজন মানুষ। তিনি এ কে ফজলুল হকের কেএসপি’র সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে যুক্ত ছিলেন। মা
-
নৌবহরের গল্পের সাথে যে সাগরটির নাম সবচেয়ে বেশী জড়িত, তার চারদিকে তিনটি মহাদেশের ভূমি—এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপ। তাই অজানাকাল থেকে সে সাগরটির নাম ভূমধ্যসাগর। সে সাগরে প্রাচীন যে নৌবহর ভাসত, তার জাহাজগুলো অবশ্য এখনকার বিরাট বিরাট যান্ত্রিক জাহাজের মতো ছিল না। ছিল কাঠের তৈরি বড় বড় নৌকা। সেগুলো চলত পালের হাওয়ায় আর ক্রীতদাসদের অমানুষিক পরিশ্রমে বাওয়া লম্বা লম্বা দাঁড়ের শক্তিতে।
ভূমধ্যসাগরের একদিকে ফিনিশিয়া নামে এক প্রাচীন রাজ্য ছিল। ফিনিশিয়রা ছিল সে যুগের সবচেয়ে নামকরা বণিক—একজায়গা থেকে পণ্যসামগ্রী কিনে অধিক লাভে অন্য জায়গায় তারা বিক্রি করত। তাদের নাবিকরা সুদক্ষ হওয়ায় জাহাজগুলো দ্রুত চলতে সক্ষম ছিল। ফিনিশিয়রা সাগর পাড়ি দিয়ে দেশে দেশে
-
লেফ্ট-রাইট-লেফ্ট। লেফ্ট-রাইট-লেফ্ট। এভাবেই রাজপথে মার্চ করে চলে পৃথিবীর সবদেশের সৈনিকেরা। এখন তোমাদের কাছে যে দেশের গল্প করব, সে দেশের সৈনিকেরা এক সময়ে ছিল পৃথিবীর সেরা সৈনিক। রাজপথ কাঁপিয়ে তারা যাত্রা করত পৃথিবীর নানা দিকে—অজানা নানা দেশ জয় করতে। তখন দেশটির নাম ছিল রোম, আর সে দেশের লোকদের বলা হতো রোমান।
সেই রোম বর্তমানে ইতালির রাজধানী। টাইবার নদীর তীরে অবস্থিত রোম ছিল সারা পৃথিবীর শক্তিকেন্দ্র। তখন প্রবাদ ছিল যে সব রাজপথই রোম নগরে গিয়ে শেষ হয়। অর্থাৎ রোমানরা দিগ্বিজয় করে সুন্দর রাজপথ নির্মাণ করেছিল অধিকৃত সব সাম্রাজ্য সহজে শাসন করার সুবিধার্থে। পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ চারিদিকে তখন তাদের সাথে যুদ্ধ করে পেরে উঠার
-
দুঃসাহসী অভিযাত্রীদের অভিযান আমাদের পৃথিবীকে সবার কাছে পরিচিত করে তার বর্তমান রূপে তুলে ধরেছে। কিন্তু এমন এক সময় ছিল, যখন এই পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশি জায়গা ছিল আমাদের অজানা। এর বিরাট বিরাট সাগর, হ্রদ, নদী-নালা, পাহাড়-মরুভূমির সামান্য অংশই মানুষের জ্ঞানের পরিধিতে ছিল। অবশ্য সভ্য দুনিয়ার অজানা জায়গাতেও যে মানুষের পদচারণা ছিল না, তোমরা তা ভেবোনা। তবে সেসব জায়গার আদি অধিবাসীরা তাদের আদিম সংস্কৃতি ও জীবন-জীবিকা নিয়ে সঙ্গোপনে ছিল বলে অগ্রসরমান সভ্যতার আলো থেকে তারা ছিল অনেক দূরে। দুঃসাহসী অভিযাত্রীরা অজানা দেশে পর্যটনের মাধ্যমে সভ্যজগতকে সেসব অজানা দেশের খোঁজ দিয়েছে। আবার একই সাথে সেসব অজানা দেশের মানুষও আস্তে আস্তে বৃহত্তর পৃথিবীর সাথে
-
সকালের নাস্তা সকাল-সকাল শেষ করার জন্য বড় বড় নাস্তার ডিমগুলি সামনে রেখে আমরা সবাই গোল হয়ে বসে আছি। নানাবাড়ির রান্নাঘরের লাগোয়া ঘরটার মেঝেতে পাটি বিছিয়ে খাওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। লাল আটার মোটা মোটা রুটি, বুটের ডাল, পাঁচ রকমের মিশেলে দেওয়া সবজির নিরামিষ, গরুর মাংসের ভুনা, নারকেলের সন্দেশ আর রসমালাই নিয়ে নানাভাইয়ের জন্য অপেক্ষা করছি, তিনি এলেই খাওয়া শুরু হবে। এত সব খাবার অবশ্য প্রতিদিন হয় না। ঢাকা থেকে মেজ খালারা এসেছেন, তাদের জন্যই এই স্পেশাল আয়োজন।
পুবের ঘর থেকে নানাভাইয়ের কোরান-শরিফ পড়ার মিষ্টি করুণ সুর ভেসে আসছে। তিনি সকাল সাতটা পর্যন্ত কোরান-শরিফ পড়বেন সে তো এখনও প্রায় দু’তিন মিনিট বাকি।
-
শেষ পর্যন্ত মনে হয় আমরা আর কাজল মামার জন্য নানাবাড়িতে আসতেই পারব না। নানাবাড়িতে পা ফেলতে-না-ফেলতেই সে লেগে যাবে আমাদের পেছনে। কথায় কথায় নাকাল করবে, প্রতিটি কাজেই বাগড়া দিয়ে হয়রানি করবে অর্থাৎ যে করেই হোক আমাদের জব্দ করবে। আর আমাদের নাজেহাল নাস্তানাবুদ করতে পেরে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়বে।
এই তো দুদিন আগে, নানু আমাকে বললেন, ‘বাবলা, যা তো ভাই, খোকাদের বাড়ি থেকে বড় ঝাঁকি-জালটা নিয়ে আয়। নদীতে নাকি বড় বড় গলদা চিংড়ি পড়েছে। শেষরাত্রে জালালকে পাঠাব মাছ ধরতে’।
সূর্যটা ডুবে গেছে অনেক আগেই। আকাশে কালো কালো মেঘ জমে, চাঁদ তারা সব ঢেকে দিয়েছে। কালো রাত্রি, চারদিক ছাপিয়ে কালো অন্ধকার নেমেছে।
-
গতকাল বিকালে আমাদের হাফ-ইয়ার্লি পরীক্ষা শেষ হয়ে গেল। এখন বেশ কদিন আর আমাদের স্কুলে যেতে হবে না। আমাদের স্কুলের নিয়ম হচ্ছে হাফ-ইয়ার্লি পরীক্ষার পর দশ থেকে বারোদিনের ছুটি। ছুটির দিনগুলিতে টিচাররা আমাদের খাতাগুলি দেখবেন আর আমাদের ফেল করাবেন। ছুটির শেষে তারা খুব হাসি-হাসি মুখ করে ক্লাসে ঢুকবেন। হাতে খাতাগুলি তো থাকবেই আরও থাকবে তিন-চারটা করে বেত। ফেল-করাদের পিঠে পড়বে চারটা-পাঁচটা ছ’টা করে বেত।
তবে মার থেকে বাঁচতে আমরাও করি নানান রকম কারিগরি। যেমন মাজুল মামা স্কুলে যায় ‘অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে’ মনি-রবিনের কাঁধে ভর দিয়ে। ওর মুখের দিকে চেয়ে বেত মারা তো দূরের কথা ওকে দুদিনের ছুটি দিয়ে দেন ক্লাস-টিচাররা। রবিন
-
রবিনের হাতে সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা কাহিনি ‘দার্জিলিং জমজমাট!’ মনির হাতে ক্রীড়া-লেখক কাজী আবদুল আলীমের ‘খেলাধুলার আইন কানুন’ আর আমার হাতে প্রজাপতি প্রকাশনার বাংলা-অনুবাদ রবার্ট লুই স্টিভেনসনের ‘ট্রেজর আইসল্যান্ড’। তিনজনের হাতেই বই কিন্তু কেউ পড়ছি না। পড়ার মতো মনের অবস্থা নেই কারও। তিনজনের মুখই খুব গম্ভীর, ভিতরে ভিতরে রাগে ফুঁসছি তিনজনই’।
শেষ পর্যন্ত আমিই প্রথমে একটু সামলে নিলাম। মনের রাগটা ভিতরে রেখেই রবিন-মনির গম্ভীর মুখের দিকে চেয়ে একটা গদগদমার্কা হাসি দিয়ে খুব নরম গলায় বললাম, ‘তা-হলে চল ময়নামতি। কুমিল্লা তো কাছেই, পয়সা খরচও কম হবে। ময়নামতি পাহাড় আর লালমাই পাহাড় তো দেখলামই, অষ্টম শতকে বানানো বৌদ্ধদের শালবন বিহারও দেখলাম। এ-ছাড়া ক্যান্টনমেন্টে
-
নানাবাড়ি পুকুরঘাটে কাত হয়ে থাকা ঝাকড়া-পাতার চালতা গাছটায় বসে ভীষণ জটিল এবং চরম আপমানজনক একটা বিষয় নিয়ে চিন্তা করছিলাম আমরা চারজন অর্থাৎ দুলুমামা, রবিন, মনি আর আমি। সবার মুখই খুব গম্ভীর, রাগে থমথমে, উত্তেজনায় লাল। কেউ কোনো বলছে না। আসলে কথা বলার মতো মনের অবস্থাই নেই কারও।
বিষয়টা খুলেই বলি তা হলে—
আমাদের তোতা মামা থাকেন কানাডায়, সেখানেই চাকরি করেন, প্রচুর আয়-রোজগার। কদিন আগেই তিনি বাড়িতে বেশ কিছু টাকা পাঠিয়েছেন। কেন জানি, সেই টাকা পাওয়ার পর থেকেই বাড়ির প্রায় সবাই খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, শরীর স্বাস্থ্যের হয়ে যাচ্ছিল চরম অবনতি। সমুদ্রের বাতাস গায়ে না লাগালে নাকি সেই স্বাস্থ্য উদ্ধারের আর
ক্যাটাগরি
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.