কক্সবাজার ভ্রমণে বিপত্তি

নানাবাড়ি পুকুরঘাটে কাত হয়ে থাকা ঝাকড়া-পাতার চালতা গাছটায় বসে ভীষণ জটিল এবং চরম আপমানজনক একটা বিষয় নিয়ে চিন্তা করছিলাম আমরা চারজন অর্থাৎ দুলুমামা, রবিন, মনি আর আমি। সবার মুখই খুব গম্ভীর, রাগে থমথমে, উত্তেজনায় লাল। কেউ কোনো বলছে না। আসলে কথা বলার মতো মনের অবস্থাই নেই কারও।

বিষয়টা খুলেই বলি তা হলে—

আমাদের তোতা মামা থাকেন কানাডায়, সেখানেই চাকরি করেন, প্রচুর আয়-রোজগার। কদিন আগেই তিনি বাড়িতে বেশ কিছু টাকা পাঠিয়েছেন। কেন জানি, সেই টাকা পাওয়ার পর থেকেই বাড়ির প্রায় সবাই খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, শরীর স্বাস্থ্যের হয়ে যাচ্ছিল চরম অবনতি। সমুদ্রের বাতাস গায়ে না লাগালে নাকি সেই স্বাস্থ্য উদ্ধারের আর কোনো পথই খোলা ছিল না। তাই শরীর স্বাস্থ্য ভালো করার জন্য এই কিছুক্ষণ আগে মুক্তা মামা, হাফিজ মামা, মেজ খালা, সেজ খালা, লিলিখালা এমনকি আমাদের লিডার মাসুলমামা পর্যন্ত (রবিন-মনির একেবারে নিশ্চিত যে ওকে শুধু মালামাল টানবার জন্য নেওয়া হয়েছে) চলে গেল কক্সবাজার। সাথে সবার ছেলেমেয়ে আর এক দঙ্গল জিনিসপত্র। এখন বাড়িতে নানাভাই, নানু আর কাজের লোকেরা বাদে আছি শুধু আমরা চারজন।

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছা আমাদেরও কম ছিল না। আর আমরাও তো কম অসুস্থ হইনি। দুদিন আগে আমারও জ্বর হয়েছিল, কদিন আগে দুলু মামার হয়েছিল মাথা-ব্যথা। আর মনি-রবিনের তো পায়ে ব্যথা লেগেই আছে যদিও ফুটবল খেলে হয়েছে, তবুও তো অসুস্থই।

এত সব অসুস্থতার পরও প্রথম থেকেই শুনে আসছিলাম আমাদের নাকি কক্সবাজার নেওয়া হবে না। কিন্তু কথাটা বিশ্বাস হয়নি। জানতাম শেষ পর্যন্ত হয়তো আমাদের ছাড়া কেউ যাবে না। তাই লুকিয়ে-লুকিয়ে জামা-কাপড় ইস্ত্রি করেছি। জুতাগুলি কালি করে রেখেছি। শুধু বলার অপেক্ষা, সাথে সাথে ট্র্যাভেল-ব্যাগ গুছিয়ে সবার সাথে হাসিমুখে বেরিয়ে পড়ব।

কিন্তু আজ সকাল পর্যন্তও যখন আমাদের যাওয়ার ব্যাপারে কেউ কিছু বলল না, তখন আর নিজেদের চেপে রাখা সম্ভব হলো না। দুলু মামাকে সামনে নিয়ে গুটি-গুটি পায়ে হাজির হলাম মুক্তা মামার ঘরে। মুক্তা মামার ব্যস্ততা তখন চরমে। জিনিসপত্র গোছগাছ করতে হচ্ছে, সবাইকে ধমম-ধামক দিয়ে রেডি করতে হচ্ছে। একেবারে সময় নেই হাতে।

দুলু মামা অত্যন্ত বিনীতভাবে খুবই নরম গলায় বলল, ‘আমরাও যেতে চেয়েছিলাম।

‘যেতে চেয়েছিলাম মানে। কোথায়!’ মুক্তা মামা বাঘের হুংকার ছাড়লেন’।

আমি মনে মনে বললাম, তুমি কি বুঝতে পারছ না। কোথায় যেতে চাই। তোমার শ্বশুর-বাড়ি গিয়ে ঝগড়া করে যে না খেয়ে এসেছিলাম, সেখানে নিশ্চয়ই যেতে চাই না।

‘কক্সবাজার’, দুলু মামার কণ্ঠ আরও বিনীত।

মুক্তা মামা সিংহ-গর্জনে বললেন ‘ইহ! কক্সবাজার! কলেজ খোলা না। লেখাপড়ার নামে তো ঠনঠন’।

দুলু মামা তবুও হাল ছাড়ল না। একটু হাসিমুখে মিনমিন করে বলল, ‘ফিরে এসে বেশি করে সময় দিয়ে লেখাপড়া...।

আর কিছু বলার সময় পেল না। দুলু মামা। লাফিয়ে উঠে মুক্তা মামা দুলু মামার বাম কানটা ধরে প্রচণ্ড একটা ঝাঁকুনি দিয়ে বললেন, ‘গাধা দেখছিস গাধা!’

দুলু মামার গলা থেকে শব্দ বের হলো ‘আউ আউ’। সাথে সাথে মনি দরজার বাইরে আর রবিন বিদ্যুৎগতিতে বারান্দার শেষ মাথায়।। আমিও প্রায় বের হয়েই এসেছিলাম, কিন্তু গাধা কথাটা কানে যেতেই থমকে দাঁড়িয়ে গেলাম। আমাদের এই চারজনের মধ্যে আমিই একমাত্র গত বছর ঢাকা গিয়ে চিড়িয়াখানা দেখে এসেছি। সেখানে গাধাও দেখেছি। নিজের অভিজ্ঞতাটা ব্যক্ত করার সুযোগ হেলায় হারালাম না। হাসি হাসি মুখ করে বললাম, ‘জ্বি, গতবছর চিড়িয়াখানায় দেখে এসেছি’।

মুক্তা মামা চোখ লাল করে আমার দিকে চেয়ে রইলেন মিনিটখানেক। তারপর গরগর করে বললেন, ‘এরপর আর কোনো কথা বললে সবগুলোর কান টানতে টানতে ওই গাধার কানের মতো লম্বা

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice