নদীর গল্প
এক সময় এই পৃথিবীর চেহারা ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকম। ট্রেন, বাস, মোটর গাড়ি কিংবা উড়োজাহাজ তো ছিলই না—এমনকি মানুষের ঘর-বাড়িও ছিল না। তাহলে মানুষ তখন কোথায় থাকত? তখনকার মানুষ, অর্থাৎ আমাদের প্র-প্র ও হাজার বার প্র-পিতামহ ও পিতামহীরা থাকতো অন্ধকার গুহার ভেতর। অন্ধকার—কেননা তখন বিজলিবাতি ছিল না, হ্যাজাক লাইট এমনকি কেরোসিনের ল্যাম্পও ছিল না। শিকার করা পশু অর্থাৎ বলগা হরিণ, বাইসন, দানবাকৃতি ম্যামথের চর্বি দিয়ে জ্বালানো টিমটিমে আলোতে তারা কাজকর্ম করত। শুকনো কাঠ দিয়ে আগুন জ্বেলে তাদের গুহা গরম রাখত, কেননা তখন পৃথিবীতে ছিল ঠান্ডা তুষার যুগ। মানুষ তাদের শিকার করা পশুর চামড়া দিয়ে বানানো কর্কশ কাপড় পরত, আর সেই পশুর মাংস খেয়েই তাদের জীবন বাঁচত। আমাদের পূর্বপুরুষদের জীবন কত কষ্টের ছিল তা তোমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ।
আমরা জানিনা কষ্টের সে জীবন কতদিন কাটাতে হয়েছে। কতদিন চলে গেছে তাদের পাথরে পাথর ঘষে শিকার করার অস্ত্র বানাতে, আর পাথরে পাথর ঠুকে আগুন জ্বালাতে। তারপর ধীরে ধীরে তাদের জীবনযাত্রাতেও পরিবর্তন এসেছে। ঠান্ডা বরফযুগ কমে আসায়এবং শিকারের পশু কমে যাওয়ায় মানুষ গুহা থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে। বসতি স্থাপন করে গাছ-পাতা দিয়ে তৈরী কুটিরে। পশুর অভাব মানুষকে আগ্রহী করে তোলে ফলমূল ও মাছ খেয়ে জীবন কাটাতে। এভাবেই আস্তে আস্তে মানুষ অভ্যস্ত হয় কৃষিকাজে। আর সেচের সুবিধার জন্য সে কৃষিকাজ স্বাভাবিকভাবেই মানুষকে টেনে নিয়ে যায় প্রাচীন পৃথিবীর বড় বড় নদীগুলোর তীরে।
সেইসব নদীর নাম জানো তোমরা? এমনি এক বড় নদী, যার তীরে গড়ে উঠেছিল সবচেয়ে প্রাচীন এক সভ্যতা, তার নাম নীল নদ। প্রাচীন সেই নীল নদ আফ্রিকার উত্তর দিকে মিশর দেশে এখনও কুলুকুলু রবে বয়ে যাচ্ছে ভূমধ্যসাগরের দিকে। আর তার জলে রয়েছে বিরাট বিরাট কুমির। নীল নদের তীরবর্তী সে প্রাচীন সভ্যতা মানুষকে উপহার দিয়েছে অনেক কিছু—চিত্রধর্মী লিপি বা হায়রোগ্লিফিক, জ্যামিতি, জ্যোতির্বিজ্ঞান ইত্যাদি। জ্যামিতি আর জ্যোতির্বিজ্ঞান মানুষের প্রয়োজন হয়েছিল চাষবাস করার জন্য। প্রাচীন যুগের মানুষেরাই গড়ে তুলেছিল রাজ্য, যে রাজ্য শাসন করত একজন ক্ষমতাশালী রাজা। প্রাচীন মিশরের রাজাদের বলা হতো ‘ফারাও’—ফারাও আমেনহোটেপ, রামেসিস, হোরেমহেব ইত্যাদি বিদঘুটে সব নাম। ফারাওরা ছিল অসীম প্রতিপত্তি ও প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী। তাদের নাম শুনলে নীলনদের উত্তাল ঢেউও ভয়ে চুপ করে যেত, কেননা তারা তাদের অধীনস্থ প্রজাদের কথায় কথায় দিত মৃত্যুদণ্ড। যারা একটু ভাগ্যবান, তাদের জন্য নির্ধারিত হতো দাসের উদয়াস্ত পরিশ্রমের কঠিন জীবন। এরকম শত সহস্র দাসের কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে তারা গড়ে তুলেছিল অসংখ্য পাথর দিয়ে তৈরি ত্রিকোণ সমাধিসৌধ।
এসব সমাধিসৌধকে কি বলে ডাকা হয় তা তোমরা নিশ্চয়ই জানো! হ্যাঁ এগুলোকে বলে পিরামিড। ফারাওদের এসব বিশাল বিশাল পিরামিড আজও আমাদের কাছে বিস্ময়। কেননা সেই প্রাচীন যুগে আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্য ছাড়াই দূরদূরান্ত থেকে শুধু কায়িক পরিশ্রমে পাথর জড়ো করে কিভাবে তারা পিরামিড গড়ে তুলেছিল তা আমরা এখনো ভালভাবে বুঝে উঠতে পারিনি। এই পিরামিডগুলোতে ফারাওরা মৃত্যুর পর তাদের শরীর অবিকৃত রাখার জন্য মমি করে রাখত। সেই সঙ্গে সোনাদানা, হীরা-জহরত ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী দিয়ে দেওয়া হতো। সম্ভবত সে যুগের মানুষের ধারণা ছিল যে মৃত্যুর পর এক সময়ে তারা আবার এই পৃথিবীতে ফিরে আসবে। আর তখন তাদের প্রয়োজন হবে ধনসম্পদ ও দাসদাসীর। এ জন্যে ফারাওদের লাশের সঙ্গে জীবন্ত দাসদাসীদেরও হত্যা করে মমি করে দিয়ে দেয়া হতো। ভেবে দেখো, কি নিষ্ঠুর ছিল তখনকার মিশরের নিয়ম-কানুন!
মিশর থেকে অনেক দূরে, এশিয়া মহাদেশের আরো কয়েকটি বড় বড় নদীর ধারে গড়ে উঠেছিল প্রাচীন যুগের মানুষের সভ্যতা। এমনই একটি নদী
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments