বদিউর রহমান : সংস্কৃতির সংগ্রামে আপসহীন আলোর পথযাত্রী
সংস্কৃতির সাধনা মানুষকে মানবিক করে তোলে, তাকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। সমাজের প্রতি, রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ করে। শুধু মানুষ-সমাজ বা রাষ্ট্র নয়, মূলত তাকে জীবনের প্রতি, প্রাণ-প্রকৃতির প্রতি সংবেদনশীল করে বিশ্বদৃষ্টিসম্পন্ন করে তোলে। অগণিত মানুষের মাঝে সে তার কৃত্তির স্বাক্ষর রেখে যেতে পারে। উদীচীর প্রয়াত সভাপতি বদিউর রহমান তাঁর কৈশোর থেকেই এক ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়কে অতিক্রম করেও হয়ে উঠেছিলেন সেরকম এক ফলবান বৃক্ষ। হাসিমূখে জয় করে নিয়েছিলেন পরম দুঃখকেও। তাঁর প্রতি আভূমিনত শ্রদ্ধা।
বদিউর রহমান জন্ম নিয়েছিলেন ১৯৪৭ সালের ১৫ জানুয়ারি বরিশালে। তাঁর বাবা হাবিবুর রহমান ছিলেন রাজনীতি সচেতন একজন মানুষ। তিনি এ কে ফজলুল হকের কেএসপি’র সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে যুক্ত ছিলেন। মা ও এন খানম ছিলেন গৃহিনী। স্কুল জীবনেই বদিউর রহমান খেলাঘর আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং কলেজ জীবনেও তিনি খেলাঘর আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। এরপর বরিশালে খেলাঘরের কমিটি গঠন করা হলে তিনি তার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষা ও কর্ম জীবনে প্রবেশ
বদিউর রহমান ১৯৬১ সালে ম্যাট্রিক পাশ করে ব্রজমোহন কলেজে ভর্তি হন। কলেজে ভর্তির পর কলেজের অধ্যক্ষ এবং সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব কবির চৌধুরীর সান্নিধ্যে আসেন। এ সময় অগ্রজ ওবায়দুর রহমানের (যিনি পরে ন্যাপের সঙ্গে যুক্ত হন) পথ ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত হন। ১৯৬৪ সালে ব্রজমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত ব্রজমোহন কলেজ থেকেই তিনি স্নাতক পাস করেন। এরপর ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরেও বেশ কিছুদিন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকেন। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালিন ইকবাল হল শাখার সহ-সভাপতিও ছিলেন। এসময়েই তিনি বামপন্থী রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হন এবং ১৯৬৯ সালে ন্যাপ (মোজাফ্ফর)-এ যোগদান করেন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তিনি ন্যাপের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি দপ্তর সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬৮ সালে এম এ পরীক্ষা শেষে তিনি বরিশালের সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত হন। কিন্তু ’৭০-এর নির্বাচনে সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তাঁকে কলেজের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ফলে তিনি হয়ে ওঠেন সার্বক্ষণিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মী। এ সময় গোপন কমিউনিস্ট পার্টির কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ স্থাপিত হয়। যাদের মধ্যে কমরেড হিরণ ভট্টাচার্য অন্যতম। হিরণ ভট্টাচার্য তখন ন্যাপের মূল নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরিচয় ঘটে কমরেড নলিনী দাসের সঙ্গে। নলিনী দাস তখন পলাতক অবস্থায় বরিশালে যেতেন কখনও ডিম বিক্রেতা, কখনও ফেরিওয়ালার ছদ্মবেশে। তাঁর সঙ্গে চিরকুট বিনিময় হতে থাকে। ঘনিষ্টতা তৈরি হয় ন্যাপ নেতা সৈয়দ আশরাফ হোসেন, ছাত্র ইউনিয়নের নেতা শাহজাহান খান, মানবেন্দ্র বটব্যাল প্রমূখের সঙ্গে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে কমরেড নলিনী দাসের নির্দেশে বরিশাল শহর ত্যাগ করে প্রথমে কাউখালিতে, তারপর চিড়াপাড়া, শিয়ালকাঠি হয়ে ভাণ্ডারিয়ায় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের এক মামার বাড়িতে আশ্রয় নেন। দীর্ঘ পাঁচমাস সেখানে থেকে দুঃস্থ মানবতার সেবা করতে থাকেন। এরপর তিনি নিজগ্রাম বোথলা চলে যান। সেখানেও তিনি একইভাবে কাজ করতে থাকেন। এরকম একটা সময় তাঁর পিতা হাবিবুর রহমান সাহেব এক রিক্শা চালকের মারফত চিরকুট পাঠিয়ে বরিশালে ফিরে যেতে বলেন। পিতার নির্দেশে তিনি ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বরিশালে ফিরে যান এবং ৮ ডিসেম্বর বরিশাল হানাদারমুক্ত হয়।
স্বাধীনতার পর কমিউনিস্ট পার্টি প্রকাশ্যে কাজ শুরু করলে বদিউর রহমানও সরাসরি পার্টির কাজের সঙ্গে যুক্ত হন। পরের বছর তিনি পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন এবং সেসময় কমিউনিস্ট পার্টি তাঁকে বাংলাদেশ-সোভিয়েত মৈত্রী সমিতিতে কাজ করার নির্দেশ দেয়। তখন তিনি ন্যাপ ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ-সোভিয়েত মৈত্রী সমিতি বরিশাল শাখার সাধারণ
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments