নৌবহরের গল্প
নৌবহরের গল্পের সাথে যে সাগরটির নাম সবচেয়ে বেশী জড়িত, তার চারদিকে তিনটি মহাদেশের ভূমি—এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপ। তাই অজানাকাল থেকে সে সাগরটির নাম ভূমধ্যসাগর। সে সাগরে প্রাচীন যে নৌবহর ভাসত, তার জাহাজগুলো অবশ্য এখনকার বিরাট বিরাট যান্ত্রিক জাহাজের মতো ছিল না। ছিল কাঠের তৈরি বড় বড় নৌকা। সেগুলো চলত পালের হাওয়ায় আর ক্রীতদাসদের অমানুষিক পরিশ্রমে বাওয়া লম্বা লম্বা দাঁড়ের শক্তিতে।
ভূমধ্যসাগরের একদিকে ফিনিশিয়া নামে এক প্রাচীন রাজ্য ছিল। ফিনিশিয়রা ছিল সে যুগের সবচেয়ে নামকরা বণিক—একজায়গা থেকে পণ্যসামগ্রী কিনে অধিক লাভে অন্য জায়গায় তারা বিক্রি করত। তাদের নাবিকরা সুদক্ষ হওয়ায় জাহাজগুলো দ্রুত চলতে সক্ষম ছিল। ফিনিশিয়রা সাগর পাড়ি দিয়ে দেশে দেশে বাণিজ্য করত। তারা এমনকি ভূমধ্যসাগর থেকে বের হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরেও চলে যেতো। সুদূর ইংল্যাণ্ড পর্যন্ত ছিল তাদের বাণিজ্য পথের বিস্তার। এ ছাড়াও ফিনিশিয়রা তাদের আরও একটি কাজের জন্য এখনও স্মরণযোগ্য। তারা তাদের বাণিজ্যপথের বর্ণনা ও ব্যবসার জন্য ব্যবহৃত চিঠিপত্রের প্রয়োজনে আবিষ্কার করে প্রথম বর্ণমালা। এর আগেও মানুষ অবশ্য লিপির ব্যবহার জানতো, কিন্তু সে লিপি ছিল অত্যন্ত জটিল হায়রোগ্লিফিক লিপি। ফিনিশিয়দের কাছ থেকেই সহজ বর্ণমালা ও লিখনপদ্ধতি পৃথিবীর নানাদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভূমধ্যসাগরের অন্যপাশে—আফ্রিকার উত্তরউপকূলভাগের ঠিক মাঝখানেছিল প্রাচীন কার্থেজ নগরী। এই নগরীতে ছিল দুটি বন্দর। এর একটি ছিল যুদ্ধজাহাজের জন্য এবং অন্যটি বাণিজ্য-নৌবহরের জন্য। দুটো বন্দরই ছিল অত্যন্ত ব্যস্ত। কারণ কার্থেজীয়রা বাণিজ্য যেমন ভালোবাসত, তেমনি ভালোবাসত যুদ্ধবিগ্রহও। কার্থেজ নগরী ছিল মোটা পাথুরে দেয়াল দিয়ে ঘেরা, যার মধ্যে থাকত সদাপ্রস্তুত পদাতিক আর ঘোড়সওয়ার বাহিনী। ভূমধ্যসাগর উপকূলের অধিকাংশ এলাকাই তাদের পদানত হয়েছিল। কিন্তু একসময় বহিঃশত্রুর আক্রমণে পর্যুদস্ত হয়ে পরাক্রান্ত সে কার্থেজ নগরীও ধূলিস্যাৎ হয়ে যায়।
ভূমধ্যসাগরের উত্তর পাশে প্রাচীন গ্রিকদের নৌবহর যদিও তখনকার অনেক দেশের চেয়ে দুর্বল ছিল, কিন্তু তা ছিল নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রাচীন গ্রিসেই জন্য নেয় অন্ধকবি হোমার, যার রচিত মহাকাব্য ইলিয়ড ও অডিসি এখনও সবার প্রিয়। এই দুটো মহাকাব্য রচিত হয়েছিল ট্রয়নগরীর যুদ্ধকে কেন্দ্র করে। কি সেই কাহিনি জানো? গ্রিসের রাজা আগামেমননের ভাই মেনিলাসের স্ত্রী সুন্দরী-শ্রেষ্ঠা, দেবকন্যা হেলেনকে ট্রয়ের যুবরাজ প্যারিস সঙ্গোপনে নিয়ে যায় প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ট্রয় নগরীতে। আর এজন্যেই আগামেমনন, মেনিলাস, একিলিস ও অভিসিয়সের নেতৃত্বে গ্রিক বাহিনী নৌবহর নিয়ে ট্রয় আক্রমণ করে। অনেক বছর ধরে যুদ্ধের পরেও যখন ট্রয় নগরীর দুর্ভেদ্য দেয়াল ভেদ ব্যর্থ হয়ে তারা কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়। তারা কি করে জানো? একটা বিরাট কাঠের ঘোড়া বানিয়ে তার মধ্যে কিছু সৈন্য লুকিয়ে রাখে। ট্রয়বাসী তাদের এই কৌশল বুঝতে না পেরে সে ঘোড়াটিকে শহরের ভেতর টেনে নিয়ে যায়। এরপর সে সব সৈন্যই রাতে বের হয়ে নগরীর ফটক খুলে দেয়। এভাবেই গ্রিকরা ট্রয় নগরী দখল করে এবং তাকে পরিণত করে এক ধ্বংসস্তুপে। তারা বীরশ্রেষ্ঠ হেকটরসহ ট্রোজান যোদ্ধাদের হত্যা করে হেলেনকে আবার গ্রিসে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এ কাহিনি নিয়েই রচিত পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় মহাকাব্য ইলিয়ড, যা তোমরা অনেকেই পড়ে থাকবে। আর রাজা অডিসিয়াসের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও সেসময়ে তার নানা দুর্বিপাকে পড়ার কাহিনী নিয়ে রচিত আরেক বিখ্যাত মহাকাব্য অডিসি। হাজার হাজার বছর পরও এদুটো মহাকাব্যের জনপ্রিয়তা কিন্তু আজও কমেনি।
গ্রিস দেশের রাজধানী এথেন্স তার প্রাচীন সভ্যতা, শিল্প ও দর্শন চর্চার জন্য প্রসিদ্ধ। শহরের একপ্রান্তে উঁচু পাহাড়-চূড়ার নাম এক্রোপলিস। গ্রিকরা মনে করত যে এটাই তাদের জ্ঞানের দেবী এথিনার আবাসস্থল। এই এথিনা দেবী ও জ্ঞানের প্রতি ভালোবাসার জন্যই গ্রিকবাসী তাদের রাজধানীর নাম দেয় এথেন্স। সোনা আর আইভরি দিয়ে এথিনার মূর্তি
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments