প্রবাসে এল নতুন মুখ
‘কখন থেকে মেয়েটা কেঁদে যাচ্ছে। অথচ আমি ওই ঘরে যেতেই পারছি না। অপারেশনের ব্যথার কারণে অনেক সময় লাগছে যেতে। ওর কান্না বন্ধই হচ্ছে না। আমি প্রায় চিৎকারই করছি, আমার স্বামীকে ডাকছি। এমন সময় ঘুমটা ভেঙে গেল।’ যেন মেয়েটা ক্ষুধায় কান্না না শুরু করে, সেজন্য রাতে বেশ কয়েক ঘণ্টা পরপরই অ্যালার্ম দিয়ে ঘুমাই। তবে চিন্তায় অ্যালার্মের আগেই ঘুম ভেঙে যায় আমাদের। এই প্রবাসে সন্তান জন্ম, লালন পালন এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। একজন মা হিসেবে একাকী লালন-পালন, খাওয়ানো সব করা আসলেই খুব কঠিন। মাত্র পাঁচ মাস হতে চলল আমার মেয়ের। এই আমেরিকাতেই ওর জন্ম। আমি আর ওর বাবা মিলে ওর জন্মের বহু আগে থেকেই হাসপাতালে যাচ্ছি। ওর জন্ম অপারেশনের মধ্য দিয়ে। এমনকি ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে বাবা-মায়ের কী কী করতে হবে, সন্তান জন্মের পর সে বিষয়ে আমরা ট্রেনিং নিয়েছিলাম। নিয়ম অনুযায়ী নতুন অতিথির জন্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসই কেনা হয়ে গিয়েছিল, ওর জন্মের আগেই। সেটিই এ দেশের নিয়ম। ট্রেনিংগুলো ছিল যেন আমাদের দেশে নানি-দাদি, মা-খালার পরামর্শ। আমি আর আমার স্বামী মিলে যখন আমাদের মেয়েকে লালন-পালনের মধ্য দিয়ে দাদা, দাদি, নানা-নানি সবার দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করি, সেটা আসলেই এক ভিন্ন জীবন ভিন্ন চিত্র। বেশ কয়েক দিন হয়ে গেলেও এখনও আমাদের সোনামণিকে খাওয়ানো এক কঠিন প্রক্রিয়া। বহু গান, খেলনা দিয়ে খেলার পরই তার মনের চাহিদা পূর্ণ হয়। সারাক্ষণই আমাদের কোলে থেকে তার নানা খেলাধুলা চলতেই থাকে। আমার স্বামী বাবা হওয়ার জন্য সাত দিন প্যাটারনিটি ছুটি পেয়েছিল এবং এক মাস ছুটিও নিয়েছিল। আমি এখনও ছুটিতে আছি। আমাদের মেয়ের জন্মানোর জন্য যে দিন বলা হয়েছিল, তার বেশ আগেই হঠাৎ করে ওর চলে আসার অনুভূতি অনুভব করা শুরু করলাম। আমরা দুজন মিলেই গেলাম হাসপাতালে, আমাদের মেয়েকে পেতে, যার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি এত দিন ধরে। এদিকে আমার মা-বাবাও মনে হচ্ছিল অন্য প্রান্তে থেকেও যেন হাসপাতালে। আমার স্বামী একাই সব দায়িত্ব পালন করছিল হাসপাতালের। আর আমার মনে হচ্ছিল, ‘জীবনের সব নতুন ধাপে পাশে বাবা-মাকে পেলেও আজ আমি একা।’ সব ঠিক হলে, আমার স্বামী অপারেশনের পর আমাকে দেখবে, না আমাদের মেয়েকে? এমন কঠিন প্রশ্ন, কঠিন সময় কখনও সামনে এসে দাঁড়ায়নি।’ এভাবেই বলছিলেন প্রবাসী প্রভা তার কিছুদিন আগের অভিজ্ঞতা।
বিদেশে চিকিৎসা, ডাক্তার অনেক সহজলভ্য এবং চাকরি বা শিক্ষাক্ষেত্র একজন মায়ের জন্য অনেক সাহায্যকারীর ভূমিকা পালন করে। কিন্তু সেখানে একাকীত্ব সন্তান ও তার মা-বাবার জন্য এক বড় সমস্যা। দেশে মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন, সাহায্যকারী অনেক রয়েছে... কিন্তু চাকরি বা শিক্ষাক্ষেত্রে একজন মায়ের অবস্থান এখনও স্থিতিশীল নয়।
অন্যদিকে আমাদের দেশে মা হওয়ার পর তার অভিজ্ঞতা বলছিলেন সোনালী। তার ছেলের বয়স এবার ১১ মাস হতে চলল। তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। যখন তিনি বিয়ে করেন তখন এমন কথাও শুনেছেন সিনিয়রদের কাছ থেকে যে-বিয়ে করলেন, এরপরই তো বাচ্চার জন্য ছুটি নেবেন। যেন মেয়েদের চাকরিতে রাখাই এক ঝামেলা। বেশ কয়েক বছর পর যখন সন্তানসম্ভবা হলেন, তারা যেন আরও বিরক্ত। ইচ্ছা করে তাকে আরও চাপ বেশি দিলেন। বাসে বা রিকশায় যাওয়া আসা রিস্কি হয়ে গেল। তা-ও করে গেলেন। তার ছেলে হলো। শিশুর জন্মের আগে থেকেই মায়ের বাসায়ই ছিলেন। সব বিপদে সবাইকে পেয়েছেন। সন্তান জন্মানো উপলক্ষে তার স্বামী কোনো ছুটিই পাননি। সন্তানের ছয় মাস বয়সে তাকে আবার চাকরিতে যোগ দিতে হয়েছে। তার সন্তানকে আর বুকের দুধ খাওয়ানো হয়নি, যদিও ডাক্তাররা দুই বছর পর্যন্ত দিতে বলেন। তার ছেলে অন্য কিছু সহজে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments