কোনো বাধাই বাধা নয়
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই তৃণার (ছদ্মনাম) চোখ চলে যায় পত্রিকার দিকে, দিনের খবর জানতে। পত্রিকায় একেক দিন ছাপা হয় বাংলাদেশি নারীর প্রথম এভারেস্ট জয়, সিনজিনি সাহার আন্তর্জাতিক ফিজিকস অলিম্পিয়াডে ব্রোঞ্জ পদক পাওয়ার মতো বহু অর্জনের খবর। এসব জয়ের খবর পড়তে পড়তে তৃণার মনটা ভরে ওঠে আনন্দে। বুকটা ফুলে ওঠে গর্বে। সামাজিক ও পরিবেশগতভাবে নারীদের জীবনে চলার পথ যতই বন্ধুর হোক না কেন, তা তাদের এগিয়ে যাওয়া থেকে আটকাতে পারেনি। একথা ভেবে নিজের চলার পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য শক্তি পায় সে।
পাশাপাশি পত্রিকায় নানা দিন ছাপা হচ্ছে গৃহবধূর ওপর স্বামীর অমানুষিক অত্যাচার, রাস্তায় বাসে নারী ধষর্ণের শিকার এসব খবর। যা দেখে তৃণার মনটা ভরে ওঠে বিষাদে। মনে হয় নারীরা সারা জীবন নির্যাতিত হতেই থাকবে। পুরুষদের মানসিকতার কখনও পরিবর্তন আসবে না। তারা নারীদের মানুষ ভাবতে শিখবে না। কিন্তু পরমুহূর্তে সেসব দ্বিধাদ্বন্দ্ব মন থেকে মুছে ফেলে নিজেকে প্রস্তুত করে নতুন সংগ্রামের জন্য, স্বপ্ন দেখে নতুন বাংলাদেশের, যেখানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই এগিয়ে চলেছে। যেখানে নারীর প্রতি নেই কোনো অত্যাচার, নিপীড়ন, জিঘাংসা। তৃণার এই স্বপ্ন আমাদের সবার। আমাদের সবার মনেই সুপ্ত রয়েছে সেই বাসনা। তাকে জাগ্রত করতে হবে। সেই পথে আমরা এগিয়েছি অনেক দূর, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এখনও নারীরা পিছিয়ে রয়েছে। ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস।
সামাজিক ও পরিবেশগতভাবে নারীদের জীবনে চলার পথ যতই বন্ধুর হোক না কেন, তা তাদের এগিয়ে যাওয়া থেকে আটকাতে পারেনি। মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে কোনো বাধাই আসলে বাধা নয়।
নারী দিবস উপলক্ষে নানা পেশায় ও ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নারীদের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি সম্পর্কে আলোচনা হচ্ছিল বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে। নিচে তাদের মতামত তুলে ধরা হলো:
‘নিজেরা করি’ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক খুশী কবির বলেন, শিক্ষাগত দিক দিয়ে আমাদের দেশের নারীরা অনেক এগিয়েছে। বাইরে গিয়ে পড়াশোনা করাসহ চাকরির নানা সুযোগ তাদের জন্য তৈরি হয়েছে। কিন্তু এখনও নারীরা পথেঘাটে নিরাপদ নয়। নিরাপত্তাহীনতাই বহু ক্ষেত্রে তাদের এগিয়ে যওয়ার পথে বড় বাধা। আজকাল বিশেষভাবে ধর্ষণ, গণধর্ষণের হার অনেক বেড়ে গেছে। এমনকি ধর্ষণের পর তা চলে যাচ্ছে সাইবার সাইটে, যা যুক্ত করেছে নারী নির্যাতনের এক নতুন মাত্রা। নারীদের অগ্রযাত্রার পথে সবচেয়ে বড় বাধা ও দুর্বলতা দূর করার জন্য নারীদের একত্রে সংগঠিত থাকতে হবে। দেখা যায় যে নারী এই দুর্ঘটনার শিকার, সে সব সময় নিজেকেই দোষ দেয়। এমনকি সমাজও তাকে দায়ী করে। সমাজের সবাই এই সম্ভ্রমহানির কথা জানবে ভেবে সে কখনও কখনও মৃত্যুর পথ বেছে নিতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। অথচ কোনো নারী ধর্ষণের শিকার হলে তার তো কোনো দোষ নেই। দোষ ধর্ষকের। কারও ঘরে ডাকাতি হলে সে ক্ষেত্রে তার কোনো দোষ থাকে না। দোষ সেই ডাকাতের। তাই আমাদের এ ধরনের মানসিকতার ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। ধর্ষণের ক্ষেত্রে মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া নারীদের কাছে পরিষ্কার নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় ধর্ষকরা মামলা থেকে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে অসদুপায়ে; প্রভাবশালীদের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও অর্থ কাজে লাগিয়ে। নারীকে আরও নিরাপত্তাহীন অবস্থায় ঠেলে দিচ্ছে। এ সমস্যার সমাধানের একটিই উপায় রয়েছে, তা হলো নারী ও পুরুষ উভয়ের মানসিকতার পরিবর্তন। এ লক্ষ্যে গ্রামে গ্রামে ‘নিজেরা করি’ নারীদের সংগঠিত করছে। ধর্ষণসহ নানা ঘটনায় বেআইনি সালিস বন্ধ করছে। যেখানেই নারী-পুরুষ সংগঠিত, সেখানেই মন-মানসিকতার পরিবর্তন আনা সম্ভব হচ্ছে, যা নারীদের নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
আরলিংকস গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারপারসন ও মেট্রোপলিটন চেম্বারের (এমসিসিআই) নির্বাহী পরিষদের সদস্য রোকেয়া আফজাল রহমান বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা বর্তমানে আগের তুলনায়
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments