লেবুতলার ভূত

শেষ পর্যন্ত মনে হয় আমরা আর কাজল মামার জন্য নানাবাড়িতে আসতেই পারব না। নানাবাড়িতে পা ফেলতে-না-ফেলতেই সে লেগে যাবে আমাদের পেছনে। কথায় কথায় নাকাল করবে, প্রতিটি কাজেই বাগড়া দিয়ে হয়রানি করবে অর্থাৎ যে করেই হোক আমাদের জব্দ করবে। আর আমাদের নাজেহাল নাস্তানাবুদ করতে পেরে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়বে।

এই তো দুদিন আগে, নানু আমাকে বললেন, ‘বাবলা, যা তো ভাই, খোকাদের বাড়ি থেকে বড় ঝাঁকি-জালটা নিয়ে আয়। নদীতে নাকি বড় বড় গলদা চিংড়ি পড়েছে। শেষরাত্রে জালালকে পাঠাব মাছ ধরতে’।

সূর্যটা ডুবে গেছে অনেক আগেই। আকাশে কালো কালো মেঘ জমে, চাঁদ তারা সব ঢেকে দিয়েছে। কালো রাত্রি, চারদিক ছাপিয়ে কালো অন্ধকার নেমেছে। খোকাদের বাড়িটা নানাভাইয়ের মস্ত নারকেল-বাগানটা পেরিয়ে আরও সামনে। দিনে যেতেই গা ছমছম করে। আর রাত্রে তো কথাই নেই।

তবুও আমি নানুর কথার উত্তরে টুক করে বলে ফেললাম, ‘হু এক্ষুণি যাচ্ছি’।

নানু যেন বুঝতে না পারেন এখন আমি জাল আনতে যেতে পারব না। বুঝলে খবর আছে, চিৎকার চেঁচামেচি করে বাড়ি মাথায় তুলবেন। সাথে সাথে আম্মা লাগাবে এক রামধমক। মুক্তা মামা এসে কান ধরে মারবে এক টান।

আমি একটু সামনে গিয়ে বারান্দার পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে লিলি খালা রবিন আর মনিকে ডাকলাম। কিন্তু তিন-চারবার করে ডেকেও ওদের কোনো সাড়া পাওয়া গেল না। ‘দূর, গেল কোথায় সবাই। একা একা যাই কেমন করে’, একা একাই কথাটা বলি আমি।

আর ঠিক তক্ষুনি বারান্দা থেকে হো হো হাসির শব্দে চমকে উঠি। আবছা অন্ধকারে চেয়ে দেখি কাজল মামা শুয়ে শুয়ে হাসছে। হাসতে হাসতেই বলল ‘কি রে, এই সন্ধ্যারাত্রেই একা একা যেতে পারছিস না। কী সাহসরে বাবা, ভূতে ধরবে নাকি। আরে বোকা, ভূত বলে কিছু আছে নাকি! যতই ভয় পাবি ভূত এসে চেপে ধরবে আর যদি সাহস করিস, দেখবি ভূত-টূত সব উধাও’।

ভূত যে নেই সেটা তো সবার মতো আমিও জানি। আবার সেই নেই জিনিসটাকে সবাই যেমন ভয় পায়, আমিও পাই। আমি বললাম, ‘যদি এতই সাহস থাকে তো, তুমি গিয়েই নিয়ে আসো না জালটা’।

কাজল মামা বলল, ‘না, আমি এখন ঘুমাব। শেষ-রাত্রে তো জালালকে নিয়ে আমিই যাব মাছ ধরতে। পাশ ফিরে শুয়ে পড়ল কাজল মামা।

নানু কাছেই ছিলেন। শুরু করলেন বকুনি। আম্মা এসে ভয়ঙ্কর চোখ করে তাকালেন। মুক্তা মামা বাসায় নেই, তাই কানগুলি আপাতত বেঁচে গেল। কী আর করা, রাগে লাল হয়ে চোখ-কান বন্ধ করে দৌড়ে গিয়ে জালটা আনার প্রস্তুতি নিতেই দেখি সামনের রাস্তা দিয়ে লিলি খালারা আসছে। সেদিন জালটা আনতে আর অসুবিধা হলো না, ঠিকই কিন্তু কাজল মামার জন্য শুধু শুধু বকুনি খেলাম, তা তো মনে গেঁথেই রইল।

এটা তো গেল একদিনের কথা। প্রতিদিনই এমনি-এমনি হাজার কথা লেগেই আছে কাজল মামার মুখে—লিলি একটা মানুষ নাকি, তেলাপোকা দেখে ভয় পায়। মনি আর রবিন তো ফুটবল খেলতে গিয়ে সারাক্ষণই আছাড় খায়। ওদিকে বাবলু তো বই পড়তে পড়তে শুধু ঘুমায়।

আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে আম্মা নানু-মেজ খালা সবাই হা-হা করে ছুটে আসে। কাজল তো ঠিকই বলেছে। কাজল তো ঠিকই বলেছে।

তাল পেয়ে কাজল মামা তো পোয়াবারো। বলতে শুরু করে, ‘আর এদের সাহসের কথা কী আর বলব। সন্ধ্যারাত্তিরেই সব ভূতের ভয়ে কেঁচো। আমি তো মাঝে-মধ্যে রাত বারোটার পরেও বিদ্যাগঞ্জ থেকে একাই বাড়ি ফিরি। তোরা চারজনে মিলেও পারবি বলে মনে হয় না’।

মুচকি হেসে নানু-আম্মা-মেজ খালা বলেন, ‘পারবে না, পারবে না’।

কাজল মামাকে তখন ঠেকায় কে! আমাদের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে বলে, ‘আর

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice