- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
লেবুতলার ভূত
শেষ পর্যন্ত মনে হয় আমরা আর কাজল মামার জন্য নানাবাড়িতে আসতেই পারব না। নানাবাড়িতে পা ফেলতে-না-ফেলতেই সে লেগে যাবে আমাদের পেছনে। কথায় কথায় নাকাল করবে, প্রতিটি কাজেই বাগড়া দিয়ে হয়রানি করবে অর্থাৎ যে করেই হোক আমাদের জব্দ করবে। আর আমাদের নাজেহাল নাস্তানাবুদ করতে পেরে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়বে।
এই তো দুদিন আগে, নানু আমাকে বললেন, ‘বাবলা, যা তো ভাই, খোকাদের বাড়ি থেকে বড় ঝাঁকি-জালটা নিয়ে আয়। নদীতে নাকি বড় বড় গলদা চিংড়ি পড়েছে। শেষরাত্রে জালালকে পাঠাব মাছ ধরতে’।
সূর্যটা ডুবে গেছে অনেক আগেই। আকাশে কালো কালো মেঘ জমে, চাঁদ তারা সব ঢেকে দিয়েছে। কালো রাত্রি, চারদিক ছাপিয়ে কালো অন্ধকার নেমেছে। খোকাদের বাড়িটা নানাভাইয়ের মস্ত নারকেল-বাগানটা পেরিয়ে আরও সামনে। দিনে যেতেই গা ছমছম করে। আর রাত্রে তো কথাই নেই।
তবুও আমি নানুর কথার উত্তরে টুক করে বলে ফেললাম, ‘হু এক্ষুণি যাচ্ছি’।
নানু যেন বুঝতে না পারেন এখন আমি জাল আনতে যেতে পারব না। বুঝলে খবর আছে, চিৎকার চেঁচামেচি করে বাড়ি মাথায় তুলবেন। সাথে সাথে আম্মা লাগাবে এক রামধমক। মুক্তা মামা এসে কান ধরে মারবে এক টান।
আমি একটু সামনে গিয়ে বারান্দার পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে লিলি খালা রবিন আর মনিকে ডাকলাম। কিন্তু তিন-চারবার করে ডেকেও ওদের কোনো সাড়া পাওয়া গেল না। ‘দূর, গেল কোথায় সবাই। একা একা যাই কেমন করে’, একা একাই কথাটা বলি আমি।
আর ঠিক তক্ষুনি বারান্দা থেকে হো হো হাসির শব্দে চমকে উঠি। আবছা অন্ধকারে চেয়ে দেখি কাজল মামা শুয়ে শুয়ে হাসছে। হাসতে হাসতেই বলল ‘কি রে, এই সন্ধ্যারাত্রেই একা একা যেতে পারছিস না। কী সাহসরে বাবা, ভূতে ধরবে নাকি। আরে বোকা, ভূত বলে কিছু আছে নাকি! যতই ভয় পাবি ভূত এসে চেপে ধরবে আর যদি সাহস করিস, দেখবি ভূত-টূত সব উধাও’।
ভূত যে নেই সেটা তো সবার মতো আমিও জানি। আবার সেই নেই জিনিসটাকে সবাই যেমন ভয় পায়, আমিও পাই। আমি বললাম, ‘যদি এতই সাহস থাকে তো, তুমি গিয়েই নিয়ে আসো না জালটা’।
কাজল মামা বলল, ‘না, আমি এখন ঘুমাব। শেষ-রাত্রে তো জালালকে নিয়ে আমিই যাব মাছ ধরতে। পাশ ফিরে শুয়ে পড়ল কাজল মামা।
নানু কাছেই ছিলেন। শুরু করলেন বকুনি। আম্মা এসে ভয়ঙ্কর চোখ করে তাকালেন। মুক্তা মামা বাসায় নেই, তাই কানগুলি আপাতত বেঁচে গেল। কী আর করা, রাগে লাল হয়ে চোখ-কান বন্ধ করে দৌড়ে গিয়ে জালটা আনার প্রস্তুতি নিতেই দেখি সামনের রাস্তা দিয়ে লিলি খালারা আসছে। সেদিন জালটা আনতে আর অসুবিধা হলো না, ঠিকই কিন্তু কাজল মামার জন্য শুধু শুধু বকুনি খেলাম, তা তো মনে গেঁথেই রইল।
এটা তো গেল একদিনের কথা। প্রতিদিনই এমনি-এমনি হাজার কথা লেগেই আছে কাজল মামার মুখে—লিলি একটা মানুষ নাকি, তেলাপোকা দেখে ভয় পায়। মনি আর রবিন তো ফুটবল খেলতে গিয়ে সারাক্ষণই আছাড় খায়। ওদিকে বাবলু তো বই পড়তে পড়তে শুধু ঘুমায়।
আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে আম্মা নানু-মেজ খালা সবাই হা-হা করে ছুটে আসে। কাজল তো ঠিকই বলেছে। কাজল তো ঠিকই বলেছে।
তাল পেয়ে কাজল মামা তো পোয়াবারো। বলতে শুরু করে, ‘আর এদের সাহসের কথা কী আর বলব। সন্ধ্যারাত্তিরেই সব ভূতের ভয়ে কেঁচো। আমি তো মাঝে-মধ্যে রাত বারোটার পরেও বিদ্যাগঞ্জ থেকে একাই বাড়ি ফিরি। তোরা চারজনে মিলেও পারবি বলে মনে হয় না’।
মুচকি হেসে নানু-আম্মা-মেজ খালা বলেন, ‘পারবে না, পারবে না’।
কাজল মামাকে তখন ঠেকায় কে! আমাদের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে বলে, ‘আর
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
ফরহাদ খুররম
শিশুসাহিত্যিক ফরহাদ খুররমের জন্ম ময়মনসিংহের বিদ্যাগঞ্জে। ডিপ্লোমা ডাক্তার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও চিকিৎসা ক্ষেত্রের গণ্ডির বাইরে এসেও লিখছেন দীর্ঘদিন যাবৎ। লেখালেখির শুরু সেই সত্তর দশকের শেষ দিকে। দাদাভাইয়ের কচি-কাঁচার আসর ও সংবাদের খেলাঘর-এ; আরও অনেক পরে কিশোর তারকালোক-এ। লিখেছেন শিশু-কিশোরদের জন্য। সবই গল্প, আরেকটু স্পষ্ট করে বললে রম্যগল্প। দীর্ঘ কর্মজীবনের
আরও দেখুন...-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments