চাইনিজ খাবারের দাম

রবিনের হাতে সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা কাহিনি ‘দার্জিলিং জমজমাট!’ মনির হাতে ক্রীড়া-লেখক কাজী আবদুল আলীমের ‘খেলাধুলার আইন কানুন’ আর আমার হাতে প্রজাপতি প্রকাশনার বাংলা-অনুবাদ রবার্ট লুই স্টিভেনসনের ‘ট্রেজর আইসল্যান্ড’। তিনজনের হাতেই বই কিন্তু কেউ পড়ছি না। পড়ার মতো মনের অবস্থা নেই কারও। তিনজনের মুখই খুব গম্ভীর, ভিতরে ভিতরে রাগে ফুঁসছি তিনজনই’।

শেষ পর্যন্ত আমিই প্রথমে একটু সামলে নিলাম। মনের রাগটা ভিতরে রেখেই রবিন-মনির গম্ভীর মুখের দিকে চেয়ে একটা গদগদমার্কা হাসি দিয়ে খুব নরম গলায় বললাম, ‘তা-হলে চল ময়নামতি। কুমিল্লা তো কাছেই, পয়সা খরচও কম হবে। ময়নামতি পাহাড় আর লালমাই পাহাড় তো দেখলামই, অষ্টম শতকে বানানো বৌদ্ধদের শালবন বিহারও দেখলাম। এ-ছাড়া ক্যান্টনমেন্টে হাফিজ মামা আছে, ওর বাসায় থাকলাম’।

‘থাম, থাম’ দাঁত-মুখ খিঁচিয়ে সিংহের মতো গর্জন করে উঠল মনি। ‘ছিঃ ছিঃ’ শেষে কিনা ওই ময়নামতি। কী দেখার আছে ওই উঁইপোকার ঢিবির চেয়েও ছোট পিচ্চি পাহাড়ে। পাহাড়ে গেলে যাব গারো পাহাড়ে কিংবা উঠব ক্রিওক্রাডং এবং এর চূড়ায়।

‘চুপ, একদম চুপ’, সাথে সাথে বাধাটে গলায় হুংকার ছাড়ল রবিন।

‘ইহ! কী আমার এডমন্ড হিলারি আর তেনজিং নোরাকে এসেছে রে বাবা! পাহাড় পাহাড় করে পাগল হয়ে উঠেছে দুজনই। এর চেয়ে যা হিমালয়ের চূড়ায় ওঠগে, যা! নো পাহাড়। কোথাও গেলে যাব কক্সবাজার ও সমুদ্র দেখতে। নীল টলটলে পানি, চিকচিক বালি, বিশাল বিশাল ঢেউ। নামব, গোসল করব। সাঁতার কাটব!

এবার মওকা পেয়ে আমি ফ্যাক-ফ্যাক করে হেসে বললাম, ‘ইহ! আহারে আমার ব্রজেন দাস এসেছে রে। সমুদ্রে সাঁতার কাটবেন। এতই যদি শখ তবে এখানে কেন—ইংলিশ চ্যানেল এপার-ওপার করলেই হয়!’

মনিও হেসে বলল, ‘হ, কথা ঠিকই বলেছিস’।

আসল কথাটা খুলেই বলি তাহলে। আমাদের তোতা মামা অনেকদিন ধরেই কানাডাতে চাকরি করেন, সেখানেই সেটেলড। বড় ইঞ্জিনিয়ার, প্রচুর টাকা আয়। মাঝে-মধ্যেই চলে আসেন বাংলাদেশে, দু-এক মাস থেকে যান। গত বছরই এসেছিলেন হঠাৎ করে তিনদিন আগে আবার এসেছেন, থাকবেন মাসখানেক। আসার সময় তিনি কত্ত জিনিস যে এনেছেন তার লিস্টি দিলে ফুলস্কেপ কাগজের চার-পাঁচ পৃষ্ঠায়ও কুলাবে বলে মনে হয় না।

তোতা মামার মতো দিল-দরিয়া মানুষ খুব কমই আছে। জামা-কাপড়, কলম সেন্ট, শ্যাম্পু বাদেও আমাদের তিনজনকে দিলেন একটি করে ঘড়ি ও ক্যামেরা আর মাসুল মামা সব কিছু পাওয়ার পরও একটা অসম্ভব সুন্দর বাইনোকুলারের দিকে ‘সতৃষ্ণ-নয়নে’ চেয়ে থাকায় সেটাও তাকে দিয়ে দিলেন। এত্তোসব জিনিস পেয়ে তো আমরা আহ্লাদে আটখানা।

এরপর গতকাল খাবার টেবিলে তো মামা ঘোষণা দিলেন—বাড়ির ছেলেমেয়েরা যারা কলেজে পড়ছে—তাদের সবাইকে এক হাজার করে টাকাও দেওয়া হবে। আর তখন তো আমাদের আহ্লাদ উঠতে উঠতে একেবারে ষোলাআনায় পরিণত হয়েছে। আমরা তিনজন তো এবারই স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা পাশ করে কলেজে ভর্তি হয়েছি আর মাসুলমামা স্কুলফাইন্যাল পাশ করেছে গতবারই। টাকাটা হাতে পেয়েই আমরা ঠিক করে ফেললাম, এবার আর এই টাকা আমরা শুধু-শুধুই খরচ করব না, এবার দূরে কোথাও বেড়াতে চলে যাব।

খুব সকালে একেবারে কাক-ডাকা ভোরে মাসুল মামা, মুক্তা মামার সাথে ঢাকা চলে গেল মেজখালার বাসায়, দুদিন পর মেজখালাকে নিয়ে ফিরবে। যাওয়ার আগে বলে গেছে, ‘তোরা তিনজন মিলে ঠিক করে ফ্যাল কোথায় যাওয়া যায়। আমি এসেই কাপড়-চোপড় গুছিয়ে শুধু ট্রেনে উঠব আর...’। চকাট করে দুআঙুলে একটা তুড়ি মেরে বুঝিয়ে দিলো হাওয়া হয়ে যাব’।

সেই বেড়ানোর জায়গাটা ঠিক করতে আজ সকালে নাস্তা খাওয়ার পর পরই আমরা তিনজন কনফারেন্সে বসেছি। এখন তো প্রায় দুপুরের খাওয়ার সময় হয় হয়, কিন্তু এ-পর্যন্ত ঠিকই করতে পারলাম না কোথায় যাওয়া যায়। মনি যদি বলে রাঙামাটি, রবিন বলে

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice