রাজপথের গল্প
লেফ্ট-রাইট-লেফ্ট। লেফ্ট-রাইট-লেফ্ট। এভাবেই রাজপথে মার্চ করে চলে পৃথিবীর সবদেশের সৈনিকেরা। এখন তোমাদের কাছে যে দেশের গল্প করব, সে দেশের সৈনিকেরা এক সময়ে ছিল পৃথিবীর সেরা সৈনিক। রাজপথ কাঁপিয়ে তারা যাত্রা করত পৃথিবীর নানা দিকে—অজানা নানা দেশ জয় করতে। তখন দেশটির নাম ছিল রোম, আর সে দেশের লোকদের বলা হতো রোমান।
সেই রোম বর্তমানে ইতালির রাজধানী। টাইবার নদীর তীরে অবস্থিত রোম ছিল সারা পৃথিবীর শক্তিকেন্দ্র। তখন প্রবাদ ছিল যে সব রাজপথই রোম নগরে গিয়ে শেষ হয়। অর্থাৎ রোমানরা দিগ্বিজয় করে সুন্দর রাজপথ নির্মাণ করেছিল অধিকৃত সব সাম্রাজ্য সহজে শাসন করার সুবিধার্থে। পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ চারিদিকে তখন তাদের সাথে যুদ্ধ করে পেরে উঠার মতো কেউ নেই। এই ছিল প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের প্রশস্ত রাজপথের ইতিহাস।
শুধু রোমানরাই বা কেন, এর আগেও নানা দেশে বীর নায়কদের সেনাবাহিনী রাজপথ কাঁপিয়েছে—তা তোমরা নিশ্চয়ই জানো। যিশুখ্রিষ্টের জন্মের তিন শ বছরেরও আগে রাজপথে দীর্ঘ ছায়া পড়ল মেসিডোনিয়ার রাজা মহাবীর আলেকজাণ্ডার ও তার পরাক্রান্ত সৈন্যবাহিনীর। মেসিডোনিয়ার রাজা ফিলিপের পুত্র এই আলেকজান্ডার, আর তার শিক্ষক ছিলেন তখনকার যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী দার্শনিক ও বিজ্ঞানী এরিস্টটল। এরিস্টটল শিক্ষালাভ করেছেন বিখ্যাত দার্শনিক প্লেটোর কাছে আর প্লেটো প্রাচীন গ্রিসের সবচেয়ে নামকরা দার্শনিক সক্রেটিসের কাছে। যাহোক, উচ্চভিলাষী আলেকজান্ডার কিন্তু রাজা হয়েই তার ক্ষুদ্র রাজ্যকে বিশাল বিস্তৃত করার স্বপ্ন দেখেন।
তাই রাজপথে বের হয়ে পড়ে তার সৈন্যদল, যাদের চোখে দিগ্বিজয়ের স্বপ্ন। আলেকজান্ডারের সেনাবাহিনী প্রথমেই জয় করে নেয় গ্রিস, কেননা গ্রিস তখন অন্তর্কলহে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তারপর ভূমধ্যসাগরের কিনার ঘেঁষে তাঁর সেনাবাহিনী যাত্রা করে পূর্বদিকে। তাদের উদ্দেশ্য এশিয়ার দেশগুলো জয় করা। তখনকার পরাক্রমশালী পারস্যদেশ জয় করে আলেকজান্ডার তার যুদ্ধের ঘোড়া বুসিলাসের লাগাম ছেড়ে দেয়—চলতে থাকে আরো পূর্বদিকে, একেবার ভারতবর্ষের সিন্ধু নদের কিনারা পর্যন্ত। সেখানে তখনকার রাজা পুরুকে পরাজিত করে আলেকজান্ডার আরও পূর্বদিকে গঙ্গা নদী পর্যন্ত উপস্থিত হয়। তখন ধারণা ছিল যে আরও সামান্য পূর্বে গেলেই পৃথিবীর শেষ প্রান্তে পৌছে যাওয়া যাবে। তাই আলেকজান্ডার তার সেনাবাহিনীকে সমস্ত পৃথিবী জয় করার মানসে নির্দেশ দেয় পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পদচারণার। কিন্তু রোগে-শোকে, পথশ্রমে ও উপর্যুপরি যুদ্ধে কাতর সেনাবাহিনীর আর সামনে এগোনোর শক্তি ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে আলেকজান্ডার তার সেনাবাহিনী নিয়ে স্বদেশের দিকে রওয়ানা হয়। পথে সেই প্রাচীন নগরী ব্যাবিলনে মাত্র তেত্রিশ বছর বয়সে রোগাক্রান্ত মহাবীর আলেকজান্ডার মৃত্যু বরণ করেন। তার মৃত্যুর পর গ্রিকসাম্রাজ্য বলে পরিচিত এই বিরাট সাম্রাজ্য বিজয়ী গ্রীক সেনাপতিরা ভাগ করে নেয়। উত্তর অংশের সাম্রাজ্য পড়ে সেনাপতি টলেমি আর ভারতসহ দক্ষিণ অংশ পড়ে সেলুকাসের ভাগে।
আলেকজান্ডারের কথা এটুকুই থাক। আবার আমরা রোমানদের রাজপথের গল্পে ফিরে যাই। রোমান সৈনিকরা শুধু তলোয়ারের ধার আর বর্শার তীক্ষ্ম ফলার শক্তিতেই বিশ্বাস করত না, তারা ছিল তখনকার বিশ্বের সবচেয়ে সুসংবদ্ধ ও প্রশিক্ষিত সৈনিক। তাদের সেনাবাহিনীকে বিভক্ত করা হতো দুই ভাগে: কোহর্ট ও লিজিয়নে। আগেই তো বলেছি রোমান সাম্রাজ্যের সর্বত্র বিচরণের জন্য তারা তৈরি করেছিল প্রশস্ত রাজপথ। যেগুলো ছিল মজবুত আর চৌকোনা এ্যাশফেল্ট দিয়ে তৈরি। রাস্তার ধারে পাথরের থামে লেখা থাকত দূরত্ব-নির্দেশক, যার সাহায্যে কাছাকাছি সেনাছাউনির দূরত্ব পরিমাপ করা যেত সহজেই। সেসব সেনা ছাউনিতে সৈনিকদের বিশ্রাম, খাওয়া-দাওয়া ও ঘোড়াবদলের সুযোগ থাকত। বার্তাবাহক ও দূতেরা শাসন ব্যবস্থা সুদৃঢ় রাখার প্রয়োজনে সাম্রাজ্যের সর্বত্র চলাফেরা করত। এ সমস্ত কারণেই তখনকার রোমান সাম্রাজ্য ছিল অজেয়।
কিন্তু একদিন কি আশ্চর্য ঘটনা ঘটলো জানো? একদিন দেখা গেল এ সমস্ত প্রশস্ত রাজপথে চকচকে তলোয়ার ও সুতীক্ষ্ণ বর্শাফলক নিয়ে রোমান সৈনিকদের কোহর্ট
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments