- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
তীতুমীরের প্রপৌত্র
রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মাল নামানো দেখছিলাম। পাশের বাড়ীতে নতুন ভাড়াটে আসছে। দুটো ট্রাক ভরে মাল এসেছে। আর একটা ট্যাক্সিতে করে ভাড়াটেরা এসেছে। ওরা মোট সাতজন। দু'ভাই, তিন বোন আর আব্বা, আম্মা। ওরা যখন নামছে তখন দেখলাম যে আমার চেয়ে কিছু বড় একটা ছেলেও আছে। আমি ভাবলাম, যাক ওর সঙ্গেই ভাব করতে হবে।
বিকেলে ওদের বাসায় গেলাম। বাসার কড়া নাড়তেই ভেতর থেকে কে যেন বলল: ভেতরে এস।
আমি ভেতরে ঢুকে গেলাম। দেখলাম সেই ছেলেটি কি যেন বসে বসে লিখছে। সে আমার দিকে তাকালোও না।
আমি একটু অপ্রস্তুতের মত কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম। সে বসতেও বলল না। কতক্ষণ আর দাঁড়িয়ে থাকা যায়। সামনের সোফাটায় বসে পড়লাম। বসে ছেলেটির দিকে চেয়ে রইলাম। ছেলেটি এক মনে লিখেই চলেছে। আমার দিকে মোটেই তাকাচ্ছে না। অবশেষে মরিয়া হয়ে প্রশ্ন করলাম: তোমরা আগে কোথায় থাকতে ভাই?
ছেলেটির কথা বলার কোন লক্ষণই দেখা গেল না। আবার আমি বললাম: তুমি কোন্ স্কুলে পড়ো?
এবারও কোনো সাড়া নেই। আবার আমি বললাম: তোমরা ক ভাই বোন?
কিন্তু তথৈবচ। এবার রেগে উঠে পড়লাম। বললাম: চলি তাহলে আজ।
এতক্ষণে যেন ছেলেটির হুঁশ হল। বললে কি বললে, চললে নাকি? তা বস না আরেকটু।
আমারও কিছুক্ষণ বসে আলাপ করার ইচ্ছে ছিল। বসে পড়লাম। বললাম: কি লিখছিলে? চিঠি বুঝি?
: চিঠি? চিঠি আমি আবার লিখব কাকে? আমি কি কখনো চিঠি লিখি নাকি?
আমি বললাম: সে কি? চিঠি লেখ না কখন? সে কেমন কথা?
: তা চিঠি আমি লিখি বৈ কি? তবে যাকে তাকে তো আর লিখি না? আমার একটা চিঠি যে
পাবে তার মস্ত বড় সৌভাগ্য বলতে হবে।
: এ্যাঁ। তাহলে তো তুমি যেমন তেমন লোক নয়।
: তা তো বটেই। আমি কি আর যেমন তেমন লোক। স্বয়ং তিতুমীরের প্রপৌত্র।
: বল কি। তিতুমীরের প্রপৌত্র। মানে…মানে…তিতুমীরের…!
নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলাম না। সেই ঐতিহাসিক তিতুমীরের প্রপৌত্র আমাদের পাড়ায় বাস করছে। আর আমি তারি সামনে বসে কথা বলছি। হাতে চিমটি কেটে দেখলাম, না জেগেই আছি। অনেকক্ষণ ছেলেটির দিকে চেয়ে রইলাম। তারপর সামলে নিয়ে বললাম: তা কি লিখছিলে?
সে বলল: কবিতা।
আমি অবাক। তিতুমীরের প্রপৌত্র আবার কবিতাও লেখে নাকি।
তারপর আমাকে কোন কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই পড়তে লাগল…
পথের পাশের ঐ আম্র বৃক্ষচ্ছায়ে
তেতে উঠা শীতের দুপুরে আমি
বসে বসে কবিতা লিখি।
তখন কোকিল ডাকে কুহু কুহু স্বরে।
চেয়ে দেখি আমি, মাথার
ঝুঁটিটি নাচিয়ে সে এক মনে ডেকে
চল সুমধুর স্বরে।
তারপর আমার দিকে চেয়ে বললে বুঝলে, এসব হলো আধুনিক কবিতা। জ্ঞানী-গুণী ছাড়া সাধারণ লোকেরা এ কবিতা কিছুই বুঝবে না।
আমি বললাম: তা তো বটেই।
তারপর মনে মনে বললাম: কোকিলের মাথায় যে ঝুঁটি থাকে আর সে যে সেই ঝুঁটি নাচিয়ে শীতের দুপুরে কুহু কুহু করে ডাকে সে কথা সাধারণ লোকের পক্ষে বোঝাটা একটু কষ্টসাধ্যই বটে।
আমি বললাম: তোমার কবিতা কোন কাগজে ছাপা হয়েছে নাকি?
সে বলল: আরে দূর দূর, কাগজে লেখা ছাপায় কেউ? প্রথমে দুএকটা লেখা অবশ্য পাঠিয়েছিলাম, এখন আর পাঠাই না।
: কেন? প্রথম লেখাগুলি ছাপে নি বলে?
: ছাপবে না মানে? ওদের ঘাড় ছাপবে। তবে কিনা আমি নিজে ইচ্ছে করেই ওদের ছাপতে দেই নি। পত্রিকায় তো সব সাধারণ লেখা ছাপে কিনা? তাই সম্পাদকরা বলল যে, আমার লেখা এতই উচ্চাঙ্গের হয়েছে যে তা যদি ঐ সব সাধারণ লোকের সাধারণ লেখার মাঝখানে ছাপে তবে আমারই অপমান। তাই আমি
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
খান মোহাম্মদ ফারাবী
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments