তীতুমীরের প্রপৌত্র

রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মাল নামানো দেখছিলাম। পাশের বাড়ীতে নতুন ভাড়াটে আসছে। দুটো ট্রাক ভরে মাল এসেছে। আর একটা ট্যাক্সিতে করে ভাড়াটেরা এসেছে। ওরা মোট সাতজন। দু'ভাই, তিন বোন আর আব্বা, আম্মা। ওরা যখন নামছে তখন দেখলাম যে আমার চেয়ে কিছু বড় একটা ছেলেও আছে। আমি ভাবলাম, যাক ওর সঙ্গেই ভাব করতে হবে।

বিকেলে ওদের বাসায় গেলাম। বাসার কড়া নাড়তেই ভেতর থেকে কে যেন বলল: ভেতরে এস।

আমি ভেতরে ঢুকে গেলাম। দেখলাম সেই ছেলেটি কি যেন বসে বসে লিখছে। সে আমার দিকে তাকালোও না।

আমি একটু অপ্রস্তুতের মত কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম। সে বসতেও বলল না। কতক্ষণ আর দাঁড়িয়ে থাকা যায়। সামনের সোফাটায় বসে পড়লাম। বসে ছেলেটির দিকে চেয়ে রইলাম। ছেলেটি এক মনে লিখেই চলেছে। আমার দিকে মোটেই তাকাচ্ছে না। অবশেষে মরিয়া হয়ে প্রশ্ন করলাম: তোমরা আগে কোথায় থাকতে ভাই?

ছেলেটির কথা বলার কোন লক্ষণই দেখা গেল না। আবার আমি বললাম: তুমি কোন্ স্কুলে পড়ো?

এবারও কোনো সাড়া নেই। আবার আমি বললাম: তোমরা ক ভাই বোন?

কিন্তু তথৈবচ। এবার রেগে উঠে পড়লাম। বললাম: চলি তাহলে আজ।

এতক্ষণে যেন ছেলেটির হুঁশ হল। বললে কি বললে, চললে নাকি? তা বস না আরেকটু।

আমারও কিছুক্ষণ বসে আলাপ করার ইচ্ছে ছিল। বসে পড়লাম। বললাম: কি লিখছিলে? চিঠি বুঝি?

: চিঠি? চিঠি আমি আবার লিখব কাকে? আমি কি কখনো চিঠি লিখি নাকি?

আমি বললাম: সে কি? চিঠি লেখ না কখন? সে কেমন কথা?

: তা চিঠি আমি লিখি বৈ কি? তবে যাকে তাকে তো আর লিখি না? আমার একটা চিঠি যে

পাবে তার মস্ত বড় সৌভাগ্য বলতে হবে।

: এ্যাঁ। তাহলে তো তুমি যেমন তেমন লোক নয়।

: তা তো বটেই। আমি কি আর যেমন তেমন লোক। স্বয়ং তিতুমীরের প্রপৌত্র।

: বল কি। তিতুমীরের প্রপৌত্র। মানে…মানে…তিতুমীরের…!

নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলাম না। সেই ঐতিহাসিক তিতুমীরের প্রপৌত্র আমাদের পাড়ায় বাস করছে। আর আমি তারি সামনে বসে কথা বলছি। হাতে চিমটি কেটে দেখলাম, না জেগেই আছি। অনেকক্ষণ ছেলেটির দিকে চেয়ে রইলাম। তারপর সামলে নিয়ে বললাম: তা কি লিখছিলে?

সে বলল: কবিতা।

আমি অবাক। তিতুমীরের প্রপৌত্র আবার কবিতাও লেখে নাকি।

তারপর আমাকে কোন কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই পড়তে লাগল…

পথের পাশের ঐ আম্র বৃক্ষচ্ছায়ে

তেতে উঠা শীতের দুপুরে আমি

বসে বসে কবিতা লিখি।

তখন কোকিল ডাকে কুহু কুহু স্বরে।

চেয়ে দেখি আমি, মাথার

ঝুঁটিটি নাচিয়ে সে এক মনে ডেকে

চল সুমধুর স্বরে।

তারপর আমার দিকে চেয়ে বললে বুঝলে, এসব হলো আধুনিক কবিতা। জ্ঞানী-গুণী ছাড়া সাধারণ লোকেরা এ কবিতা কিছুই বুঝবে না।

আমি বললাম: তা তো বটেই।

তারপর মনে মনে বললাম: কোকিলের মাথায় যে ঝুঁটি থাকে আর সে যে সেই ঝুঁটি নাচিয়ে শীতের দুপুরে কুহু কুহু করে ডাকে সে কথা সাধারণ লোকের পক্ষে বোঝাটা একটু কষ্টসাধ্যই বটে।

আমি বললাম: তোমার কবিতা কোন কাগজে ছাপা হয়েছে নাকি?

সে বলল: আরে দূর দূর, কাগজে লেখা ছাপায় কেউ? প্রথমে দুএকটা লেখা অবশ্য পাঠিয়েছিলাম, এখন আর পাঠাই না।

: কেন? প্রথম লেখাগুলি ছাপে নি বলে?

: ছাপবে না মানে? ওদের ঘাড় ছাপবে। তবে কিনা আমি নিজে ইচ্ছে করেই ওদের ছাপতে দেই নি। পত্রিকায় তো সব সাধারণ লেখা ছাপে কিনা? তাই সম্পাদকরা বলল যে, আমার লেখা এতই উচ্চাঙ্গের হয়েছে যে তা যদি ঐ সব সাধারণ লোকের সাধারণ লেখার মাঝখানে ছাপে তবে আমারই অপমান। তাই আমি

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice