-
লেখক: এ্যানটোনিও বোফি লিওনি সোরোলি
সিআইএ-র অপরাধমূলক কার্যকলাপ গত কয়েক বছর ধরে মাঝে মাঝেই সংবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৷ ঐসব অপরাধের কিছু কিছু এই পত্রিকাতেও প্রকাশিত হয়েছে। সি আই এ-র অপরাধের রেকর্ড গত বছরে আরও স্ফীতকায় হয়ে উঠেছিল। সেই দিক থেকে এই “গোয়েন্দা সম্প্রদায়টি”র ইতিহাস পর্যালোচনা করার প্রয়োজন আছে।
এই মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাটির সৃষ্টি হয় ১৯৪৭-এর সেপ্টেম্বর মাসে। একেবারে গোড়া থেকেই-এর হাতে যথেষ্ট ক্ষমতা ও সম্পদ সমর্পণ করা হয় ৷ বলতে গেলে, এর ভবিষ্যৎ অন্তর্ঘাতী কার্যকলাপের কর্মসূচী আগে থেকেই স্থির হয়ে গিয়েছিল। ১৯৪৮ সালে মার্কিন রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এই মর্মে একটা গোপন নির্দেশ জারি করেছিল যে, সি আই
-
ইসরায়েলের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসটা জুড়ে তার উগ্র ইহুদীবাদী শাসকদের অপরিবর্তনীয় নীতি হচ্ছে দেশটাকে সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করা, যার মাধ্যমে প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রগুলোর ওপর আক্রমণ চালানো যায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রগতিশীল, জাতীয় মুক্তি আন্দোলনকে আঘাত করা যায়। বিগত বিশ বছরে তিনবার এই এলাকায় ইসরায়েল সামরিক সংঘর্ষ বাধিয়েছে।
মোট জাতীয় উৎপাদনের মধ্যে সামরিক ব্যয় খাতে ইস্রায়েলের অংশ বিশ্বরেকর্ড করেছে। এটা ব্রিটেন, ফ্রান্স, এফআরজি বা ইতালির চেয়েও অনেক বেশি। এমনকি সরকারি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় (মাত্র প্রত্যক্ষ সামরিক ব্যয়কে ধরে) ১৯৭৬ সালের যুদ্ধ প্রস্তুতি মোট জাতীয় উৎপাদনের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি উৎপাদনী উপযোগিতাকে খর্ব করেছে, যা বাজেটের প্রায় অর্ধেক (১নং সারণি দেখুন):
সারণি ১ : ইসরায়েলের -
শ্রীলঙ্কার কমিউনিস্ট পার্টির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক কাটোরগে পি সিলভা-র সঙ্গে সাক্ষাৎকার ৷
প্ৰ:বিগত জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত শ্রীলঙ্কার ন্যাশনাল স্টেট এসেমব্লী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করেন?
উ:এ জয় উগ্র দক্ষিণপন্থী, সাম্রাজ্যবাদ-ঘেঁষা ইউনাইটেড ন্যাশন্যাল পার্টির (ইউ.এন.পি) জয় ৷ তার ফলে গণতান্ত্রিক বামশক্তির এটা একটা ভয়ানক পরাজয়।
ইউ. এন. পি জাতীয় আইন পরিষদের ১৬৮টি আসনের মধ্যে ১৩৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এই প্রথম এ্যাসেমব্লীতে বামপন্থীদের কোনো প্রতিনিধি নেই এবং সিরিমাভো বন্দর নায়েকের শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টির (এস.এল.এফ.পি) শক্তি কমে আটটি আসনে নেমেছে। পৃথক রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনসাধারণের অনুমোদন চেয়ে তামিল ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট বৃহত্তম
-
মা একদিন বাবাকে বললেন, ‘হ্যাঁগো, মৌমাছি পাললে হয় না? পাড়ার সবাই পালে। ঘরের মধু খায়।’
‘ঠিক আছে, পালা যাবে’, বললেন বাবা।
রবিবার বাজার থেকে উনি দুটি মৌমাছি পালনের খাঁচা নিয়ে এলেন।
প্রায়ই দেখতাম, বাবা এসে খাঁচার ডালাটা খুলতেন, চাকটা বার করে আনতেন সেখান থেকে, তারপর মা সেখান থেকে ঘন মধু ঢালতেন সোনালি রঙের। প্রথম প্রথম বাবা ডালা খোলার আগে মাথায় কাপড় জড়িয়ে নিতেন। পরে খালি মাথাতেই খুলতেন। মৌমাছির কামড়ের কথা কখনো বলেননি।
একদিন মা-বাবা গেছেন কী একটা বিয়ের ভোজে। একা একা আমার বিছছিরি লাগছিল, ডেকে আনলাম আহমেদকে। মৌমাছির আলাপটা ঠিক কী থেকে উঠেছিল মনে নেই। তবে আমি বড়াই করে বলেছিলাম,
-
দাদুর জন্যে পথ চেয়ে আছে উলদুজ। দাদু কাজ করেন সামুদ্রিক পেট্রলখনিতে। আজ তাঁর ঘরে ফেরার কথা। কিন্তু তুফান উঠেছে। লোকে বলে এরকম দিনে সাগরের ঢেউ ওঠে তিন তলা বাড়ির সমান উঁচু, বাতাসের ঠান্ডা ঝাপট তলোয়ারের মতো শনশনে, মেঘে ছেয়ে আসমান এমন জমাট যে চোখে কিছু দেখা যায় না।
উলদুজ দাদুর কাছে শুনেছে যে লোকে সাগরের বুকে মস্তো এক শহর তুলেছে। রাস্তাগুলো তার ভারী লম্বা লম্বা। দুধারে তার বড়ো বড়ো উঁচু বাড়ি। তারই একটা বাড়িতে থাকেন দাদু। এক হপ্তা থাকেন সেখানে, তেল তোলার ডেরিকে যতক্ষণ কাজ চলে, তারপর ফিরে আসেন বাড়িতে। ক’দিন জিরিয়ে আবার চলে যান তাঁর সাগরের শহরে। সত্যি বলতে
-
মাম্বেতের বয়স আট বছর। শীতের চারণমাঠে সে এল এই প্রথম।
সবই তার কাছে নতুন। ইচ্ছে হয় তক্ষুনি সারা এলাকাটা ঘুরে আসবে। ছুটে বেড়াবে ভেড়ার পালের পাহারাদার কুকুরগুলোর সঙ্গে। চেয়ে দেখবে তার আদরের শাদা-লেজো ভেড়াটাকে। আর সবচেয়ে বড়ো কথা, তার বাপ-মায়ের এখনকার ঘরটির তলে গিয়ে ঢুকবে, কেননা ওটা তো সাধারণ ঘর নয়, চাকায় বসানো। কোনো ভিত নেই তার, শুধু চারটে চাকা। সবচেয়ে আগে অবিশ্যি দরকার আশপাশটা দেখা।
মা-বাপে কিন্তু মাম্বেতকে ছাড়ছিল না। কেবলি জিজ্ঞেস করছিল গাঁয়ের লোকের খবর কী, কেমন আছেন দিদিমা, কাকু কী করছে...
এদিকে শীতের সন্ধে তো ছোট্ট। দেখতে-না-দেখতেই বাতি জ্বলে উঠল, শুরু হল রাতের খাওয়া। শুইয়ে দিল মাম্বেতকে।
-
একবার আমরা গোটা ক্লাস গেলাম সার্কাসে। ভারী আনন্দ হল আমার, কেননা শিগগিরই আমার আট বছর পেরুবে, অথচ সার্কাসে গেছি কেবল একবার, তাও অনেক দিন আগে। আর সবচেয়ে বড়ো কথা, আলিয়োঙ্কার সবে ছয় বছর বয়স, কিন্তু সার্কাস দেখেছে তিন তিনবার। কষ্ট হয় না? তারপর তো গোটা ক্লাসই আমরা এলাম সার্কাসে। ভাবলাম, ভাগ্যি এখন আমি বড়ো হয়েছি, যেমন করে দেখা দরকার সব দেখব। তখন আমি ছিলাম ছোট, সার্কাস কী তা ভালো বুঝিনি। সেবার যখন খেলা দেখাতে এসে একজন আরেকজনের মাথায় উঠে দাঁড়ায় তখন আমি হো-হো করে হেসে উঠেছিলাম, ভেবেছিলাম এটা ওরা ইচ্ছে করে করছে, রগড়ের জন্যে, কেননা বাড়িতে তো আমি কখনো দেখিনি
-
ছেলেটা বিমানে বসে একদৃষ্টে চেয়ে দেখছিল জানলা দিয়ে।
সূর্যের রোদে চোখ ধাঁধিয়ে যায়, ছেলেটা কিন্তু তবু দেখছে।
মা বললেন, ‘শোন বাছা, পর্দাটা টেনে দে, নয়ত পাশের চেয়ারটায় বস। এখানটা রোদ্দুর বড়ো তেতে উঠেছে, তোর পক্ষে খারাপ।’
ক্ষুব্ধ চোখে ছেলেটি চাইল মায়ের দিকে। রোদে বসে থাকা যে ওর পক্ষে খারাপ সেটা ও চায় না যেন কারো কানে যাক। বলল, ‘এখানেই বেশ আছি, রোদে একটুও অসুবিধা হচ্ছে না।’
‘বেশ,’ বললেন মা, ‘বসে থাক, আমি অন্য জায়গায় বসছি।’
অন্য দিকটায় গিয়ে বসলেন তিনি। ছেলেটা জানলা দিয়ে দেখেই চলল।
কেবিন থেকে বেরিয়ে এল পাইলট। সেই কমান্ডার। বসল ছেলেটার পাশে।
চেয়ে দেখল ছেলেটা। এবার তার
-
বৃষ্টি চলছিল অনেকক্ষণ।
কালো পিচের ওপর আলোর হলদে ছোপগুলো যেন কড়াইয়ের ওপর ডিমের কুসুম। গাছপালা, ঘরবাড়ি, রেলিঙ, খবরের কাগজের কিওস্ক আর ছোট্ট স্কোয়ারটার গেটের সামনে প্লাস্টার অব প্যারিসের হর্ণ বাজিয়ে মূর্তিগুলো এমন আবহাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে গেছে। আগেই ভিজে একেবারে জবজবে হয়ে গেছে তারা, এখন আর কিছুতেই এসে যায় না। তাই সবাই নিজের নিজের কাজ করে চলল, ‘শাখা দুলিয়ে চলল গাছেরা, মস্কো থেকে আসা সার্কাসের ভেজা পোস্টার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকল রেলিঙ, বাড়িগুলো তাদের সদর দরজা খোলে আর বন্ধ করে, নানা রঙের আলোয় ঝকমল করে চলল জানলাগুলো, আর হর্ণ বাজিয়েরা শিঙায় মুখ দিয়ে তৈরি হয়েই থাকল, দরকার পড়লে ভোঁ দেবে।
শুধু পত্রিকার
-
‘ওরা স্বেচ্ছায় আমাদের ছেড়ে দেবে না। অন্তত যতটা অনিচ্ছায় ভিয়েতনাম ছেড়েছে তার চেয়েও বেশি অনিচ্ছায় আমাদের ছাড়বে।’ আমি বলতে চেয়েছিলাম যে ওরা ভিয়েতনাম ছাড়ার চেয়েও অনেক বেশি অনিচ্ছুক তোমাদের ছাড়তে। কারণ তেল, কারণ মধ্যপ্রাচ্য। তবে এখন মনে হয় ক্যাম্প ডেভিডের পরে লেবাননে সিরিয়ার শাসন ও রাশিয়ার প্রভাব মেনে নিতে ওরা প্রস্তুত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র কি আসলে নিজেদের প্রকৃত অবস্থান থেকে বঞ্চিত করতে প্রস্তুত? যেখান থেকে সে প্রাচ্যে হস্তক্ষেপ করতে পারবে বা শান্তি-অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে?
আমেরিকানরা কী শাহকে নতুন কোনো শক্তির পরীক্ষায় দ্বিতীয় ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’র দিকে ঠেলে দেবে? বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনরায় ক্লাস শুরু হওয়া, সাম্প্রতিক ধর্মঘটগুলো, আবার শুরু হওয়া সবগুলো সংকট আর আগামী
-
যেদিন মহাকাশ যুগের শুরু হয়েছে, বিশেষতঃ যেদিন মানুষ মহাশূন্যে পদচারণা করেছে, সেদিন থেকেই আমরা যে-পৃথিবীতে বাস করি সেই পৃথিবী সম্পর্কে 'আমাদের ধ্যান-ধারণা চূড়ান্তভাবে বদলে গেছে। ইতিহাসে এই সর্বপ্রথম, মানুষ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ উভয় অর্থেই পৃথিবী এবং বিশ্বের ঘটনাবলী সম্পর্কে একটা ব্যাপক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের অবস্থায় পৌঁছেছে ৷
এই ধরণের দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের জীবন, পৃথিবী সম্পর্কে তাদের জ্ঞান এবং তাদের নিজেদের সম্পর্কেও অনেক কিছুই প্রকাশ করে। নিজস্ব বিমান থেকে পৃথিবী পর্যবেক্ষণ করে বৈমানিক ও মানবতাবাদী লেখক আঁতোয়া দ্য সেন্ট এক্সিউপারী পৃথিবী সম্পর্কে বলেন যে, “মানুষের পৃথিবী” এই গ্রহের বাসিন্দাদের পরস্পর নির্ভরশীলতার ফল হিসেবে উদ্ভুত। গ্রহের ওপরে এবং সঙ্গীসাথীদের ওপরে মানুষের এই নির্ভরশীলতা, বহির্বিশ্বের
-
সোভিয়েত ইউনিয়নের কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের দিন থেকে এই বিশ বছরে মহাকাশ-বিজ্ঞান মানুষের কল্যাণে মহাকাশকে বাস্তব কাজে ব্যবহারের দিকে এগিয়েছে। মহাকাশযুগের যে তৃতীয় দশক সবে শুরু হয়েছে তাতে এই ঝোঁক বাড়বে। বর্তমানে মহাকাশকে, শুধুমাত্র গবেষণার বস্তু হিসেবেই দেখা হয় না। মহাকাশকে দেখা হয় এক অনন্য প্রয়োগ বিদ্যাবিষয়ক পরিমণ্ডল হিসেবে, আমাদের গ্রহ ও তার সম্পদের অনুসন্ধান এবং অধিক থেকে অধিকতর কর্মক্ষম প্রয়োগবিষয়ক পদ্ধতির রূপকরণের সেতুফলক হিসেবে দেখা হয় মহাকাশকে।
সমস্ত দেশ এবং জাতির পক্ষেই বহির্বিশ্ব প্রয়োজনীয়, কিন্তু সবাই-ই অর্থনৈতিক দিক থেকে মহাকাশ অভিযানে যথেষ্ট পরিমাণে শক্তিশালী নয়—তাদের শক্তি এ থেকে অনেক কম। সি. এম. ই. এ-র ছোট ছোট দেশগুলোর কোনোটাই নিজস্ব চেষ্টায়
ট্যাগ
লেখক
- আন্দ্রেই দুগিনেৎস (১)
- আলেক্সান্দর বাত্রভ (১)
- এমিল হাবিবি (১)
- খালিদা হাসিলভা (১)
- নিকোলাই নোসভ (১)
- প্রক্রিয়াধীন (৩)
- ভিক্টর গোলিয়ভকিন (১)
- ভিক্তর দ্রাগুনস্কি (১)
- ভিতালি সেবাস্তিয়ানভ (১)
- ভ্লাদিমির জেলেজনিকভ (১)
- ভ্লাদিস্লাভ ক্রাপিভিন (১)
- মমতাজুর রহমান তরফদার (১)
- মহমেৎ ইয়াখিয়ায়েভ (১)
- মিশেল ফুকো (১)
- সেমিওন শুরতাকভ (১)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.