শ্রীলঙ্কায় পট পরিবর্তন
শ্রীলঙ্কার কমিউনিস্ট পার্টির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক কাটোরগে পি সিলভা-র সঙ্গে সাক্ষাৎকার ৷
প্ৰ:বিগত জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত শ্রীলঙ্কার ন্যাশনাল স্টেট এসেমব্লী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করেন?
উ:এ জয় উগ্র দক্ষিণপন্থী, সাম্রাজ্যবাদ-ঘেঁষা ইউনাইটেড ন্যাশন্যাল পার্টির (ইউ.এন.পি) জয় ৷ তার ফলে গণতান্ত্রিক বামশক্তির এটা একটা ভয়ানক পরাজয়।
ইউ. এন. পি জাতীয় আইন পরিষদের ১৬৮টি আসনের মধ্যে ১৩৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এই প্রথম এ্যাসেমব্লীতে বামপন্থীদের কোনো প্রতিনিধি নেই এবং সিরিমাভো বন্দর নায়েকের শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টির (এস.এল.এফ.পি) শক্তি কমে আটটি আসনে নেমেছে। পৃথক রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনসাধারণের অনুমোদন চেয়ে তামিল ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট বৃহত্তম বিরোধী শক্তি হিসাবে বেরিয়ে এসেছে।
নির্ব্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কার স্বাধীন বিকাশ ও জনগণের ঐক্য বিপদাপন্ন হয়ে উঠেছে।
প্র: শ্রীলঙ্কায় দক্ষিণপন্থী পার্টির দিকে ভোটারদের হাওয়া এরকমভাবে ঘুরে যাওয়ার কারণ আপনার কি মনে হয়?
উ: আমরা মনে করি যে শ্রীলঙ্কার ঘটনাবলীকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসাবে বা দেশের বর্তমান নির্দিষ্ট পরিস্থিতির ফল বলে গণ্য করা উচিত নয়। এই সব ঘটনার কতকগুলি সাধারণ বৈশিষ্ট্য আছে। আমাদের এই অঞ্চলের কয়েকটি দেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর মধ্যে এই সাধারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। এই সব দেশে সাময়িকভাবে হলেও দক্ষিণপন্থী শক্তিগুলি বামপন্থীগুলির সমর্থনপুষ্ট শাসক জাতীয় ধনিকশ্রেণী বা সোশ্যাল-ডেমোক্রাটিক পার্টিগুলিকে পরাজিত করেছে।
এসব পার্টিগুলিকে এমন এক সময়ে শাসনভার দেওয়া হল যখন বিশ্ব-পুঁজিবাদ ইতিমধ্যেই খুবই গভীর ও বহুমুখী সঙ্কটের সম্মুখীন হয়েছে। যেহেতু এসব দেশ অর্থনৈতিকভাবে বিশ্ব পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত, সেহেতু তাদের সরকারগুলি আর্থব্যবস্থার ওপরে এই সঙ্কটের ভয়াবহ প্রভাব প্রতিহত করতে পারেনি। অন্য অনেক কিছুর সঙ্গে এর অভিব্যক্তি ঘটেছে এই ঘটনার মধ্যে যে উল্লেখযোগ্যভাবে রপ্তানি থেকে আয় হ্রাস পেয়েছে, তৈলসহ মৌল আমদানি পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারি অভুতপুর্বভাবে বেড়েছে।
বিশ্ব-পুজিবাদী বাজারের থেকে পেয়ে বেরিয়ে আসার এবং সংকটমুক্ত সমাজতান্ত্রিক দুনিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের দৃঢ়পণ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে এবং সমাজতন্ত্রের অভিমুখে মৌল অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর পুনর্বিন্যাসের পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে এসব দেশের ওপর এই সঙ্কটের প্রভাব যথেষ্ট পরিমাণে কমানো যেত। কিন্তু এসব দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রধানত জাতীয় ধনিক-শ্রেণী বা সোশ্যাল-ডেমোক্রাটদের হাতে থাকায় এ পথ নিতে তারা ইতস্তত বা অস্বীকার করেছে। এর ফলে এখন শাসক পার্টিগুলি সম্পর্কে মোহমুক্ত হওয়ার প্রবণতা দেখিয়েছে।
দুর্ব্বল, অনুন্নত আর্থব্যবস্থা সহ শ্রীলঙ্কা বিশ্ব পুঁজিবাদের এ বিপর্যয়কর কার্যকরতা পূর্ণ আঘাতের শিকার হয়ে পড়ল। ১৯৭০ সাল থেকে জীবন-যাত্রার মান শতকরা ৩০০ ভাগ বেড়েছে। বেকারি বেড়েছে ০.৮ থেকে ১.৩ মিলিয়ন বা কর্মক্ষমদের শতকরা ২৬ ভাগ। খাদ্য, বস্ত্র ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যাদির অভাব ও উচ্চমূল্যের ফলে জনগণকে খুবই কষ্টের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এমন কি, একচেটিয়া পুঁজিপতিদের খর্ব করার জন্য যুক্ত ফ্রন্ট সরকার যে সব প্রগতিশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল, সেসব ব্যবস্থাও অযোগ্য ব্যবস্থাপনা, আমলাতান্ত্রিক অভ্যাস ও দুর্নীতির দরুন জনগণের এই দুঃসহ অবস্থা যথেষ্ট পরিমাণে কমাতে পারে নি। এক্ষেত্রে প্রধান দায়িত্ব এস. এল. এফ. পি-র দক্ষিণপন্থী নেতৃত্বের ওপর বর্তায়। শ্রীলঙ্কার উপর বিশ্ব-পুঁজিবাদী সংকটের ভয়ানক ছাপ প্রশমিত করার পক্ষে উপযোগী নীতিসমূহ গ্রহণে তারা বাধাই শুধু দেয়নি, তারা সেই সব নীতি অনুসরণ করেছে যা জনগণের ওপর নতুন বোঝা চাপায় এবং যে সব শক্তি ১৯৭০ সালে ইউ এন পি সরকারকে পরাভূত করতে; যুক্তফ্রন্টকে সাহায্য করেছিল সেই সব শক্তিকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।
যুক্তফ্রন্ট সরকারের গোড়ার বছরগুলিতে, যখন ১৯৭০ সালের নির্বাচনী বিজয়ের সৃষ্ট গণ-উৎসাহ ও কার্যকলাপ খুবই উঁচুতে ছিল, তখন এস. এল. এফ. পি-র দক্ষিণপন্থীরা বামপন্থী শক্তিসমূহ
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments