মার্কসবাদ জিন্দাবাদ
১৮১৮ সালে ৫ মে জার্মানিতে মহামতি কার্ল মার্কসের জন্ম। স্বদেশের ভূমিতে তাঁর শেষ শয্যা রচিত হয়নি। প্রবাসী অবস্থায় ১৮৮৩ সালে ১৪ মার্চ তাঁর নশ্বর জীবনের মৃত্যু ঘটে। তাঁর শেষ শয্যা রচিত হয়েছে লন্ডন শহরের হাইগেট ভিলেজের সমাধিক্ষেত্রে। তাঁর এই সমাধি আজ হয়েছে বিশ্ব প্রলেতারিয়েত এবং প্রগতিশীল কোটি কোটি মানুষের তীর্থভূমি।
স্বদেশে কেন তাঁর সমাধি হলো না- সে ইতিহাস আমরা কম আর বেশি সকলেই জানি। যে লোকটি বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তিতে তত্ত্ব দিয়ে আবিষ্কার করেছিলেন পুঁজিতান্ত্রিক সমাজের ধ্বংস অনিবার্য এবং বিশ্বকে অবশ্যম্ভাবীরূপে জয় করে নেবে সর্বহারা শ্রমিকশ্রেণি, সে লোকটিকে জার্মানির ধনিকশ্রেণি এবং তাদের সেবাদাস সরকারগুলো কেন স্বদেশে থাকতে দেবে? তাই অদ্যাবধি এই বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিপ্লবী দার্শনিক, সামাজবিদ, বিজ্ঞানী, অর্থনীতির পন্ডিত, সর্বহারা শ্রমিকশ্রেণির বিপ্লবী সংগঠক ও রাজনীতিবিদ মহান কার্ল মার্কসকে কোনো দেশেই স্থায়ীভাবে কোনো বুর্জোয়া সরকারই বসবাস করতে দেয়নি। নির্বাসন, নিপীড়ন, নির্যাতন, প্রবাস নিপীড়ন, নির্যাতন, প্রবাস জীবন এবং অচিন্তনীয় অর্থসঙ্কটে কেটেছে তাঁর সমগ্র জীবন। এই অবস্থায় তাঁর মৃত্যু ঘটেছে। এবছর তাঁর মৃত্যুর শতবার্ষিকী পূর্ণ হলো।
কার্ল মার্কস বিজ্ঞানভিত্তিক যে ভবিষ্যদ্বাণী করে গিয়েছিলেন, আজ তা পরিপূর্ণ বাস্তবতায় রূপ লাভ করেছে। পুঁজিবাদী সমাজের হোতা এবং নেতারাও পুঁজিতন্ত্রের অনিবার্য ধ্বংসের সম্ভাব্যতা আজকে আর অস্বীকার করতে পারে না। পুঁজিতন্ত্রের নেতারা আজ পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থায় আয়ুবৃদ্ধির প্রচেষ্টা অথবা তাদের অনিবার্য ধ্বংসের বিপদ দেখে সমগ্রমানব সভ্যতা ও মানবগোষ্ঠীকেই সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার জন্য পারমাণবিক মহাযুদ্ধের দানবীয় ষড়যন্ত্র ব্যতীত আর কিছুই করতে পারছে না। ইতোমধ্যেই বিশ্বের বহুদেশের বুর্জোয়া ও অন্য শোষক শ্রেণিগুলোর পরাজয় ঘটেছে এবং সর্বহারা শ্রেণি ও তাদের মিত্ররা ক্ষমতা দখল করে নিয়ে নতুন সমাজ গড়ে তুলেছে এবং তুলছে। পূর্ব ইউরোপ ভূখন্ডে নতুন সমাজ- সমাজতন্ত্র ইতোমধ্যে মহীরুহের আকার ধারণ করেছে। সমাজতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা সার্বিকভাবে অমিতশক্তির অধিকারী হয়েছে।
কার্ল মার্কস নেই। কিন্তু দুনিয়ার এমন কোনো দেশ নেই, এমন কোনো জাতি অথবা মানবগোষ্ঠী নেই যেখানে মার্কসবাদের চর্চা নেই। আমাদের এই উপমহাদেশেও জনগণের মধ্যে মার্কসবাদের অনুশীলন শুরু হয়েছে প্রায় ছয় দশক আগে থেকে। আমাদের এই উপমহাদেশে মার্কসবাদী আন্দোলন একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক আন্দোলনের ধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভ করেছে। আমাদের স্বদেশভূমি বাংলাদেশেও মার্কসবাদের চর্চা এবং মার্কসবাদ-লেনিনবাদের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সংগঠন-আন্দোলন ব্রিটিশ আমলেই শুরু হয়েছিল। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর কয়েক মাসের মধ্যেই এদেশে স্বতন্ত্রভাবে মার্কসবাদি-লেনিনবাদি পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়। সে পার্টিই এবার ‘বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি’ হিসেবে তার প্রতিষ্ঠার ৩৫তম বার্ষিকী পালন করল। আমাদের দেশেও আজ ক্ষমতাসীন অথবা তার বাইরের সকল রাজনৈতিক শক্তিকেই এটা সব সময় বিবেচনায় রাখতে হয় যে এখানেও মার্কসবাদি-লেনিনবাদি শক্তি ও সংগঠন আছে।
আমাদের শ্রেণিশত্রুরা এবং সকল প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী সর্বদাই মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার জন্য একাধারে কমিউনিস্টদের উপর কঠোর ও তীব্র দমননীতি এবং অপরদিকে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য মিথ্যা প্রচারণার ঝড় সৃষ্টি করে রাখে। তাদের সহজ অপপ্রচার হলো মার্কসবাদ-লেনিনবাদ ‘বিদেশি ইজম’ তাই এদেশে চলবে না এবং মার্কসবাদ-লেনিনবাদ হলো ধর্মবিরোধী মতবাদ।
পাকিস্তান আমলে আমাদের বাংলাদেশের সমগ্র জনগণের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক আন্দোলনের মূল দাবি ছিল পূর্ণ গণতন্ত্র এবং পূর্ণ জাতীয় স্বায়ত্বশাসন। এই ঘটনা থেকেই সৃষ্টি হয়েছিল জাতীয় স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা এবং পরিণতিতে আমরা এক সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনও করেছি। গণতন্ত্র এবং স্বায়ত্বশাসনের সংগ্রামে এবং সর্বোপরি স্বাধীনতার সংগ্রামে, সশস্ত্রমুক্তি সংগ্রামে মার্কসবাদি-লেনিনবাদি তথা কমিউনিস্টদের গৌরবময় ভূমিকা কি কেউ অস্বীকার করতে পারে? জনগণ কি ঐসব সংগ্রামের সময় কমিউনিস্টদের প্রত্যাখ্যান করেছিলেন? না, তা করেননি বরং জনগণ কমিউনিস্টদের আত্মত্যাগী এবং নি:স্বার্থ সংগ্রামী দেশপ্রেমিক হিসেবে প্রশংসা করেছেন। আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন।
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments