ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত

বাংলাদেশের আর্থ-রাজনৈতিক সামাজিক অবস্থা

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) তথ্যমতে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার (৭+ বছর বয়সী) ৭৭.৯ শতাংশ। স্বাক্ষরতা আর শিক্ষা যেদুইটি আলাদা বিষয় তা বলাই বাহুল্য। একাডেমিক পাসে কিছু বিষয়ের প্রারম্ভিক ধারণাসহ স্বাক্ষরজ্ঞান তৈরি হয় মাত্র, কিন্তু শিক্ষা এক বিস্তৃত বিষয়, যা অর্জন ও প্রয়োগ সংশ্লিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে আর্থ-রাজনৈতিক অসৎ প্রভাব প্রবল। এখানে বহুধারার বিপরিতিমুখী সাংঘর্ষিক বহুকারণের শিক্ষা সিলেবাস বর্তমান। যা আমাদের মনোজগতকে এমনকি অন্ততঃ কিছু মৌল বিষয়ের প্রতিও ঐক্যমত তৈরিতে বাধার সৃষ্টি করে যাচ্ছে। যে বাধা সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে; যার কারণ ঐতিহাসিক রাজনৈতিক নানা বাঁক। যা আমাদের প্রগতির পথকে আরো দীর্ঘ এবং রক্তাক্ত করে তুলছে। সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধ এর ঐক্যের বিপরীতে হিংসা, ঘৃণা, চরমপন্থার জন্ম দিচ্ছে।

আমাদের এ অঞ্চলের মানুষ দরিদ্র। কৃষি (ছোট-মাঝারি ধান, মৎস, পোল্ট্রি), তৈরিপোশাক এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করলেও এখানে মানুষের বড় অংশ ছোট-খাটো মধ্যসত্বভোগী এবং উৎপাদনশীল ব্যবসা, সেবা ব্যবসা (শিক্ষা, চিকিৎসা, পর্যটন, যাতায়াত, প্রযুক্তি, প্রচার, নির্মাণ) কমিশন, দিনমজুর, অটো-ভ্যান চালক ইত্যাদি পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। এছাড়াও বেকারত্বসহ নানা কারণে একটা গোষ্ঠি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারির মাধ্যমে অর্থ-সম্পত্তি নির্মাণ এবং অর্জনের জন্য পেশি শক্তি অর্জনের চেষ্টায় রাজনীতি দখল এবং সেই কাজে জনবল পরিচালনা এবং অধিকতর সম্পদ উৎপাদনে বিনিয়োগের এক দুষ্টুচক্র নির্মাণ করে। তাছাড়াও আছে নানা বিদেশি স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণও।

বাংলাদেশের ভোটের রাজনীতিতে ফ্যাক্টরসমূহ

বাংলাদেশের ভোটের রাজনীতিতে ৪টি ফ্যাক্টর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিজয় অর্জনের জন্য এই ৪টি ফ্যাক্টরকে সমান তালে পরিচালিত করতে হয়—১. সংগঠন বা যোগাযোগ ২. বিজয়ের প্রোপাগান্ডা (প্রচার) বা ন্যারেটিভ ৩. প্রার্থী বা দল (ক্ষমতা বা শক্তির অনুভব) ৪. অর্থ।

‘এইবার অমুক পার্টি কিংবা অমুক মার্কা কিংবা অমুক ভাই ক্ষমতায় আসবে কিংবা জিতবে’ এই প্রোপাগান্ডা তৈরি করা এবং সেটি ধরে রাখার জন্য সংগঠনে মানুষ কিংবা এলাকায় এলাকায় যোগাযোগ বা সম্পর্ক থাকতে হয়। সেই মানুষগুলোকে পরিচালনা এবং উৎসাহ প্রদানের জন্য বিনিয়োগের ধারবাহিকতা থাকতে হয়। সংগঠন বা যোগাযোগ না থাকলে এই প্রোপাগান্ডা বা ন্যারেটিভ তৈরি করা যায় না। প্রোপাগান্ডা কিংবা ন্যারেটিভ তৈরি না করতে পারলে শুধু টাকা কিংবা শুধু ব্যক্তি কিংবা শুধু সংগঠন দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়না। কারণ বাংলাদেশের ভোটারদের বড় অংশটিই এখনও মনে করে—পরাজিত প্রার্থীকে ভোট দিলে সেই ভোট নষ্ট হয়। সেজন্য মানুষের বড় অংশটি নির্বাচনের প্রথম দিকেই যেখানে শক্তি এবং অর্থ আছে এমন দুটো বা সর্বোচ্চ তিনটি প্রভাবশালী বলয়ে ভাগ হয়ে যায়। তাদের মধ্যে নানা বিষয়ে বাক্যবান তথা স্থানীয় এবং জাতীয়ভাবে তৈরি ন্যারেটিভ যুদ্ধ চলতে থাকে। এই ন্যারেটিভ তৈরিতে যেমন জাতীয়ভাবে নানা মিডিয়া ভূমিকা রাখে, তেমনি স্থানীয়ভাবে নিজেরাও তা উৎপাদন করে। তন্মধ্যে চলতে চলতে কোনো একটি বা একাধিক ন্যারেটিভ (যেমন: সে তো কারও সাথে কথাই বলেনা, ভোটের পর তাকে তো এলাকায়ই পাওয়া যাবে না, সে ধার্মিক, অমুককে ভোট দিলে এলাকার উন্নয়ন বেশি হবে; ইত্যাদি) যার পক্ষে শক্তিশালী হয়ে উঠে তার পক্ষে মানুষের অবস্থান বাড়তে থাকে। আর এইক্ষেত্রে প্রার্থীর অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ সব নিয়ে আলাপ আলোচনা চলতে থাকে। আর এই ন্যারেটিভ এর খেলায় শুধু জয়ী হলেই হয়না, এই খেলাকে চূড়ান্ত বিজয়দ্বারে পৌঁছাতে যদি পর্যাপ্ত অর্থ ঢালা না হয়, ন্যারেটিভ বিজয়ীরাও আগ্রহ বা গতি হারিয়ে ফাইনালে পরাজিত হতে পারে। অর্থাৎ, ভোটের রাজনীতিতে প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রে টাকা এখানে সবচেয়ে শক্তিশালী উপাদান হিসাবে ভূমিকা রাখে। যেনো পুষ্প ছাড়া দেবতার পূজা দুষ্কর।

জামায়াত কি এই নির্বাচনে

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice