- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
চালতা গাছের মাচা
মানুষ থাকে মাটির উপর—ঘরে কি দালানে। আর পাখিরা থাকে গাছের উপর। এইটাই নিয়ম। শুধু এখন বলে নয়, চিরকালই এই নিয়ম চলে আসছে। তবু মানুষের বাচ্চা হয়েও ওরা দুই ভাই গাছের আগায় বাসা বাঁধল। যে দেখে সে-ই হাসে। এমন কাণ্ড কেউ কোনোদিন দেখেছে?
দুটি ভাই—বলটু আর পলটু। ওদের নিত্যি নতুন খেলা। এ সব খেলার নামও কোনো দিন কেউ শোনে নি। কে-যে ওদের মাথায় এ সব বুদ্ধি যোগায় কে জানে! খুঁজে খুঁজে শেষে দক্ষিণ দিকের চালতে গাছটাকে ওরা বাছাই করল। এই গাছের মাথায় মাচা বাঁধতে হবে। যেমন কথা তেমনি কাজ। সঙ্গে সঙ্গেই কাজ শুরু হলে গেল। গাছের একেবারে মাথার দিকে তিনটে ডাল পাশাপাশি চলে গেছে। তার উপর বাঁশ বেঁধে ওরা দেখতে দেখতে এক দিব্যি মজবুত মাচা বানিয়ে ফেলল।
সেই থেকে কী-যে হয়েছে, দিনের অনেকটা সময় ওরা মাচাতেই কাটায়। লেখাপড়া চুলোয় গেছে, সারা দিন গাছের উপর কাঠ-ঠোকরার মতো খালি খুটুর-খাটুর চলছেই। কত-যে কাজ! কাজ আর শেষ হয় না। এখানে কমায়, ওখানে বাড়ায়, এখানে কাটে, ওখানে জোড়া দেয়, কাজ লেগেই আছে। বাঁশের মাচার উপর পুরু করে খড়ের গদি বানাল। একেবারে রাজশয্যা। দুজনে আরাম করে বসা যায়, আবার গুটিশুটি হয়ে শোয়াও যায়।
ওদের খেলার সাথীরা খবর পেয়ে দেখতে এলো। মাচা দেখে তারা তারিফ করে বলল, বাঃ, বেশ একখানা বাড়ি হয়েছে তো। বলটু আর পলটু আনন্দে ডগমগ হয়ে উঠল। হবে না? এ-যে তাদের নিজেদের হাতে তৈরী বাসা।
ছেলেরা বলল, কিন্তু তোরা খেলতে আসিস না কেন?
বলটু উত্তর দিল, খেলব কি করে, আমাদের এখন কত কাজ! পলটু বলল, তোরা নিজেরাই খেল গে যা, আমাদের কত কাজ, না রে দাদা?
কিন্তু শুধু খেলাধুলোই নয়, পড়াশুনোও তাকে উঠল। মা কেবল রাগারাগি করে, লেখা নেই, পড়া নেই, সারা দিন শুধু গাছের উপরে—এ সব কি? মায়ের ঘ্যানঘ্যানানিতে উত্যক্ত হয়ে ওরা ওদের বইপত্র বগলদাবা করে নিয়ে মাচার উপর উঠে বসত, আর বলত, নীচে বড় গোলমাল, ওখানে নিরিবিলিতে পড়া নাকি খুব ভালো হয়। মা নিচের থেকে ডাকাডাকি করলে ওরা জবাব দিত, আঃ, গোলমাল করছ কেন? আমরা পড়ছি যে।
মা ভালোমানুষ, নিচ থেকে খুব পড়ার শব্দ শুনে ভাবত, থাক পড়ছে পড়ুক। ঘরে থাকলে তো একটুও পড়তে চায় না। কিন্তু পড়াশোনা যে কেমন এগোচ্ছে একমাত্র চালতে গাছটাই তা বলতে পারত।
বড় বোন হাসি, তার ইচ্ছা সেও একবার উপরে উঠে দেখে আসে ওদের বাসাটা। এখন তো অনেকেই দেখতে যায়। কিন্তু মেয়েমানুষ কেমন করে গাছ বেয়ে উঠবে। হাসি ডেকে বলল, কি রে, তোরা সারাদিন উপরে এত কি করিস? তোরা কি পাখি হয়ে গেলি?
ওরা বলল, হ্যাঁ, আমরা পাখিই তো।
তবে ওই উপরেই থাক। আর বাড়ি-ঘরে ঢুকতে পারবি না। ওই খানেই খাবি দাবি, ওই খানেই ঘুমোবি।
ওরা বলল, দাঁড়াও না, মাচাটাকে আরও বড় করে নিই। ক্রমে ক্রমে সবই হবে। তোমরা তোমাদের ওই মাটিতেই পড়ে থাকবে। আর আমরা থাকব তোমাদের সবার মাথার উপরে।
সত্যি ক্রমে ক্রমে অনেক কিছুই হতে লাগল। জোড়া-তালি দেওয়ার ফলে মাচাটারও আকার অনেকটা বেড়ে গেল। ওদের মাথায় নতুন নতুন ফন্দি খেলতে লাগল।
একদিন দেখা গেল ঝুড়ি ঝুড়ি মাটি গাছের উপর উঠছে। এত বড় গাছ বেয়ে মাটি তোলা বড় সহজ কথা নয়। খাটতে খাটতে ওরা দুভাই একেবারে গলদঘর্ম হয়ে উঠল।
নিচে হাসি অবাক হয়ে হা করে ওদের কাজ দেখছিল। সে জিজ্ঞেস করল, মাটি তুলে কি করবি তোরা? ওরা বলল, ঘর-বাড়ি তুলব।
ঘর-বাড়ি তুলবি কি করে? গাছের উপর
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
৳৯৯
এক মাস
৳৩০
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
সত্যেন সেন
বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামের এক বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী পরিবারে ১৯০৭ সালে সত্যেন সেনের জন্ম। অল্প বয়সেই তিনি অসহযোগ আন্দোলনে ও পরে সন্ত্রাসবাদী দলে যোগ দেন। ছাত্রজীবন শেষ হতে না হতেই তাঁর জেল-জীবনের শুরু। ১৯৩১ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজবন্দী হিসেবে বিভিন্ন জেলে আটক থাকেন। জেলে বসেই তিনি এম.এ পরীক্ষায় উর্ত্তীণ এবং
আরও দেখুন...-
লিন্টু আর পিন্টু দু ভাই। যমজ। একই ক্লাসে পড়ে। তবে পড়াশুনার সঙ্গে তাদের ঘোড়াই সম্পর্ক ছিল। শয়তানি ও বাঁদরামিতে দুজনেই ওস্তাদ। দুটো ছোটখাট বিছে বললেও অত্যুক্তি হবে না।
ক্লাস সিক্সে পর পর দুবার যখন ওরা ফেল করল তখন ওদের আব্বা হায়দার সাহেব ঠিক করলেন যে, ওদের জন্যে এবার প্রাইভেট টিউটর রাখতে হবে। রাখলেনও একজন মাস্টার। কিন্তু কয়েক দিন পরই বিদেয় হতে হল মাস্টারকে। ব্যাপারটা আর কিছুই নয়।
মাল্টার সাহেব পরম আরামে চেয়ারে বসে চোখ বুজে নিদ্রাদেবীর আরাধনা করছিলেন।
আর তখনই হায়দার সাহেবের দৃষ্টিতে পড়ল ব্যাপারটা। পরের দিনই বিদেয় করে দিলেন মাস্টারকে। এ রকম ফাঁকিবাজ মাস্টারকে তিনি কিছুতেই বরদাশত করতে পারেন
-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
[কুইজে অংশ নিয়ে জিতে নিন এক মাসের ফ্রি সাবক্রিপশন]
-
কাজী নজরুল ইসলামের কোন গ্রন্থটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেনি?
-
ক. অগ্নিবীণাখ. বিষের বাঁশিগ. ভাঙার গানঘ. চন্দ্রবিন্দুLogin
Please login first to Answer.
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments