- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
- খালিদা হাসিলভা
- ১৯৭৮
- ২২৬
সাগরের প্রজাপতি
দাদুর জন্যে পথ চেয়ে আছে উলদুজ। দাদু কাজ করেন সামুদ্রিক পেট্রলখনিতে। আজ তাঁর ঘরে ফেরার কথা। কিন্তু তুফান উঠেছে। লোকে বলে এরকম দিনে সাগরের ঢেউ ওঠে তিন তলা বাড়ির সমান উঁচু, বাতাসের ঠান্ডা ঝাপট তলোয়ারের মতো শনশনে, মেঘে ছেয়ে আসমান এমন জমাট যে চোখে কিছু দেখা যায় না।
উলদুজ দাদুর কাছে শুনেছে যে লোকে সাগরের বুকে মস্তো এক শহর তুলেছে। রাস্তাগুলো তার ভারী লম্বা লম্বা। দুধারে তার বড়ো বড়ো উঁচু বাড়ি। তারই একটা বাড়িতে থাকেন দাদু। এক হপ্তা থাকেন সেখানে, তেল তোলার ডেরিকে যতক্ষণ কাজ চলে, তারপর ফিরে আসেন বাড়িতে। ক’দিন জিরিয়ে আবার চলে যান তাঁর সাগরের শহরে। সত্যি বলতে কি, সাগরের বুকে আসল একটা শহর উঠেছে এটা উদদুজ ঠিক বিশ্বাস করেনি। দাদু হয়তো স্রেফ গল্পের মতো বানিয়ে বলেছে, ভাবত সে। জিজ্ঞেস করত, ‘দাদু, তোমাদের ও শহরে সিনেমা আছে?’
‘আছে রে,’ বলতেন দাদু।
‘দোকানে?’
‘দোকানও আছে।’
‘লাইব্রেরি?’
‘তাও আছে।’
‘মোটর-গাড়ি?’
‘আছে বৈকি। মোটর, লরি অনেক আছে।’
‘চিড়িয়াখানাও আছে?’
দাদু হেসে মাথা দোলান, ‘যা নেই, তা নেই। চিড়িয়াখানা এখনো হয়নি। তবে পাখি আছে, অনেক পাখি। আর কী তুই জানতে চাস বল।’
উলদুজ ভাবতে লাগল আর কী জিজ্ঞেস করা যায়। বলল, ‘আর ফুল আছে তোমাদের শহরে?’
‘আছে বৈকি। ফুল না থাকলে আবার শহর! যদি চাস, তোর জন্যে একটা তোড়া এনে দেবো।’
‘খুব ভালো হবে দাদু, এনে দিয়ো কিন্তু।’
এখন অধীর হয়ে দাদুর পথ চেয়ে আছে উলদুজ। ঝড় ওদিকে যেন ইচ্ছে করেই বাড়ছে। দিদিমা আঙিনার এদিক-ওদিক দেখে ঘরে ফিরে মাথা ঝাঁকালেন, ‘উঁহু,’ দাদু তোর আজ আর আসবে না।’
ঠান্ডা কেটে গেল। মৃদুমন্দ গরম পড়ল। মিঠে রোদে ভরে গেল চারদিক।
হঠাৎ দাদু এলেন, নাতনির জন্যে নিয়ে এসেছেন লাল লাল গোলাপ।
‘এবার দেখলি তো, আমাদের শহরে ফুলও ফোটে?’
ফুলদানিতে গোলাপগুলো রাখলো উলদুজ। আর দিন কয়েক পরে কাজে চলে গেলেন দাদু। সমুদ্র এবার এমনই শান্ত আর স্বচ্ছ যে জলের তলে মাছের ঝাঁকও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
কাঠের পাটাতনের রাস্তা দিয়ে দাদু যাচ্ছিলেন তাঁর তেল তোলার ডেরিকে। দুপাশে বড়ো বড়ো কাঠের টব, তাতে রঙ-বেরুঙের ফুল। তার ওপর পাক দিচ্ছে ঝলমলে প্রজাপতি। সন্ধ্যায় ফেরার সময় দাদু একটি প্রজাপতি ধরে কাচের বয়ামে পুরলেন।
‘কী ওস্তাদ, প্রজাপতির দরকার পড়ল কিসে?’ জিজ্ঞেস করলে সঙ্গীরা।
‘নাতনিকে দেবো। দেখুক আমাদের সাগরের শহরে কত সুন্দরীর মেলা।’
বৃষ্টি আর নক্ষত্র[ছোটদের গল্প সংকলন], অনুবাদ: ননী ভৌমিক, আঁকিয়ে: ওল্যা পুশকারিওভা, প্রগতি প্রকাশন, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ১৯৭৮
খালিদা হাসিলভা
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments