ভারতীয় গোয়েন্দা
ভূমিকা
ঘটনাটা ঘটেছিল খ্ৰীষ্ট্রীয় ১৯৬৫ সনে হিন্দুস্থান—পাকিস্তান যুদ্ধের সময়।
ঠিক আট বছর পূর্বে।
ধাতুদৌর্বল্য রোগের মত বাঙালীদের মধ্যে স্মৃতিদৌর্বল্যের প্রাদুর্ভাব। তাই আমার কাহিনীর পুনরাবতারণা। নচেৎ নতুন করে কিছুই বলার প্রয়োজন ছিল না।
প্রথমে যে থলির মুখ খুলে দিয়েছিল এবং যার ফলে বাতাস তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ছড়িয়ে পড়ে বাঙ্গালীর কানে সেঁধোয় তার নাম সৈয়দ আলী মজুমদার, সামরিক পেশায় ক্যাপ্টেন এবং অবসরকালে আমার বন্ধু।
মজুমদারকে নতুন করে স্মরণ করতে হয়। কারণ সে না বললে আমি আর কোথা থেকে জানতাম? আমি শোনার পরে আরো বন্ধুদের না বলে চুপ থাকতে পারিনি। তাদের মুখে মুখে গোটা বাংলাদেশ ঘোরা হয়ে যায়। এক কান থেকে দু’কান ৷ তারপর তিন কান। তারপর গোটা শহর। তারপর? আর না বললেও চলে। বাঙালীর কথা একবার যদি এক পেট থেকে বেরোয়, তা অন্য কানে-পেটে না সেঁধিয়ে থাকতেই পারে না। আবার সেঁধিয়েও তিষ্ঠোতে অক্ষম। বেরিয়ে আসে। বেরিয়ে এসে আর এক জঠরে আশ্রয় গ্রহণ করে। কিন্তু তা-ও কয়েক মিনিটের জন্যে। তাকেও বেরুতে হয়। এইভাবে শেষে দেখবে, উইপোকার মত গর্তে ঢুকছে আর বেরুচ্ছে। এই পিলপিলানি বাংলাদেশ দেখার মত। ধন্যবাদ, বাঙালী সন্তান মজুমদারকে। তার কাছে আমি ঋণী। তার কাছে আরো ঋণ আছে গোটা দেশের। পঁচিশে মার্চের পর সে বিদ্রোহী সৈন্যদলে ছিল এবং এক সময় শহীদ হয়। মজুমদারের স্মৃতি তাই আমার কাছে বিষাদময় হোলেও আনন্দে অন্যদিকে ভরে যায়। সে-যে এই মাটির সন্তান সে বিষয়ে আর কোন সন্দেহ নেই।
এখন ভাবি, কী যন্ত্রণাই না নিয়ে মজুমদার চাকরি করত! ১৯৬৫ সনের যুদ্ধের সময় তাকে ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। আমার বন্ধু, সৎ মানুষ। কিন্তু তার দেশপ্রেম কতো গভীর ছিল, তখন উপলব্ধি ছিল আমার সাধ্যের বাইরে। এই জন্যে আমার পরিতাপের অন্ত নেই।
সবই অতীতের কথা। মাত্র আট বছরের ব্যবধানে কতো কী ঘটে গেল। মজুমদার সম্পর্কে অনেক কথা বলা যায় ৷ তার জন্যে একটা বড় গ্রন্থ রচিত হতে পারে। এখানে তার সঙ্গে সম্পর্ক ১৯৬৫ সনের হিন্দুস্থান-পাকিস্তানের যুদ্ধকালীন সময়টুকু নিয়ে এবং তারপর আরো তিন বছর। আমি মজুমদারের কাছ থেকে যা শুনেছিলাম তা হুবহু বলতে পারব, এমন আশা করা অন্যায়। তাই ঠিক করলাম, তার মুখ-জবানী শোনাই ভাল। পরের মুখে ঝাল খাওয়ার চেয়ে বেশী নিজের জিভই ঢের বেশী কার্যকর। এই প্রবাদ মনে রেখে আমার পরলোকগত শহীদ বন্ধু মজুমদারের বয়ান আপনাদের কাছে তুলে ধরলাম। নেপথ্যে এইটুকু বলে রাখতে পারি, মজুমদার ছিল কথক নাম্বার ওয়ান, ফার্ষ্ট ক্লাস। টেপরেকর্ডারের রেওয়াজ চালু ছিল। কিন্তু আমার ত ওই যন্ত্র নেই, থাকলে গোপনে টেপ করে রাখতাম। শোনার মত তার বাচন-ভঙ্গী। আর কণ্ঠস্বর যেন সুর-বাঁধা কোন যন্ত্র। কোথাও ঘা পড়লে বেসুরো কিছু বেরুতেই পারে না। আমার আজও অশেষ আফশোস, অন্ততঃ লং হ্যাণ্ডে লিখে রাখা উচিত ছিল। দেশবাসীর কাছে একটা ঐতিহাসিক অমূল্য দলিল থাকত। যাক, তা নিয়ে আর কোন অনুতাপ করে লাভ নেই। এখন মজুমদারের কথাই শোনা যাক, মজুমদারের মুখে। যদিও জানা কথা সেই শব্দ-রঙ আমি তুলে ধরতে অক্ষম।
অথ মজুমদার
শোনো জহির, যুদ্ধ লেগে গেল। আমাকে কিন্তু ময়দানে নামতে হয়নি। মনে রেখো, মিলিটারীদেরও প্রশাসন লাগে। আমি তখন হেড কোয়ার্টারে লিয়াজোঁ অফিসার। আমার বেশীর ভাগ কারবার পাবলিকের সঙ্গে। ওদিকে কোথায় কী হচ্ছে, তার খবর রাখা।
হিন্দুস্থান-পাকিস্তান। সাপে-নেউলে যুদ্ধ জমে উঠতে দেরী হয়নি। দেশটা গরম হয়ে উঠল। কী বড় বড় বক্তৃতা, আর নেতাদের বিবৃতির ঠেলা। হামলাকারী হিন্দুস্থান। রুখতে হবে, যুদ্ধ হচ্ছে পশ্চিমে। অথচ পূব খুবই গরম। আর খেমকারান কি অন্যান্য সেক্টরে বেঙ্গল রেজিমেন্ট যত
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments