ফিরে দেখা আন্তর্জাতিক নারী দিবস
৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। নারীর হাজার বছরের লড়াই সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক অর্জন। শ্রমিক নারীর শ্রমের মর্যাদা, রাজনৈতিক অধিকার, ভোটের অধিকার সমানভাবে বেঁচে থাকার অধিকারের লড়াইের এক অনন্য স্বীকৃতি। আজ থেকে ১১৭ বছর আগে শুরু হওয়া এ লড়াইয়ের অর্জনকে পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থার এ যুগে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার নানা রকম পাঁয়তারা চলছে। নারী দিবসের প্রয়োজনীয়তা অনুভবের তাগিদ, উদেগের সাথেই মূলত নারী মুক্তির লড়াই মূল প্রশ্নটির উত্তর জড়িত। কাজেই নারীর মুক্তির প্রকৃত লড়াইকে বা নারী অধস্তনতার প্রকৃত শত্রুকে আড়াল করার জন্য নারী দিবসের আঙ্গিককে আজ ভিন্ন্নখাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে। ভোগবাদ, পুঁজিবাদ মুক্ত করে নারীর মুুক্তির লড়াইকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে হলে আমাদের নারী দিবসের প্রকৃত ইতিহাস মানুষের সামনে তুলে ধরা জরুরি। যে লড়াই শ্রমিক নারীর মজুরী নির্ধারণের চেতনা থেকে শুরু, যে লড়াই শ্রমিক নারীর ন্যায্য পাওনার দাবি চেতনা নিয়ে শুরু, সে লড়াইকে আজকে ‘পন্ডস নারী দিবস’-‘রাঁধুনী নারী দিবস’ এ পরিণত করা হয়েছে।
যুগে যুগে পৃথিবীর ইতিহাসে মানবসভ্যতার সবগুলো অর্জনের পেছনে শ্রমজীবি মানুষ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যারা সমাজে সংখ্যায় অধিক তারাই সবচেয়ে সাহসী এবং আদর্শিক ভূমিকা পালন করে এসেছে এ স্বীকৃতির সাথে যে বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে তা হলো কারা এ সকল অর্জন বা লড়াইে শত্রু। সে শত্রুদের আড়াল করার জন্য আজ ইতিহাসকে পাঠ করা হয় উদ্দেশ্যমূলকভাবে।
১১৭ বছর আগে সূচনা হয় এ দিবসের কি তাৎপর্য ছিল, কারা প্রয়োজন মনে করল সেটা আলোচনা করা জরুরি।
১৮৭১ সালের প্যারিকমিউন শ্রমিক শ্রেনির নেতৃত্ব রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের প্রথম লড়াই। এ সংগ্রামে ফরাসী নারী শ্রমিকদের ভূমিকা ছিল অনবদ্য। সর্বস্তরে শ্রমজীবি নারীসহ মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবি নারীরাও এ বৈপ্লবিক কাজে ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করে। প্যারিকমিউন যখন কঠোরভাবে দমন করা হয় তখন পুরুষদের সাথেই নারীরা ও অভিযুক্ত হন। যুদ্ধ পরিষদ এক হাজার নারীকে প্যারাকমিউনে অংশ গ্রহণের দায়ে শাস্তি প্রদান করে। সংগঠিতভাবে শ্রমিক নারীদের প্যারাকমিউনে অংশগ্রহণ শ্রেনি চেতনার বহিঃপ্রকাশ। প্যারাকমিউন সফল না হলেও ধনতান্ত্রিক দেশগুলোতে শ্রমিকশ্রেনির আন্দোলন সংগঠিত করতে তা উৎসাহ জুগিয়েছিল অপরিমেয়। এরই সাথে প্রথম কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক দেশে দেশে শ্রমজীবি নারী পুরুষদের আন্দোলন গড়ে তুলতে ও তার মতাদর্শের ভিতকে প্রতিষ্ঠা করতে বিপুলভাবে এগিয়ে এসেছিল।
বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলনের অগ্রণী ক্লারা জেটকিন মার্কসবাদের ভিত্তিতে তত্ত্বগতভাবে নারীদের অবস্থান বিশ্লেষণ করে, তার বক্তব্য ও লেখনী তুলে ধরেন। ১৮৮৯ সালে প্যারিসে আন্তর্জাতিক শমিক সম্মেলনে তিনি নারী শ্রমিকদের সমস্যা ও সমাজতান্ত্রিক আন্দেলনের দায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘ বক্তৃতা করেন। যা আজও শ্রমিক আন্দোলনে প্রাসঙ্গিক।
১৮৯১ সালে ক্লারা নির্বাসন থেকে জার্মানে ফিরে আসেন এবং জার্মান সোশ্যাল ডেমাক্রেটিক পার্টি ও নারীদের সমানাধিকারের প্রশ্নে কর্মসূচি ও প্রস্তাব গ্রহণ করেন।
শ্রবজীবি নারীদের শ্রমিক হিসেবে সমান অধিকারের পাশাপাশি নারী হিসেবে তাদের যে বাঁধা তা সনে করে সুরক্ষা আইন করার দাবি উত্থাপন করেন। একই সাথে শ্রমজীবি নারীদের ভোটাধিকারের দাবিতে তিনি সোচ্চার হন। তিনি বলেন, শ্রমজীবি নারী ভোটের অধিকার অর্জণ করেন একমাত্র অর্থনৈতিক ও নৈতিক মর্যাদা রক্ষার জন্য নয়, পুরুষদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে তারা ভোটাধিকার ব্যবহার করতে চায়, পুঁজিপতি শ্রেনির বিরুদ্ধে লড়াই এ তারা এ অধিকার কাজে লাগাতে চান।
ভোটাধিকারের আন্দোলন যে শুধুমাত্র অভিজাত মধ্যবিত্ত শ্রেনির নারীদেরই একচেটিয়া আন্দোলন নয় এটা শ্রমিক নারীদেরও অন্যতম প্রধান দাবি তা প্রমাণিত হয়Ñঐ সময়কার শ্রমিক নারীদের দাবি সনদগুলো পর্যবেক্ষণ করলে। সমমজুরি, নুন্যতম মজুরী, কাজের সময়, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার দাবিতে শ্রমিকরা আন্দোলন করে তোলে।
ভোটের অধিকার অর্জন না করতে পারলেও পুরুষ শ্রমিকদের সঙ্গে যৌথভাবে রাজনৈতিক লড়াই অংশগ্রহণ করা যাবে না, তাই শুধু নারীদের একটি অধিকার
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments