- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
তোরা সবাই সুখে থাক
এক বাঘ। বাঘ কি বাঘ, প্রকাণ্ড বড় বাঘ। এত বড় বাঘ কেউ কোনোদিন দেখে নি। তার চোখ দুটো, ও বাবা! তাঁর দাঁতগুলো, ওরে মা! দেখলে পরে জন্তু জানোয়ার ভয়ে আর কেউ নড়তে চড়তে পারে না। আর তখন বাঘ তাদের ঘাড় ভেঙ্গে খায়।
বনের যত প্রাণী সবাই তার ভয়ে থর থর করে কাঁপে। কোনো সংসারে সুখ নেই। বাচ্চা হরিণের মা-টা ডোবার ধারে জল খেতে গিয়েছিল। খুব তেষ্টা পেয়েছিল কিনা, চারদিকে তাকাবার মতো আর ফুরসত ছিল না। গলাটাকে লম্বা করে দিয়ে চক চক করে জল খাচ্ছিল। ঘুটঘুটে অন্ধকার রাত্রি, আড়ালে আড়ালে কত কিছু থাকে, সব কিছু তো দেখা যায় না। সে কি আর ভাবতে পেরেছে, এত কাছে ডোবাটার ওপারে বাঘটা চোরের মতো ঝোপের আড়ালে বসে আছে? বাঘের চোখ জ্বলছে মশালের মতো। সে সব কিছুই দেখতে পাচ্ছে। মনের আনন্দে সে মনে মনে গান ধরল:
এক দুই তিন
এসেছে হরিণ
চার পাঁচ ছয়
আর দেরী নয়।
সত্যিই আর দেরী করল না। আস্তে আস্তে হামা দিয়ে এগিয়ে আসতে আসতে সাড়া নেই, শব্দ নেই, এক লাফ। পড় তো পড়, এক্কেবারে হরিণটার পিঠের উপরে। আর কি পালাবার যো আছে?
হরিণটা আর্তকণ্ঠে চেঁচিয়ে উঠল। ওর মনে পড়ল, ওর ছোট্ট কচি বাচ্চাটার কথা। আর মনে পড়ল সেই সবুজের বনের বুকে মখমলের মতো ঘাসে বিছানো সুন্দর বাড়িটা। কিন্তু সে আর বেশী ভাববার সময় পেল না। বাঘটা তাকে টানতে টানতে ঝোপের ভেতর নিয়ে গেল।
বাচ্চাটাও মা’র পেছন পেছন এসেছিল। মাকে ছাড়া ও কক্ষণো থাকে না। মাত্র দুতিন মাস হলো এই পৃথিবীতে এসেছে। এখানকার অনেক কিছুই ও এখনও জানে না, বোঝে না। মায়ের কাছে দুষ্টু বাঘের গল্প শুনেছে অনেক দিন। মাঝে মাঝে সেই দুষ্টু বাঘের বিকট হাঁক-ডাক শুনে ভয় পেয়ে মায়ের বুকের তলায় গিয়ে লুকিয়েছে। কিন্তু এমন-যে হতে পারে তা ও কখনও ভাবতে পারেনি।
মাকে ছাড়া আর কখনও সে তো থাকেনি। এখন কেমন করে থাকবে? কোথায় থাকবে? সে খেতেও চায় না, শুতেও চায় না, সারা দিন কেবল মা-মা করে কেঁদে কেঁদে বেড়ায়।
পশু-পাখি যে তাকে দেখে সেই তার দুঃখে কাঁদে। কিন্তু শুধু তো হরিণ নয়, সমস্ত বন জুড়ে ঘরে ঘরে এই একই খবর। এই দুুষ্টু বাঘের পেটে কারু বাবা গেছে কারু মা গেছে, কারু বা ভাই-বোনেরা গেছে। তাই সব ঘরেই কান্নাকাটি। কিন্তু কিছু করবার যো নেই। বাঘের সঙ্গে কে পারে বলো? অত জোর কার আছে? হরিণের বাচ্চা কাঁদে, আর এই সমস্ত কথাই ভাবে। আর ওর চোখ দিয়ে ঝরঝর করে জল গড়িয়ে পড়ে। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত সে এমনি করে কেঁদে কেঁদে বেড়ায়। সেদিন রাত কাটল এক বট গাছের তলায়। বুড়ো-অথর্ব বট গাছ। কত-যে তার বয়স হয়েছে, কেউ সে কথা বলতে পারে না। সেই গাছের উপর থাকে ছোট্ট এক পাখি। ভোর হতেই সে শুরু করে দিল কিচির মিচির কিচির মিচির। কত-যে তার কথা। এত বলেও শেষ করতে পারে না। কিন্তু হঠাৎ হরিণের বাচ্চাটার দিকে চোখ পড়তেই তার কথা বন্ধ হয়ে গেল। আহা, এমন সুন্দর বাচ্চাটা! কি হয়েছে ওর? এমন করে কাঁদছে কেন?
সে ডেকে বলল, ও ভাই শোন, শোন:
সবুজ বনের ঘুম ভাঙ্গালো পাখির কল কল
সোনার আলো হাত বুলালো, আকাশে ঝলমল।
আজকে শুধু হাসির মেলা, দুঃখ কিছুই নাই
হরিণ ছানা হরিণ ছানা, কাঁদছ কেন ভাই?
হরিণ ছানা চমকে উঠে বলল, কে গো, কে তুমি আমায় ডাকছো?
ছোট পাখি বলল—
বনের
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
সত্যেন সেন
বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামের এক বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী পরিবারে ১৯০৭ সালে সত্যেন সেনের জন্ম। অল্প বয়সেই তিনি অসহযোগ আন্দোলনে ও পরে সন্ত্রাসবাদী দলে যোগ দেন। ছাত্রজীবন শেষ হতে না হতেই তাঁর জেল-জীবনের শুরু। ১৯৩১ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজবন্দী হিসেবে বিভিন্ন জেলে আটক থাকেন। জেলে বসেই তিনি এম.এ পরীক্ষায় উর্ত্তীণ এবং
আরও দেখুন...-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments