- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
- মহমেৎ ইয়াখিয়ায়েভ
- ১৯৭৮
- ১৮৬
মৌমাছি
মা একদিন বাবাকে বললেন, ‘হ্যাঁগো, মৌমাছি পাললে হয় না? পাড়ার সবাই পালে। ঘরের মধু খায়।’
‘ঠিক আছে, পালা যাবে’, বললেন বাবা।
রবিবার বাজার থেকে উনি দুটি মৌমাছি পালনের খাঁচা নিয়ে এলেন।
প্রায়ই দেখতাম, বাবা এসে খাঁচার ডালাটা খুলতেন, চাকটা বার করে আনতেন সেখান থেকে, তারপর মা সেখান থেকে ঘন মধু ঢালতেন সোনালি রঙের। প্রথম প্রথম বাবা ডালা খোলার আগে মাথায় কাপড় জড়িয়ে নিতেন। পরে খালি মাথাতেই খুলতেন। মৌমাছির কামড়ের কথা কখনো বলেননি।
একদিন মা-বাবা গেছেন কী একটা বিয়ের ভোজে। একা একা আমার বিছছিরি লাগছিল, ডেকে আনলাম আহমেদকে। মৌমাছির আলাপটা ঠিক কী থেকে উঠেছিল মনে নেই। তবে আমি বড়াই করে বলেছিলাম, ‘জানিস, আজকাল আমরা ঘরের মধু খাই। এখনো চাকভর্তি মধু।’
‘যাঃ!’ বিশ্বাস করল না আহমেদ।
‘মৌমাছিরা ভারী পরিশ্রমী যে। কেবলি মধু জোগাড় করে,’ বুঝিয়ে বললাম ওকে।
‘খেতে কী দিস ওদের?’
‘কিছুই না। নিজেরাই খাওয়া জোটায়। উড়ে যায় অনেক দূর বনের মধ্যে, সেখানে খায়। তারপর ফুল থেকে মধু তুলে এখানে নিয়ে আসে। খাবি মধু? খাওয়াতে পারি তোকে। মৌমাছির আমায় কামড়ায় না,’ গর্ব করে জানিয়ে দিলাম। ‘বিশ্বাস হচ্ছে না?’
‘যা না, কেমন না কামড়ায় দেখবি,’ টিটকারি দিল আহমেদ।
খাঁচার কাছে গেলাম আমরা। সেগুলো থাকত আমাদের বাগানে। কাছে এসে উঁকি দিলাম। সব চুপচাপ, শান্ত। ছোটো ফুটোগুলো দিয়ে আপনমনে কেউ ঢুকছে, কেউ বেরুচ্ছে। কোথায় যেন উড়ে যাচ্ছে।
বললাম, ‘দাঁড়া-না, এক্ষুনি ডালাটা খুলছি, দেখবি আমাদের মধু কেমন মিষ্টি।’
‘না রে, ভয় করছে,’ বললে আহমেদ, ‘তার চেয়ে বরং মাথায় কিছু এটা জড়িয়ে নিই, তোর বাবা যা করে।’
‘ধুৎ, বলছি যে ওরা কামড়ায় না।’ বাবাও এখন আর কিছু জড়ান না। ভয় করছে তো? আমার কোনো ভয় নেই।’
কাজে নামলাম আমি। আহমেদ দূরে সরে গেল। খাঁচার ডালাটা খুললাম, বাবা যেমন করে, চাকের ওপর দিকটা ধরে ভেঙে নেব ঠিক করলাম। আহমেদ তখন কাছে এসে উঁকি দিল খাচায়। কিন্তু চাকের খানিকটা ভাঙতে-না-ভাঙতেই খাঁচার ভেতরে কী একটা যেন পড়ে গেল। এমন ভনভন করে উঠল যেন এরোপ্লেন উড়ছে। দড়াম করে ডালাটা বন্ধ করে ছুটলাম। কিন্তু হাজার হাজার মৌমাছি ততক্ষণে কালো মেঘের মতো ঝাঁক বেঁধেছে মাথার ওপর। হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ছুট দিলাম। কানে আসছে, অমানুষিক স্বরে চিৎকার করছে আহমেদ।
ছুটে এলাম ঘরে, পেছু পেছু আহমেদ। ক্ষেপার মতো কখনো ঘাড় ঢাকছে, কখনো মুখ...
আমার কপাল এমন টনটন করতে লাগল সে অসহ্য। বোধ হয় আধঘণ্টাখানেক চিৎকার করে ঘরময় ছোটাছুটি করেছিলাম আমরা। কিন্তু আমার মনে হল আহমেদ যেন আমার চেয়েও বেশি ককাচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত ও শুধালো, ‘খুব টাটচ্ছে তোর?’
বললাম, ‘টাটাবে না আবার! আর তোর?’
‘আমারও,’ কাঁদতে কাঁদতে বলল ও, ‘জ্বলে যাচ্ছে।’
‘আমার জ্বলছে না, টনটন করছে।’
‘আয় কাদা মাখি, তাহলে কমে যাবে,’ হঠাৎ প্রস্তাব দিল ও।
‘কাদা? সে আবার কী?’
‘আরে হ্যাঁ, আমি জানি, কাদা লেপে দিতে হয়। মাঠে মা-কে যখন বোলতায় কামড়ায়, তখন মা-ও তাই করেছিল।’
মুখে আমরা কাদা মাখলাম, কিন্তু ব্যথা কমল না। বসে বসে কখনো কপাল কখনো ঘাড় চেপে ধরি। আহমেদের দিকে তাকিয়ে দেখলাম। নাকটা ওর এমন ফুলেছে যে চেনা যায় না।
বললাম, ‘তোর নাকটা যে একেবারে গোল আলু হয়ে উঠেছে।’
‘নিজেই তুই একটা আলু। তোর দোষেই তো হল, আর এখন কিনা হাসছে। দেখ তো কী হয়েছে,’ আমার দিকে নাকটা বাড়িয়ে সে বলল।
কিন্তু নাকে ওর কী হয়েছে সেটা ভালোই বোঝা গেল। আমার নিজের কপালটাই ঠিক ভুরুর ওপর এমন ফুলে উঠেছে যে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
মহমেৎ ইয়াখিয়ায়েভ
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments