বনবাসে

পিঠোপিঠি দুটি ভাই। লোকে বলে রাম আর লক্ষ্মণ। আজকালকার দিনে এমন নাকি দেখা যায় না। যেখানে যাবে দুটিতে এক সঙ্গে যাবে, যাই করবে দুজনে এক সঙ্গে মিলে করবে। একজনকে ছেড়ে আর একজন একদণ্ড থাকতে পারে না। যে দেখে সেই বলে, নাঃ, সেই রাম-লক্ষ্মণই যেন ফিরে এসেছে।

ঘরে ঘরেই ওদের নিয়ে কথা। সবাই নিজের ছেলেমেয়েদের কাছে ওদের তুলনা দিয়ে বলে, দেখ তো, রাম-লক্ষ্মণ, কি সুন্দর দুটি ভাই। আর তোরা এমন? ওদের বাপ মা’র দেওয়া নামটা পেছনে পড়ে রইল। লোকের মুখে মুখে রাম-লক্ষ্মণ নাম ক্রমে চালু হয়ে গেল। ওদেরও শুনে শুনে অভ্যাস হয়ে গেছে। রাম-লক্ষ্মণ বলে ডাকলে ওরা সাড়া দেয়।

কিন্তু গ্রামের লোক যাই মনে করুক না কেনো, ওরা কিন্তু ঝগড়াও করত মাঝে মাঝে। মাঝে মাঝে অর্থাৎ প্রায় রোজই। খেলতে খেলতে ঝগড়া বেধে যেত। তুমুল ঝগড়া। আবার ঝগড়া মিটতেও বেশী সময় লাগে না। রাম লক্ষ্মণের মা বলে এমন দুরন্ত ছেলে নাকি ভূভারতে নেই। রাম লক্ষ্মণের ঠাকুরমা বলেন, ঘর জ্বালানী, পিঠেপিঠি ভাই ঝগড়াঝাঁটি করবে না, এমন কি কখনও হয় নাকি? রামায়ণের যে রাম-লক্ষ্মণ, ছোট বয়সে তাঁরাও কি ঝগড়া করেননি? নিশ্চয়ই করেছেন। খুবই করেছেন। তবে বাল্মীকি মুনি সে সব কথা একেবারেই চাপা দিয়ে গেছেন। পরে তারা নামজাদা লোক হয়েছিলেন কিনা, সেইজন্য বড় লোকের সাত খুন মাপ।

একদিন হয়েছে কি, আমাদের এই রাম-লক্ষ্মণ দুটিতে খুব মারামারি করল। মা ওদের দুজনকে একচোট শাসন করে ঘরের মধ্যে আটকে রাখলেন। মায়ের এতবড় অন্যায় আচরণ ওরা কিছুতেই বরদাস্ত করতে পারল না। মারামারি করেছে তাতে হয়েছে কি! এমন মারামারি তো তারা রোজই করে। সেজন্য এমন ঘরের মধ্যে আটকে রাখতে হবে? মনের দুঃখে দুই ভাই কত রকম জল্পনা-কল্পনা করল। রাম বলল, আমি আর বাড়িতে থাকব না। আমি বনেই চলে যাব। লক্ষ্মণ বলল, দাদা, আমাকে সঙ্গে নেবে?

নিশ্চয়ই, তোকে ফেলে কেমন করে যাব? লক্ষ্মণ ছাড়া রাম কখনো বনে যেতে পারে নাকি!

সেদিন সন্ধ্যের কিছু আগে ওরা ছাড়া পেল। কিন্তু ছাড়া পেলে কি হবে, ওদের সেই কথা ওরা ভোলে নি। বনে যেতেই হবে। এখানে কথায় কথায় মারধোর আর ঘরে আটকে রাখা! এত কষ্ট সয়ে এখানে থেকে লাভটা কি? সেদিন রাত্রিবেলাও পাশাপাশি শুয়ে ওরা এই নিয়ে কত কি পরামর্শ করতে লাগল। মা ধমক দিয়ে বললেন, ‘এই পাজিগুলো ঘুমোলি! সারাদিনেও তোদের হয় নি, আবার এত রাত্রিতে গুজুর গুজুর।’ শুধু শুধু এ রকম বকুনি খেলে রাগ হয় না? রাম আস্তে আস্তে বলল, আচ্ছা, বকে নাও, যত খুশি আজ, কাল বুঝবে মজাটা।

রাত্রি ভোর হয়ে গেল। ঘুম থেকে উঠেই লক্ষ্মণ বলল, দাদা, ও দাদা, চল, দেখে আসি হাঁসগুলো ডিম দিল নাকি। আজ যদি ডিম দেয়, তবে তুই আদ্ধেক, আমি আদ্ধেক। আর যদি দুটো দেয় তাহলে তো খুব মজা, একজন একটা করে। না রে দাদা?

রাম লক্ষ্মণের কথা শুনে অবাক হয়ে গেল। সে কিরে, আজ-যে আমরা বনে যাচ্ছি। লক্ষ্মণ লজ্জা পেয়ে গেল, বলল, ওঃ হো, ভুলে গিয়েছিলাম তো! তবে আমরা তো আর এখনি যাচ্ছি না। দুপুর বেলা খেয়ে দেয়ে তবে তো, না রে দাদা?

না না, আমরা এখনি যাব। লক্ষ্মণ কিন্তু ইতিমধ্যে এক দৌড়ে হাঁসের খোঁয়ারটা দেখে এসেছে। না, একটা ডিমও দেয় নি। যাক, তবু নিশ্চিন্ত মনে এবার বনে যাওয়া যাবে। ডিম থাকলে তা ফেলে চলে যেতে একটু কষ্ট হতো। লক্ষ্মণ ডিমের খুবই পক্ষপাতী।

কিন্তু হঠাৎ একটা নতুন চিন্তা রামের মাথায় এসে ধাক্কা মারল। এ-পর্যন্ত কথাটা একবারও মনে

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice