- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
আহাম্মকের দেশে
ধোপা আর নাপিত। দুই বন্ধু চলল বাণিজ্য করতে। বাণিজ্য করে সওদাগরেরা, ধোপা-নাপিত বাণিজ্যের কি জানে? এমন কথা কেউ জন্মেও শোনেনি। যে শোনে হাসে। কিন্তু যেই যত হাসুক, কেউ ওদের ঠেকাতে পারল না। ওরা বাণিজ্য করবেই।
আর বাণিজ্য না করে কি করবেই বা বলো। ধোপার হাতে জোর বেশী, সে যে কাপড় ধরে আছাড় মারে, সেই কাপড় ছিঁড়ে যায়। নাপিতের ক্ষুরে তেজ বেশী, যে গালে টান মারে সেই গালেই রক্তারক্তি কাণ্ড। এইভাবে দিন যায়। কিন্তু কদিন এইভাবে চলে? গ্রামের লোকের প্রাণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠল। কত কাপড় খোয়ানো যায়, আর কত রক্ত ঝরানো যায়! একদিন গ্রামের লোক সবাই একত্র হয়ে তাদের জানিয়ে দিল, যা হয়েছে ঢের হয়েছে, এবার তোমরা ক্ষ্যামা দাও। এই বলে তারা অন্য ধোপা আর অন্য নাপিতের সঙ্গে বন্দোবস্ত করল।
তা যেন করল, কিন্তু বেচারারা খায় কি? এদের বাপ দাদার চোদ্দপুরুষ যে এই পেশা নিয়েই কামাই করে এসেছে। ফলে জমি নেই, চাষবাসের কাজও তারা জানে না। এখন কি দিয়ে কি করে? তারা আর কোনো উপায় না দেখে গ্রামের লোকদের ধরে পড়ল, তোমরা তো আমাদের কাজ বন্ধ করে দিলে। এখন অন্য কোনো কাজ দাও, নইলে আমাদের চলবে কি করে?
গ্রামের লোক বলল, যারা বাপ দাদার আমলের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারে না, তারা আবার করবে কি? তোমরা কোনো কাজের লায়েক নও। তোমাদের যে-কাজ দেব, তোমরা সেই কাজই ভণ্ডুল করবে।
ওরা বলল, এ তোমাদের কোন বিচার? বউ আর কাচ্চা-বাচ্চা নিয়ে তবে কি আমরা না খেয়ে মরব নাকি? গ্রামের লোকের মেজাজ তিরিক্ষি হয়েছিল। তারা সোজা জবাব দিল, আমরা তার কি জানি? তোমরা যা খুশি করো গে।
অবস্থা বেগতিক দেখে দুই বন্ধু পরামর্শ করতে বসল। তারা কিন্তু যাই করুক, এক সঙ্গেই করবে। কথা হচ্ছে, কি করা যায়?
নাপিত বলল, বাণিজ্যে বসতি লক্ষ্মী। চল যাই, বাণিজ্যই করি।
কিন্তু ধোপা ভরসা পায় না, সে তো ঠিক কথা। কিন্তু বাণিজ্যের আমরা কি জানি?
আরে ভাই, আমরা কোন কাজই বা জানি? যে কাজই করি না কেনো, নতুন করেই শুরু করতে হবে। তাহলে বাণিজ্য দিয়ে শুরু করতেই বা আপত্তিটা কি?
না, আপত্তি আর কি? তবে দশপুরুষের কাজই যারা করতে পারল না, তারা বাণিজ্য কেমন করে করবে?
বাঃ, এও কি একটা কথা হলো নাকি? আচ্ছা, যারা বাণিজ্য করে তারা ধোপা নাপিতের কাজ জানে?
না, তা অবশ্য জানে না।
তবে ধোপা নাপিতের কাজে খাটো আছি বলে আমরাই বা বাণিজ্য করতে পারব না কেন? বাণিজ্য হচ্ছে বুদ্ধির খেলা।
ধোপার মনে হলো যুক্তিটা বোধ হয় ঠিকই। নাপিত বন্ধুর উপরে তার পুরোপুরি বিশ্বাস আছে।
তাই সে বলল, আমি তো চিরদিনই তোমার সঙ্গে একমত। তুমি যা করো, আমি তাতেই রাজী।
তাই ঠিক হয়ে গেল। বাণিজ্যই করতে হবে। কত লোক হাসল, কত লোক টিটকারী দিল। কিন্তু তারা ওসব গায়ে মাখল না। একটু সাহায্য করবার বেলায় কেউ নেই, কিন্তু হাসতে সবাই পারে। ওরা ওদের সামান্য বিষয়-আশয় যেটুকু ছিল, তা বিক্রি করে বউদের হাতে কিছু দিল, আর বাকী সামান্য কিছু পুঁজি হিসেবে নিজেদের হাতে রাখল। অবশেষে একদিন শুভদিন দেখে তারা যাত্রা করল।
ওরা দেশ ছেড়ে আর কখনও প্রবাসে যায়নি। যেতে যেতে কত রকম দেশ আর কত রকম মানুষই-যে তারা দেখল। যতই দেখে ততই অবাক হয়ে যায়। এ সমস্ত দেশের কথা তারা কোনো দিন কানেও শোনেনি। এইভাবে চলতে চলতে সাত মাস সাত দিন বাদে তারা ‘আহাম্মকের দেশে’ এসে পৌঁছলো। আহাম্মকের দেশ
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
সত্যেন সেন
বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামের এক বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী পরিবারে ১৯০৭ সালে সত্যেন সেনের জন্ম। অল্প বয়সেই তিনি অসহযোগ আন্দোলনে ও পরে সন্ত্রাসবাদী দলে যোগ দেন। ছাত্রজীবন শেষ হতে না হতেই তাঁর জেল-জীবনের শুরু। ১৯৩১ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজবন্দী হিসেবে বিভিন্ন জেলে আটক থাকেন। জেলে বসেই তিনি এম.এ পরীক্ষায় উর্ত্তীণ এবং
আরও দেখুন...-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments