বেড়ানোর আনন্দ মাটি হবে কেন?
‘ও যে হঠাৎ এত রেগে যাবে, বুঝতেই পারিনি। বহুদিন পর গিয়েছিলাম আমার ভাবির বাসায়। ঢাকা শহরে বেড়াতে বের হওয়াই এক সংগ্রাম, কয় মিনিটের রাস্তা যেতে যে কয় ঘণ্টা লাগবে, বলার উপায় নেই। আমরা রাতে খাব দেখে ভাবি অনেক আয়োজন করেছিল। ভাবির সব রান্নার মধ্যে নিরামিষ আর কোরমার তুলনা হয় না। আমি খাচ্ছি তো খাচ্ছিই আর প্রশংসা করে যাচ্ছি। এত মজার রান্নার প্রশংসা না করলে কি হয়! মনে হচ্ছিল এমন রান্না যদি সব সময় খেতে পারতাম। এমন সময় ওর চেহারা দেখে খুব অবাক লাগল। কেমন গম্ভীর। খেতে বসতে না বসতেই উঠে চলে গেল, রীতিমতো অভদ্রতা। ভাবি যে কী মনে করল! বোধ হয় ভাববে আমরা সব সময় এমন ঝগড়াই করি। এমনকি পরে আর কারও সঙ্গে কথাই বলল না। কারও বাসায় বেড়াতে গিয়ে এমন দৃশ্য তৈরি হলে খুবই খারাপ লাগে। বলছিলেন ব্যাংকার কামাল হোসেন।
তার কাছে এ ধরনের পরিস্থিতিতে কী সমাধান জানতে চাইলে বলেন, ‘একজনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছি, ভদ্রতাবশত হলেও তার দাওয়াতের মূল্যায়ন করতে হবে। আর আমরা প্রশংসা পরেরই করি। আপনজনকে তো বলার কিছু নেই। সে আপন বলে আমার প্রতিটি অনুভূতি তার কাছে স্পষ্ট। এতে রেগে যাওয়ার কিছু নেই। দুজন মিলে চেষ্টা করলে তার রেসিপি অনুযায়ী রান্না আমরাও করতে পারব। তাই দুজনের পক্ষ থেকেই চেষ্টা থাকতে হবে যেন বেড়ানোর মতো আনন্দদায়ক অনুভূতি সামান্য কারণে নিতান্ত নিরানন্দের ঘটনায় পরিণত না হয়।
কলেজ শিক্ষিকা শিলা তার মনোবেদনার কথা বলছিলেন। ‘রোজ রোজ বেড়াতে যাওয়া নিয়ে আমাদের এত সমস্যা হয় যে এখন আমার বেড়ানোর নাম শুনলে ভয় লাগে। ওর সব সময় অভিযোগ, আমি কখনওই সময়মতো তৈরি থাকতে পারি না। ওর বিকাল পাঁচটা মানে পাঁচটাই। একটু এদিক-ওদিক তো হতেই পারে। কোথাও দাওয়াত খেতে যাচ্ছি, গিয়ে দেখব হয়তো একজনও আসেনি তারপরও ওর সময় মানে ওরই সময়। সময়মতো যাওয়া উচিত, সেটা আমিও চাই। আমার দুই ছেলেমেয়ে একজন ক্লাস ফোরে পরে, আরেকজন প্লে-গ্রুপে। দুপুর দুইটায় খাওয়া হলে ওদের ঘুম পাড়ানো, ঘুম থেকে উঠিয়ে তৈরি করে নিজের তৈরি হওয়া, একটু দেরি তো হবেই। কিন্তু এক মিনিট দেরি হলেই শুরু হবে ওর চিল্লাচিল্লি। আশপাশের বাসার লোকজনও শুনতে পায়, এমন অবস্থা। কখনও রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে যাবে, একাই চললাম বলে। দাওয়াত খেতে গিয়েও একই অবস্থা, সেই রাগ চলতেই থাকে। ফেরার সময়ও সন্তানদের খাইয়ে আমার খাওয়া-দাওয়া শেষ করতে দেরি হয়ে যায়, আর তার ফেরার তাড়াহুড়ো। মাঝেমধ্যে মনে হয়, দাওয়াতে গিয়ে নিজে না খেয়ে সন্তানদের খাইয়েই চলে আসি। শান্তিমতো গল্পও করতে পারি না। এমনভাবে বেড়াতে যেতে ভালো লাগে?’
তার মেয়ে মোনা বলছিল, বাবা-মায়ের এ ধরনের ঝগড়াঝাটির জন্য আমাদের বেড়ানোর সম্পূর্ণ মজাই নষ্ট হয়ে যায়।
শিলা মনে করেন, এ রকম ক্ষেত্রে স্বামীকেও স্ত্রীর সমস্যা বুঝতে হবে। দুজনে মিলেই সন্তানদের বেড়ানোর জন্য প্রস্তুত করতে হবে। পথে খাওয়ার জন্য পানি থেকে শুরু করে সবই ছোট ছেলের জন্য রাখতে হয়, সেসব সঙ্গে নিতে সাহায্য করতে হবে। আমার প্রস্তুত হতে খুব বেশি সময় লাগে না, যা দেরি হয় ওদের জন্যই। কেন আমার দেরি হচ্ছে, সে কারণটা তো বুঝতে হবে। দুজন মিলে কাজ ভাগাভাগি করে নিলে আর দেরি হবে না। তাই এ ধরনের ক্ষেত্রে স্বামীকেও অবস্থা বিচার করে স্ত্রীর সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে এবং স্ত্রীর পক্ষ থেকেও দ্রুত করার চেষ্টা থাকতে হবে।
অনেক সময় দেখা যায়, বেড়াতে গিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে মত-পার্থক্যের কারণে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়, যা সম্পর্কের ভিত্তিকে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
সামিহা সুলতানা অনন্যা
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments