বাংলাদেশের বড় সমস্যা সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতি
লেখক: মার্ক টালি
বাংলাদেশের জন্মের সঙ্গে আমি যেমন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ছিলাম, তেমনি এ দেশের সঙ্গে আমার একটা আত্মার সম্পর্কও রয়েছে। আমার মা এই দেশে জন্মেছিল। তাঁর জন্মস্থান আখাউড়া। আমার নানা ব্যবসায়িক কারণে আখাউড়াতে ছিলেন। আমার জন্ম কলকাতায়। ১০ বছর পর্যন্ত ভারতে ছিলাম। আবার ৩০ বছর বয়সে চাকরি নিয়ে এসেছি। জীবনের অনেকটা সময় এ অঞ্চলেই কেটেছে। বলা চলে, এ অঞ্চলটি আমার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় নিরস্ত্র ঘুমন্ত মানুষের ওপর পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর হামলার পর আমি এখানে আসার অনুমতি পাই। সে সময় আমার সঙ্গে ঢাকায় আসেন আরও কয়েকজন বিদেশি সাংবাদিক। এই দলটিই প্রথম ঢাকায় আসে। অবশ্য পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার আগে বিদেশি সাংবাদিকদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
সেই সময় আমাকে বলা হলো, আমি শহরের যেকোনো জায়গায় যেতে পারব। আমি যথারীতি শহরটি দেখার জন্য বের হলাম। ঘুরতে ঘুরতে পুরান ঢাকার শাখারীবাজারে যাওয়ার পর দুই পাঞ্জাবি পুলিশ আমাকে আটক করল। আমাকে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যাওয়া হলো। সেখানকার বাঙালি পুলিশ কর্মকর্তা আমার পরিচয় জানতে চাইলেন। আমি তাঁকে আমার পরিচয় দিলাম। আমার পরিচয়পত্র দেখালাম। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন।
পরে ঢাকা শহরের বাইরের চিত্র দেখার জন্য আরিচা পর্যন্ত গেলাম। সেখানে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে দেখি, রাস্তার দুই দিকের বাড়িগুলোকে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। দৃশ্যটি সত্যিই আমাকে আহত করল। আমি আরও সামনের দিকে এগিয়ে গেলাম। ঘটনা জানার জন্য গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলাম। কিন্তু কথা বলার মতো কাউকে পাওয়া গেল না। এই পরিস্থিতির ওপর একের পর এক প্রতিবেদনবিবিসিতে পাঠালাম এবং তা প্রচার করা হলো। অবশ্য আমাকে কেউ কিছু বলেনি এবং আটক করেনি।
আমি যখন পশ্চিম পাকিস্তানে গেলাম তখন দেখলাম, পাকিস্তানের তৎকালীন প্রশাসন আমার ওপর খুবই চটা। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা আমাকে তিরস্কার করে বলেছিল,বিবিসিমানে 'ভারত ব্রডকাস্টিং করপোরেশন', 'ভুয়া ব্রডকাস্টিং করপোরেশন'। একই সঙ্গে পাকিস্তান প্রশাসনের কেউ আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রাজি হলেন না। তারা আরও বলল,বিবিসিপূর্ব পাকিস্তানিদের আন্দোলনের পক্ষে কাজ করছে। আসলে এই অভিযোগ ঠিক নয়।বিবিসিসত্যের পক্ষে ছিল। পূর্ব পাকিস্তানে তখন যা ঘটেছিল, তা-ই সততার সঙ্গে তুলে ধরা হয়। এতে সংবাদটি হয়তো কারও পক্ষে এবং কারও বিপক্ষে গেছে। আমি এখনো মনে করি না যেবিবিসিকারও পক্ষে কাজ করেছে। আমরা কেবল আমাদের দায়িত্ব পালন করেছিলাম।
স্বাধীনতার ঠিক পরপরই আমি আবার বাংলাদেশে এলাম। শেখ সাহেবের সঙ্গে দেখা করলাম। তিনি আমার প্রতি খুবই সহানুভুতিশীল ছিলেন। তিনি আমাকে শিল্পী (শিল্পাচার্য) জয়নুল আবেদিনের চমৎকার একটি ছবি উপহার দিলেন। সেটি এখনো আমার বাড়ির দেয়ালে শোভা পাচ্ছে।
শেখ মুজিব দেশে ফিরে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশকে ঢেলে সাজানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। দেশের মানুষও বিশাল প্রত্যাশা নিয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিল। কিন্তু কাজটি কোনোভাবেই সহজ ছিল না। পুনর্গঠন করতে গিয়ে তিনি অনেক সমস্যার সম্মুখীন হলেন। আমরা সবাই জানতাম যে সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের উদ্বেগ ছিল মুক্তিযোদ্ধা ও প্রত্যাবাসিতদের সম্পর্ক নিয়ে। অর্থনৈতিক অবস্থাও ভালো ছিল না। মানুষের মধ্যে প্রতিশোধপরায়ণতা প্রকট হয়ে উঠেছিল।
আমি নিজেও তাঁর এই পুনর্গঠন কাজে রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে সহায়তা করেছিলাম। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য একের পর এক প্রতিবেদনবিবিসিতে পাঠিয়েছিলাম।
শেখ মুজিব এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছিলেন। তাঁর মতো নেতার বড় অভাব। তিনি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন ও জানতেন। আমাকে ঠিক বন্ধুর মতো মনে করতেন তিনি। সেই মানুষটি নিহত হওয়ায় আমি সত্যিই মর্মাহত ও ব্যথিত হয়েছিলাম। ওই ঘটনার পর আমি
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments