জেনী

অনুবাদ: মণীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়

ঘোড়ায়টানা গাড়ীর জায়গায় যখন লোহার ঘোড়া অর্থাৎ রেল গাড়ীর পত্তন হো'ল তখন দক্ষিণ রাশিয়ার ইয়ানা জেলার বড় সহরটার সম্প্রতলীর যে জায়গাটায় কোচোয়ানদের বাসস্থান ছিল সেই জায়গায় গড়ে উঠল এক বেশ্যাপল্লী। আগে যেখানে পুরোণ বাড়ীগুলোতে গোলাপ রাঙা গাল আর ঠেলে ওঠা বুক নিয়ে কোচোয়ানদের বিধবারা ভদকা আর বিনি পয়সায় প্রেম বিক্রি এগত, সেই খানেই রাস্তার দুপাশে নিখনার বাড়ীগুলো দাঁড়ালো মাথা তুলে। ইয়ামার ঐ পল্লীর ত্রিশটা বাড়ীর জীবনযাত্রা ছিল একই ধরণের। সবগুলোই ছিল সরকারী তত্ত্বাবধানে। একমাত্র পার্থক্য যা চোখে পড়ত তা হচ্ছে তাৎক্ষণিক নিবিড় অনুরাগ আর ভালোবাসার মূল্যের পার্থক্য।

বড় ইয়ামা স্ট্রীটের বাঁদিকের প্রথম বাড়ীটা অর্থাৎ ট্রেপেলের বাড়ীটাই ছিল সবচেয়ে জমকালো। ট্রেপেলের গর্ব ছিল যে তার বাড়ীর সিড়ি ছিল কার্পেটে ঢাকা, আর প্রবেশ পথের সামনের হলটায় ছিল প্রসারিত থাবায় থালাধরা একটা মৃত ভল্লুক। শোবার ঘরগুলোয় ছিল গোলাপী কাঁচ দেওয়া লণ্ঠন, বিছানার চাদরগুলো সিল্কের আর বালিশগুলো পরিচ্ছন্ন। ট্রেপেলের মেয়েরা ছোট ছাঁটের ফার লাগানো সান্ধ্য গাউন পরড, আবার কখনও পুরুষের পোষাক, যেমন সৈনিক, বড়লোকের ভূত্য অথবা নাবিকের পোষাক পরেও থাকত। বেশীর ভাগ নেয়েই ছিল বাল্টিক রাজ্যগুলির জার্মান মেয়ে, দীর্ঘকারা, সুন্দরী। দুধের মতো পবধবে ছিল ওদের গাঁয়ের রং, আর বুকের গঠনও ছিল নিখুঁত। ট্রেপেলের মেলেদের বাঁধা-ধরা দর ছিল একবার যৌন ক্ষুধা মিটিয়ে যাবার জন্য। তিন রুবল, আর সারা রাতের জন্য দশ রুবল।

ট্রেপেল দাড়াও আরও তিনজনের বাড়ী ছিল ওখানে। সেগুলোতে তিন রুবলের জারশায় দু'রুবল করে নেওয়া হত। সোফিয়া ভ্যাসিলিয়েড়নার বাড়…বুড়ো কিয়েডের বাড়ী আর আন্না মারকোড়নার বাড়ী, এগুলোও অভিজাত তবে ঠাট্ ঠনক কম। বড় ইয়ামাস্ট্রীটের অন্যান্য বাড়ীগুলোতে মাত্র এক রুবলের বিনিময়েই সব পাওয়া যেত, কিন্তু কোনোরকম আভিজাত্য ছিল না সে সব বাড়ীতে। ছোট ইয়ামাস্ট্রীটের বাড়ীগুলিতে যাতায়াত ছিল সৈনিক আর নিম্নশ্রেণীর লোকেদের। সেখানকার দর ছিল মাত্র পঞ্চাশ কোপেক। এসব জায়গায় শোনার ২এগুলো ছিল কাঠের পার্টিশন দেওয়া ছোট ছোট সুপরির মতো। পার্টিশনগুলো আবার ছাদ পর্যন্ত নয়। ঘরের উচ্চতার মাত্র অর্ধেকটা ঢাকা পড়ত তাতে। মদ আর মানুষের পরিত্যক্ত আবর্জনায় স্থানটা ছিল দুর্গন্ধময়, আর তখনকার মেয়েরা সাধারণ সুতির পোষাক পরে থাকত। তাদের মধ্যে কোমলতা আর সৌন্দর্য্যের আভাষ খুঁজে পাওয়া যেত না, আর বিগত রাতের আপাতের চিহ্নও তারা ঢেকে রাখার কোন চেষ্টা করত না।

রাত্তি নামার সঙ্গে সঙ্গে পতিতালয়গুলির বাঁকানো প্রবেশপথে লাল আলোগুলো জ্বালিয়ে দেওয়া হ'ত। তারপর রাস্তাগুলোয় নেমে আসত ছুটির দিনের আবহাওয়া। জানালার খড়খড়িগুলোর ফাঁক দিয়ে ভেসে আসত টুকরো টুকরো গানের কলি। সারারাত ধরে গাড়ীর ঘড়ঘড়ানির শব্দ শোনা যেত। ভোর পর্যন্ত শ'য়ে শ'য়ে, না, হাজারে হাজারে লোক আসা যাওয়া করত। এখানে সকলেই আসত, বিগত যৌবন বৃদ্ধ তার শেষ উত্তেজনার আগুন প্রশমিত করার জন্যে, স্কুল কলেজের ছাত্রেরা, সমাজের অন্তস্বরূপ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা, চোর, গোয়েন্দা, এমনকি স্ত্রীজাতির সমানাধিকারের জন্যে ওকালতি, করেন যেসব খ্যাত অখ্যাত লেখক সাহিত্যিক, তাঁরাও আসতেন। একের পর এক আসতেন তাঁরা, লাজুক আর সাহসী, পীড়িত আর সুস্থ্য, স্ত্রীলোক সম্পর্কে প্রথম যাঁরা জানবেন, আর পুরোন পাপী যারা সবরকম পাপেই অভ্যন্ত, সকলের আগমন ঘটত এ জায়গায়। এদের মধ্যে থাকতেন প্রকৃত সুপুরুষ, আবার প্রকৃতির অভিশাপে কুরূপ ঘৃণ্য ব্যক্তি, বোবা, অন্ধ, নাসিকাহীন, অত্যধিক মেদবিশিষ্ট, স্নায়বিক রোগগ্রস্ত অথবা উকুনে ছাওয়া সারাদেহ এমন অপরিচ্ছন্ন লোকেরও সমাগম হ'ত এইসব বেশ্যালয়ে। এক্স আসত লজ্জাকে দূরে সরিয়ে রেখে, যেন কোন রেস্তোঁরায় খেতে এসেছে। তারা বসত, মদ খেত, হাসত, আর ভান করত যেন যথেষ্ট আনন্দ লাভ করছে। কখনও আড়ম্বর সহকারে কখনও অশোভনীয় তৎপরতায় তারা পছন্দ করে নিত এক

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice